আজ রবিবার 8:43 pm05 July 2020    ২১ আষাঢ় ১৪২৭    14 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

সরেজমিন প্রতিবেদন

হিজড়াদের পেছনে এনজিও সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৩:৪৯ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ শুক্রবার

হিজড়াদের পেছনে এনজিও সিন্ডিকেট

হিজড়াদের পেছনে এনজিও সিন্ডিকেট

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এনজিওদের এমন তৎপরতার কারণে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে হিজড়ারা। এতে এনজিও প্রতিষ্ঠান লাভবান হলেও বিপদে পড়তে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। ময়মনসিংহ জেলার একাধিক ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিডি আমিনুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, হিজড়াদের রেজিস্ট্রেশনকৃত দুটি সংগঠন রয়েছে। তারা ওই সংগঠনের ব্যানারে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তাদের মনিটরিং করার সুযোগ না থাকার কারণে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া হিজড়াদের নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি এনজিও তাদের অপরাধমূলক কর্মকা- চালাতে সহায়তা করছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
তিনি বলেন, হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। নেত্রকোনায় এই প্রকল্প চালু হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলায় প্রকৃত হিজড়াদের পরিসংখ্যান নেই। এই তালিকা হালনাগাদ করার পর জেলার হিজড়াদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি হিজড়াবেশে যারা ঘোরাফেরা করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলায় একাধিক এনজিও সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের সদস্যরা হিজড়াদের যৌন সচেতনতা নিয়ে কাজ করে। যৌনকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের উপকরণ সরবরাহসহ হিজড়াদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাউন্সিলিংয়ের আয়োজন করে থাকে। জেলার হিজড়াদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে এনজিওর লোকজন তাদের সংগঠনে হিজড়াদের ভেড়াতে এক ধরনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এই সুযোগে হিজড়ারা নানা ধরনের অপকর্ম করে পার পেতে এনজিও সদস্যদের সহযোগিতা নেয়। অভিযোগ রয়েছে অন্তত তিনটি এনজিও হিজড়াদের চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের কাজে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মকা-ের নামে হিজড়াদের নগদ সহায়তা করে থাকে। এনজিও মাঠকর্মীরা সব সময় হিজড়াদের আশপাশেই ঘোরাফেরা করেন। কোনো কারণে হিজড়ারা ঝামেলায় পড়লে দ্রুত তারা এগিয়ে গিয়ে তাদের পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিবাদে জড়ান।
বেসরকারি এনজিও বন্ধু ওয়েলফেয়ার সোসাইটির জেলা ম্যানেজার খোকন শাহা যায়যায়দিনকে বলেন, তার এনজিও প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত প্রকৃত হিজড়ার সদস্য সংখ্যা ৫৬ জন। এছাড়া এমএসএম (ম্যান হু হ্যাভ সেক্স উইথ ম্যান) এর সংখ্যা ৮শ জন। এদের মধ্যে সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত রয়েছে। এদের সবার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। এছাড়া তাদের আলাদা সেক্স পার্টনারও (এমএসএম) রয়েছে। এ কারণে তাদের যৌন সচেতনতা করতে তাদের এনজিও থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি এমএসএম-এর সদস্যদের অনেকে হিজড়া খাতায় নাম লেখাচ্ছে। তারা সবাই নিম্নবিত্ত। তাদের হিজড়া ব্যানারে যেতে সহায়তা করছে কিছু এনজিও ও হিজড়াদের সংগঠন। এসব সদস্য হিজড়া বেশে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করছে। এতে নিজে ও হিজড়াদের সংগঠন লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি এনজিও এর লোকজন নিজেদের প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে হিজড়া নেতাদের নগদ অর্থ সহায়তা করে থাকে। কারণ হিজড়াদের পেছনে ব্যয় করার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে সহায়তা করা হয়। হিজড়ারা তার সংগঠনের পেছনে না থাকলে ওই এনজিও হয়ত আলোর মুখ দেখবে না। এতে লোকসানের মুখে পড়তে হবে এনজিও প্রতিষ্ঠানের। তবে নিজ সংগঠনের ব্যানারে কোনো হিজড়া চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত নেই বলে দাবি করেন খোন শাহা।
ময়মনসিংহ জেলায় এনজিও নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় প্রকৃত হিজড়ার সংখ্যা দেড় শতাধিক হবে। তবে বাস্তবে দেখা যায় এর সংখ্যা ৫ শতাধিক। বাড়তি এই অংশের বেশিরভাগই পুরুষ সদস্য। এছাড়া এমএসএম এর লোকজনও রয়েছে। এমএসএম এর সদস্যদের চলাফেরা মেয়েলি স্বভাবের হলেও তারা প্রকৃত পুরুষ। কিন্তু নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এনজিও সদস্যরা তাদের হিজড়া খাতায় নাম লেখাতে উৎসাহ দিচ্ছে। এজন্য তাদের নানাভাবে সহায়তা করা হয়। মাসিক ও সাপ্তাহিক অর্থও দেয়া হয়। এতে প্রকৃত হিজড়াদের স্থান দখল করেছে পুরুষ ও এমএসএম এর সদস্যরা। এর ফলে জেলায় হিজড়াদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। হিজড়াবেশে থাকা এই সদস্যরা রেল ও বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে আসছে। তাদের সহায়তা করছে প্রকৃত হিজড়াদের একটি বৃহৎ অংশ।
জেলার সরকারি আল নোমান কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, জেলার কিছু এনজিও রয়েছে যারা হিজড়াদের বেপরোয়াভাবে চলতে সহায়তা করে। সেতু নামে একটি এনজিও এক্ষেত্রে হিজড়াদের বেশি সহায়তা করে থাকে। এছাড়া আরো কয়েকটি এনজিও রয়েছে যারা এ বিষয়ে হিজড়াদের সহায়তা করে থাকে। হিজড়াদের কারণে কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় সমস্যার কারণেই এনজিওর সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। তারা আগের অবস্থান থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি।
তিনি বলেন, এনজিও কার্যক্রম টেকাতে তারা পুরুষ বেশে থাকা হিজড়াদের সহায়তা নিয়ে থাকে। ওই পুরুষ হিজড়াদের তারা নানাভাবে অর্থ দিয়ে থাকে। এ কারণে হিজড়াদের চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।
ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিডি আমিনুল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন, এনজিওর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। তারা তাদের কার্যক্রম টেকাতে সব ধরনের কাজ করতে পারে। তবে জনকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এমন কোনো কিছুর পেছনে এনজিওর লোকজনের ইন্ধন পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করা হবে। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।