আজ বৃহস্পতিবার 6:33 am06 August 2020    ২১ শ্রাবণ ১৪২৭    16 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

অষ্টম মুসলিম হিসেবে

শান্তিতে নোবেল পেলেন আবি আহমেদ

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:৫৭ এএম, ১২ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার | আপডেট: ০২:৫৯ এএম, ১২ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী

চলতি বছর শান্তিতে নোবেল জয় করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। আজ বিকাল তিনটা এ ঘোষণা দেয় নোবেল কর্তৃপক্ষ। শান্তিতে নোবেলজয়ী অষ্টম মুসলিম তিনি। তার আগে সাতজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী শান্তিতে নোবেল জিতেছিলেন।

 

চলতি বছর শান্তিতে নোবেলের জন্য বেশ জোরেশোরেই উচ্চারণ হয় আবি আহমেদের নাম। সম্প্রতি তার প্রচেষ্টাতেই ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার পুরনো বৈরিতার অবসান ঘটেছে। দুটি দেশ ও জাতিকে এক সুতোয় গাঁথার জন্যই তিনি নোবেল জয় করলেন। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া সীমান্ত যুদ্ধে দু’দেশের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ নিহত হন। ২০০০ সালে শান্তিচুক্তি হলেও উত্তেজনা বহাল ছিল।

 

আবি আহমেদের পরিচয়

 

গত বছরের ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আফ্রিকা মহাদেশের সর্বকনিষ্ঠ এ সরকারপ্রধান খুব দ্রুততার সঙ্গে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যেগুলো দেশে-বিদেশে ইথিওপীয়দের মনে আশা সঞ্চার করেছে। ক্ষমতায় এসেই তিনি হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিয়েছেন, সেন্সরশিপের নামে বন্ধ থাকা শত শত ওয়েবসাইট চালু করেছেন, ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টেনেছেন, রাষ্ট্রের জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছেন।

 

রাজধানী আদ্দিস আবাবার চিত্রটাই যেন পাল্টে গেছে। আগের সরকারের চাপে পিষ্ট থাকা মানুষগুলো এখন যেন একটু বুক উঁচিয়ে হাঁটতে পারছে, মন খুলে হাসার একটা উপলক্ষ এখন তাদের সামনে আছে, কয়েক দশক ধরে যেটি তাদের জীবনে ছিল না।

 

ইথিওপিয়ায় ৯০টিরও বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আছে। সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত। দশকের পর দশক দেশটির রাজনীতি যে ঘূর্ণাবর্তে ছিল, তাতে এ বিভেদ আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম ‘ওরোমো’। দেশের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ মানুষই এ সম্প্রদায়ের। প্রধানমন্ত্রী আবিও এ সম্প্রদায়ের। ইথিওপিয়ার অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, ওরোমো থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী না হলে গৃহযুদ্ধ নিশ্চিত। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখন শান্তির বার্তা ইথিওপিয়ার সর্বত্র।

 

আবি বিস্ময়করভাবে সব নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে সমান জনপ্রিয়। তার নিজের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ও এর পেছনে অনেকাংশে দায়ী। তার বাবা ছিলেন ওরোমো মুসলমান এবং মা ছিলেন খ্রিস্টান। তিনি ওরোমো, আমরাহা, টাইগারি ও ইংরেজি ভাষায় সমান পারদর্শী। মিনেসোটার ওই জনসভার ভাষণে তিনি ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় তিনটি ভাষাই ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সোমালিয়ার মানুষদের সম্মানে তিনি সোমালি ভাষায়ও কথা বলেছিলেন।

বিদেশ-এর সর্বশেষ খবর