আজ সোমবার 9:50 am13 July 2020    ২৮ আষাঢ় ১৪২৭    22 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুদের সাক্ষাৎকার কেন?

ডেস্ক রিপোর্ট

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০২:০৩ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধবার | আপডেট: ০৩:০১ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০১৬ বুধবার

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুদের সাক্ষাৎকার কেন?

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুদের সাক্ষাৎকার কেন?

আর এই হামলার বিষয়ে প্রথম শ্রেণী পড়ুয়া শিশু সন্তানটি গণমাধ্যকর্মীদের সেই ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন। যেটি দেশের টিভি চ্যানেল ও অনলাইন নিউজপোর্টালেও প্রকাশ হয়েছে।

আবারো প্রশ্ন উঠেছে সাংবাদিকদের এ ধরনের শিশুর বক্তব্য নেয়াটা কতটা যথার্থ?

শিশুর কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা নেয়ার বিষয়টি সাংবাদিক মহলেও একধরনের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন বাংলাদেশের এর আগেও এমন ঘটনা দেখা গেছে।

“এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের সাংবাদিকতার এতদিন পরও এত ম্যাচিউরিটির অভাব আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরেন রুনি হত্যাকাণ্ডের পর তাদের পাঁচ বছরের সন্তানের ইন্টারভিউ করেছিল আমাদের তারকা সাংবাদিক।

আমরা তখন বলেছিলাম যে এটা একটা শিশু যখন ট্রমার মধ্যে থাকে যে কিভাবে সেই শিশুর লাইভ ইন্টারভিউ করা টেলিভিশনে কিংবা তাকে প্রশ্ন করা হয়?"

"এই একই ঘটনা ঘটলো চট্টগ্রামের পুলিশ অফিসারের স্ত্রী হত্যার পর । সে মাকে খুন হতে দেখলো শিশুটি আর সেই বর্ণনাই শিশুর কাছ থেকে শুনছে সাংবাদিকরা।

একবার নয় বারবার তাকে জিজ্ঞেস করছে, শিশুটি বারবার সেই বিষয়ে উত্তরও দিচ্ছে। আমাদের এখানে যে সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান যে দাঁড়ায়নি তার বড় প্রমাণ হলো এই ঘটনাটা”-বলছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।
 
আর “এই খবরকে কেন্দ্র করে ওই শিশুর সাক্ষাৎকার প্রচার করাটা সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না” বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

জাহাঙ্গীর বলেন “এ বিষয়ে অনেক বলা হলেও আমরা খেয়াল করেছি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল তাদের পেশাগত প্রতিযোগিতার কারণে লোভ সংবরণ করতে পারে না এ ধরনের সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্যে”।

তাহলে কি কে কার আগে খবর দেবে এই প্রতিযোগিতাই প্রধান?

জাহাঙ্গীর বলছেন “সেইসব মিডিয়ার কাছে প্রধান। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না যে তাদের দুর্বলতা প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। তারা যে সঠিক সাংবাদিকতা করতে জানে না মানুষ সেটা বুঝে যাচ্ছে”।

কিন্তু এমন বিষয়ে প্রতিযোগিতা মনে করেন না বিশ্লেষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

“সাংবাদিকরা যদি এসপির স্ত্রীর হত্যাকারী দুর্বৃত্তদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারতো, তাদের ব্যাপারে যদি ব্রেকিং নিউজ দিতে পারতো তাহলে সেটাকে আমি সাংবাদিকতার সত্যিকারের প্রতিযোগিতা বলতাম। যে ছেলে মায়ের হত্যা নিজের চোখে দেখেছে তার সাথে কথা বলা কোনোভাবেই প্রতিযোগিতা হতে পারে না”-বলেন  জাহাঙ্গীর।

গণমাধ্যম বিশ্লেষক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলছেন এসব ঘটনা দেখলে মনে হয় অনেক সাংবাদিকদের গুণগত প্রশিক্ষণের যথেষ্ট অভাব আছে।

জাহাঙ্গীর বলছেন "আমি সবসময় বলি সব টিভি চ্যানেল মিলে একটা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করে সেখান থেকে অন্তত ছয় মাস একটা প্রশিক্ষণ করে তারপর টিভি বা অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে কাজে আনা উচিত। প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে আনা ঠিক নয়। কিন্তু আমার জানামতে বাংলাদেশে কোনোরকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনেকে টিভিতে বা খবরের কাগজের বড় বড় পদে অবস্থান করছেন"। -বিবিসি।

বিনোদন-এর সর্বশেষ খবর