আজ রবিবার 7:21 pm05 July 2020    ২১ আষাঢ় ১৪২৭    14 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ‘খুবই ভারসাম্যহীন’

আনিকা ফারজানা, সিনিয়র প্রতিবেদক

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৪:১১ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১২:১২ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ‘খুবই ভারসাম্যহীন’

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ‘খুবই ভারসাম্যহীন’

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। চীন থেকে গত অর্থবছরে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি করতে পেরেছে মাত্র ৮শ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। চীন বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে থাকে। এক্ষেত্রে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য রপ্তানির বড় বাজার হতে পারে চীন। বছরে প্রায় ২ টৃলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করে চীন।

জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ও আমদানির উৎসে পরিণত হয়েছে। এরপরও এখনো এ বাণিজ্য খুবই ভারসাম্যহীন। হিসাব অনুযায়ী ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি ৫০০ মিলিয়ন ডলারের কম।


বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “সাধারণত ইনডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। এটা ঠিক, চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক। অথচ তারা প্রচুর আমদানি করে থাকে। আমরা তাদের বাজারে সুযোগ থাকার পরও পারছি না।”

তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে চীনের বাজারে বাংলদেশের রপ্তানি ২০০ কোটি ডলার ছাড়াবে।”

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ছে। ২০০৯ সালে ২১ দশমিক ২৪ মিলিয়ন থেকে ২০১২ সালে ১৮১ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ বেড়েছে। ২০১৫ সালে চীনের ৪৯টি কম্পানি বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে ৩১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, “চীনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেয়া হয়েছে। আশা করি, সেখানে তাদের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশ আরও বেশি লাভবান হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ-চীন-ইনডিয়া-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরের (বিসিআইএম-ইসি) ব্যাপারে চীনের সক্রিয় ভূমিকা অনেক। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ঘাটতি কিছুটা কমবে।


বড় বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেও চীন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চেয়ে আসছে। এর প্রভাব নিয়ে ভাবছে বাংলাদেশ। বেইজিং প্রস্তাবটির দ্রুত বাস্তবায়ন চাইলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার আগে এর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে চীনের পণ্য বাংলাদেশে ঢুকলেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে এর পরিমাণ বাড়বে কি না বা কী ধরনের পণ্য বাংলাদেশে আসবে সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনকারীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে চিন্তাকেও প্রাধান্য দিতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. সাদিক আহমেদ বলেন, “চীন বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ দিলেও তা খুব বেশি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য বহুমুখী নয়। বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উচিত হবে, এমন ধরনের পণ্য উৎপাদন করা, যাতে চীনের মতো একটি বড় বাজার ধরা যায়।”


চীনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বিশ্বের মোট অর্থনীতির প্রায় ১৬ শতাংশ।

চীনের বাজারে বাংলাদেশের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, কাঠ ও কাঠ থেকে উৎপাদিত পণ্য চীনের বাজারে রপ্তানি করতে পারে।

সরকার ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফরে বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা অনেকটাই কমবে।