আজ সোমবার 12:24 pm13 July 2020    ২৯ আষাঢ় ১৪২৭    22 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

অাশুরার এই দিনে

প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও খালেদা কী বললেন

ধর্ম প্রতিবেদক, ঢাকা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৩:৩৮ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৬ বুধবার

প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও খালেদা কী বললেন

প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও খালেদা কী বললেন

আজ বুধবার (১২ অক্টোবর) পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলমানদের কাছে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ দিন হিসেবে এটি পালন করা হয়। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে বলেছেন, কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে, প্রেরণা যোগায় সত্য ও সুন্দরের পথে চলার।

পবিত্র আশুরার এ শিক্ষা আমাদের সকলের জীবনে প্রতিফলিত হোক-তিনি এ প্রত্যাশাও করেন। তিনি বলেন, পবিত্র আশুরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় ও শোকের দিন।

বলেন, সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহচরবৃন্দ এ দিনে বিশ্বাসঘাতক ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালায় শহীদ হন।

তিনি বলেন, ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তাঁদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ বা বিভেদের কোন স্থান নেই। পবিত্র আশুরার এই দিনে তিনি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ঐক্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহ্য। তিনি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সকলের প্রতি আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ আহবান জানান। পবিত্র আশুরা মানব ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারবর্গ কারবালা প্রান্তরে শাহাদতবরণ করেন।

দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


ইমাম হোসাইনের আত্মত্যাগ মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, “১০ মহররম সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যময় দিন। পবিত্র আশুরার এ দিনে ঘটেছিল এক শোকাবহ ঘটনা। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এ দিনে শাহাদতবরণ করেছিলেন। কারবালা প্রান্তরের সেই হৃদয় বিদারক ঘটনা আজও মানুষকে কাঁদায় এবং বেদনার্ত করে। সত্য ও ন্যায়ের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।”

খালেদা বলেন, “অন্যায়, অবিচার, অন্যায্য ও অবৈধ অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। ইসলাম আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। মহানবী (সা.) অন্যায়কে প্রতিহত করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তার উম্মত হিসেবে আমাদের কর্তব্য, যেকোনো গণবিরোধী ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কৃত অনাচার ও অবৈধ ক্ষমতার দাপটে মানুষকে দমিয়ে রাখার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।”

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আমি শহীদ হজরত ইমাম হোসাইন (রা.), তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গ এবং কারবালার সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি।”

প্রশ্ন হলো, এসব চমৎকার বাণী ও বক্তব্য কি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা? এগুলো কি সাধারণ মানুষকেই অনুকরণের জন্য? বাণীদাতা সুমহান ব্যক্তিরা কি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসব বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন? আমরা শুধুই প্রশ্ন করলাম। জবাব জানতে চাই না।

 

http:/www.aljazeerabangla.com/হাকা

 

ধর্ম-এর সর্বশেষ খবর