আজ সোমবার 11:00 am13 July 2020    ২৮ আষাঢ় ১৪২৭    22 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

মামুন বিশ্বাস

পাখিদের ঘর কারিগর

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ১০:১৯ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:২৪ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

পাখিদের ঘর কারিগর

পাখিদের ঘর কারিগর

আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন, বাসযোগ্য বৃক্ষ নিধন, খাদ্য সংকট, জমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কিটনাশক ব্যবহার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পাখি নিধনকারীদের কারণে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের বাহক নানা প্রকার পাখি। পাখিদের জন্য অনকুল পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নানা প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে পাখি প্রেমিকরা।

এরই একটি ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালী গ্রামে।

পাখি প্রেমিক মামুন বিশ্বাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ গ্রামটিতে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে পাখির অভয়াশ্রম। নিজ অর্থায়নে আরও ৪/৫ পাখি প্রেমিকের সহায়তায় তিনি পাখিদের জন্য ঘর-সংসার গড়ে দিচ্ছেন। গত দেড় বছরে ৮৩৫টি গাছে মাটির কলস বেঁধে দিয়েছেন। দেশীয় পাখিগুলো যাতে ওই কলসতে নিজ নিজ আশ্রয় খুঁজে নেয়। ইতিমধ্যে এ কাজে বেশ সফলতাও অর্জন করেছেন তারা। প্রায় শতাধিক মাটির কলসিতে পাখিরা এসে আশ্রয় নিয়েছে। প্রজনন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

 

mamun biswas

মামুন ও তার বন্ধুদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তাদের এই সাফল্যে গ্রামবাসীসহ আশপাশের লোকজন মুগ্ধ। উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার ধারে, পুকুরের পাড়ে, জমির পাশে, বিভিন্ন বাসা বাড়ির গাছের ডালসহ গ্রামটির আনাচে কানাচের বিভিন্ন গাছের মগডালে কলস বেঁধে দেয়া হয়েছে। ফলে এ গ্রামটি এখন পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।

এছাড়াও আশপাশের লিছিমপুর, রায়পাড়া, সিকদার পাড়া, মধ্যপাড়া, সাতবাড়ীয়া, ভেন্নাগাছি, লক্ষীপুরসহ ১০টি গ্রামকেও এর আওতায় এনে গাছে কলস বেঁধে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ গ্রামের যুবক শাহীন আলম জানান, প্রথম দিকে মামুনকে গ্রামবাসী পাগল বললেও এখন সকলেই এ কাজে উৎসাহ দিয়ে নানাভাবে সহযোগিতা করছে।

সুজন ও আজিজুল জানান, মাটির কলসগুলোতে শালিক পাখি বাসা বেঁধেছে, বেশ কয়টিতে বাচ্চাও ফুটে বের হয়েছে। তবে অন্য প্রজাতির পাখিদের মধ্যে দোয়েল পাখি ওই কলসিগুলোতে যাতায়াত করলেও স্থায়ীভাবে বাস করছে না।

একই গ্রামের যুবক কামরুল জানান, প্রথমে মামুন তার নিজ বাড়ির গাছে পাঁচটি কলস বাঁধেন। কিছুদিন যেতেই এসব কলসে আশ্রয় নেয় শালিক পাখি। মামুন অবাক হয়ে দেখতে থাকেন পাখিদের ঘর-সংসার, বংশবৃদ্ধি। নিজেদের সাফল্যে মুগ্ধ হন। এরপর শুরু হয় গ্রামে কলস লাগানোর কাজ।

উদ্যোক্তা মামুন বিশ্বাস জানান, পাখি প্রকৃতির একটি অন্যতম সম্পদ। পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা না গেলে ধীরে ধীরে সব প্রজাতির পাখিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশ থেকে ৪৭ প্রজাতির দেশীয় পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাই ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে গাছে গাছে প্লাস্টিকের বাক্স বেঁধে দেওয়ার মাধ্যমে পাখির অভয়রণ্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেই। তবে প্লাস্টিকের বাক্সে সফলতা না পাওয়ায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে মাটির কলস স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়।

মামুন আরও জানান, পাখি সংরক্ষণ, প্রজনন ও নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে ’দি বার্ড সেফটি হাউজ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শাহজাদপুর উপজেলাজুড়ে পাখির নিরাপদ বাসস্থান গড়ে তুলবেন বলে তিনি জানান।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই জানান, মামুন নিজ উদ্যোগে আগনুকালী গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে পাখির জন্য আবাস্থল তৈরী করছেন। এটি একটি মহতী উদ্যোগ এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আহম্মেদ জানান, পাখির জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টির ব্যক্তিগত এ উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। এ বিষয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য গ্রামেও যাতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সহায়তাও করা হবে।