আজ বৃহস্পতিবার 6:49 am06 August 2020    ২১ শ্রাবণ ১৪২৭    16 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

ইসলামিক ইউনিয়নের বিবৃতি, কর্মসূচি ঘোষণা

মোদি-অমিতের শয়তানি চক্রান্তের নগ্ন প্রকাশ ঘটেছে কাশ্মীরে

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০২:০৬ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:০৬ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়নের চেয়ারপারসন শায়খুত তাফসির আল্লামা হাসানুল কাদির

বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়নের চেয়ারপারসন শায়খুত তাফসির আল্লামা হাসানুল কাদির

মুসলিমপ্রধান কাশ্মীরে ইনডিয়ান জুলুম ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মজলুম কাশ্মীরিদের সঙ্গে বিশ্ব মুসলিমকে জেগে ওঠার ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়নের চেয়ারপারসন শায়খুত তাফসির আল্লামা হাসানুল কাদির। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট ২০১৯) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নরেন্দ্র দামদর মোদির হিন্দু সাম্প্রদায়িক বিজেপি সরকার তাদের সংসদে যে বিল পাস করিয়েছে, তাতে কাশ্মীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দশা এখন ফিলিস্তিন কিংবা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের মতো হতে পারে। এ অবস্থায় মোদির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুসলমানদেরও ইনডিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নিতে হবে। ইনডিয়ান সকল পণ্য বর্জন করতে হবে।

 

 


সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব করেন। সংসদের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন। রাষ্ট্রপতির সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হলো। সেই সঙ্গে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদাও হারাল কাশ্মীর।

 


আল্লামা হাসানুল কাদির বলেন, ইনডিয়ার মুসলিমপ্রধান রাজ্য কাশ্মীরের `ডেমোগ্রাফি` বা জনসংখ্যাগত চরিত্র বদলে দেয়াই সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পেছনে হিন্দু মৌলবাদী বিজেপি সরকারের আসল উদ্দেশ্য। স্বাধীনতার সাত দশক পর বিজেপি সরকার অবশেষে তাদের এই বহু পুরনো রাজনৈতিক এজেন্ডাটি বাস্তবায়ন করল।

 

তিনি বলেন, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিকভাবে কাশ্মীরের যে অনন্য চরিত্র, কলমের এক খোঁচায় বিজেপি সেটিই বরবাদ করে দিতে চাইছে। মনে রাখতে হবে- সীমান্তবর্তী রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর এমন একটি প্রদেশ, যার সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি সবই বাকি দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এই রাজ্যের লাদাখে বৌদ্ধ ও মুসলিমরা থাকেন, কাশ্মীরে থাকেন মুসলিম পণ্ডিত ও শিখরা। জম্মুতে জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ হিন্দু, বাকি ৪০ শতাংশ মুসলিম। এমন একটি রাজ্যকে যদি কেউ এক সূত্রে বেঁধে রাখতে পারে, সেটি ছিল সংবিধানের ৩৭০ ধারা। এ ধারায় রাজ্যের সব ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতির মানুষের জন্যই বিশেষ ব্যবস্থা ছিল, যা আজ বিজেপি শেষ করে দিল।

 

ইসলামিক ইউনিয়নের চেয়ারপারসন বলেন, প্রথমত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল কাশ্মীরের জন্য যে `ডোভাল ডকট্রিন` ফর্মুলেট করেছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাই ছিল ভারতের অন্য অংশ থেকে লোকজনকে কাশ্মীরে এনে বসত করানো। কাশ্মীরে হিন্দু পণ্ডিতদের জন্য আলাদা কলোনি স্থাপন, কাশ্মীরে শিল্পাঞ্চলের জন্য বাকি ভারত থেকে শিল্প শ্রমিকদের এনে বসতি গড়া কিংবা ভারতীয় সাবেক সেনা সদস্যদের এনে কাশ্মীরে জমি দেয়ার কথা আগে থেকেই বলা হচ্ছিল।

 

কাশ্মীরে ইনডিয়ান আগ্রাসনের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়ন বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির শান্তিকামী মানুষকে শরিক হতে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়ন।

রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর