আজ বৃহস্পতিবার 6:48 am06 August 2020    ২১ শ্রাবণ ১৪২৭    16 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

শেখ হাসিনার সাহসী সঙ্গী ওবায়দুল কাদের

সালমান ফিদা, সিনিয়র প্রতিবেদক, ঢাকা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৭:৩৭ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

শেখ হাসিনার সাহসী সঙ্গী ওবায়দুল কাদের

শেখ হাসিনার সাহসী সঙ্গী ওবায়দুল কাদের

কাউন্সিলের কয়েকদিন আগে থেকে যে গুঞ্জন চলছিল, তা সত‌্যি করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন ওবায়দুল কাদের। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

সিকি শতক পর বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার যে স্বপ্ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখছেন, সেই লক্ষ‌্য পূরণে এবার তাঁর সঙ্গী হলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অাজ রবিবার (২৩ অক্টোবর ২০১৬) ক্ষমতাসীন দলটির কাউন্সিল অধিবেশনের শেষ পর্বে শেখ হাসিনা সভাপতি পদে ফের নির্বাচিত হন। এরপর সাধারণ সম্পাদক পদেও নির্বাচন হয়।

দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পদে অন্য কোনো নাম প্রস্তাব না আসায় কাউন্সিলের জন‌্য গঠিত আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশনের প্রধান এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন দুজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

রাজধানীর ইনজিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিলের দ্বিতীয় দিনে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এর পরপরই নির্বাচনী অধিবেশন শুরু হয়।

নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়ে এলেও নির্বাচনী অধিবেশনের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুকন‌্যার নামই সভাপতি পদের জন‌্য প্রস্তাব করেন প্রবীণ নেত্রী বিদায়ী সভাপতিমণ্ডলীর সদস‌্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তা সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলির আরেক সদস‌্য ইনজিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন। তা সমর্থন করেন বিদায়ী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এরপর সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা হয়। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থান হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পরিষদে। তিনি এখন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য।

সভাপতিমণ্ডলীতে তাঁর পাশাপাশি নতুন এসেছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, আবদুল মান্নান খান, রমেশ চন্দ্র সেন ও পীযূষ ভট্টাচার্য (যশোর)।

পুরনোদের মধ‌্যে সভাপতিমণ্ডলীতে থাকছেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল‌্যাহ, সাহারা খাতুন, ইনজিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

পুরনো যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছেন আব্দুর রহমান।

কোষাধ‌্যক্ষ পদে এন এইচ আশিকুর রহমানই থাকছেন নতুন কমিটিতে।

২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর দুঃসময়ে দলের হাল ধরতে এগিয়ে আসা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফের ওপর ভরসা রেখে তাঁকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে এনেছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁকে দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

দলের নেতা-কর্মীরা আশরাফকে সহজে পান না বলে অভিযোগের মধ‌্যেও হেফাজত ও বিএনপির আন্দোলন পেরিয়ে নির্বাচন করার দক্ষতায় তাঁর ওপর ভরসা রেখে যান বঙ্গবন্ধুকন‌্যা শেখ হাসিনা।

গত বছর আকস্মিকভাবে আশরাফকে মন্ত্রিসভায় দফতরছাড়া করার পর সেই ভরসায় চিড় ধরার ইঙ্গিত মিললেও সপ্তাহের ব‌্যবধানে ফের তাঁকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এবার কাউন্সিলের কয়েকদিন আগে থেকে গুঞ্জন ছড়ায়, সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে। সভাপতিমণ্ডলীর সদস‌্য ওবায়দুল কাদের তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বলেন, নেত্রী তাঁকে ‘তৈরি’ থাকতে বলেছেন।    

নেতৃত্বে কী হবে, সে বিষয়ে মুখ খুলছিলেন না কেউই। এর মধ‌্যেই আশরাফ বলেন, নেতৃত্বে কে আসবে, তা শুধু শেখ হাসিনা ও তিনিই জানেন।

এই বক্তব‌্যের মধ‌্য দিয়ে দৃশ‌্যত দলে শেখ হাসিনার কাছে নিজের গুরুত্ব তুলে ধরেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ।

কাউন্সিলে তিনিই নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেন। এজন‌্য কাউন্সিলে আশরাফকে ধন‌্যবাদও জানান শেখ হাসিনা।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে ছুটোছুটি করে আলোচিত ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পাওয়ায় দল আরও শক্তিশালী হবে বলেও মনে করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

৬৪ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করেন। এরপরই জড়িয়ে ধরেন সৈয়দ আশরাফকে। আশরাফের সঙ্গে আলিঙ্গন শেষ করে কাদের সাহারা খাতুনেরও পা ছুঁয়ে সালাম করেন।

পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত‌্যাকাণ্ডের পর বিরূপ সময়ে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী ওবায়দুল কাদের ডাকসুতে সংগঠনের হয়ে ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার বাণীতে কাজ করতেন।

গত কাউন্সিলে সভাপতিমণ্ডলীতে আসার আগে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদেও ছিলেন। ২০০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেফতার থাকাকালে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে সমালোচিত হন ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনস্থল থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সৈয়দ আশরাফকে জড়িয়ে ধরেন শেখ হাসিনা। আশারাফও এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন।

শেখ হাসিনা এর আগে কাউন্সিলে বলেন, “আশরাফকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, ও আমার ছোট ভাইয়ের মতো। শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে সে সংগঠন ও দেশকে ভালবেসেছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করেছে। ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।”

এবার কাউন্সিলের কিছু দিন আগে থেকে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে আসছিলেন ৭০ বছরে পা দেওয়া শেখ হাসিনা। কাউন্সিলেও কয়েকবারই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার কথা বলেছিলেন ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিয়ে আসা বঙ্গবন্ধুকন‌্যা।

যতবারই তিনি একথা বলেছেন, ততবারই কাউন্সিলর ও নেতারা ‘না না’ বলে সরব হয়েছিলেন।

২০তম কাউন্সিলে ফের সভাপতি নির্বাচিত নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা আবারও পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করার তাগিদ দেন নেতাদের। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও সংগঠনের দায়িত্ব পালন যে কঠিন, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

“যে গুরু দায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন, তা বহন করব। ৩৫ বছর একটা দলের সভাপতি, একটা সময় আমাকে বিদায় নিতে হবে।”

এবার প্রথম আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়া সজীব ওয়াজেদ জয়কে নেতৃত্বে চেয়ে দাবি তুলেছিলেন তৃণমূল নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকাপ্রবাসী একমাত্র এই ছেলে তা নাকচ করে বলেন, বিদেশে থেকে দলীয় পদ রাখতে চান না তিনি।


রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর