আজ শনিবার 5:36 pm11 July 2020    ২৭ আষাঢ় ১৪২৭    20 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

চল্লিশে পা রেখে যে কবিতা লিখলেন মুহিব খান

ডেস্ক রিপোর্ট

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:১৮ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার | আপডেট: ১০:৪৪ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

মুহিব খান

মুহিব খান

কবি মুহিব খান। পুরো নাম মুহিববুর রহমান খান। উপনাম তাকরীম খান। তবে ‘জাগ্রত কবি’ নামেই তিনি প্রসিদ্ধ। ১৪ অক্টোবর ১৯৭৯ কিশোরগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি । ষোড়শ শতকে মুসলিম মধ্য এশিয় অঞ্চল থেকে তাঁর পূর্বসূরিরা বাংলাদেশে আগমন করেন। ইসলামী শিক্ষা দাওয়াত ও সংগ্রামের ইতিহাসে সমৃদ্ধ তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য। উপমহাদেশের বরেণ্য আলেমে দ্বীন, দার্শনিক, রাজনীতিক, প্রাজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ. এর কনিষ্ঠ পুত্র তিনি।

 

গত দুই দশকে কবি মুহিব খান সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কবিতা ও গানের মাধ্যমে অর্জন করে নিয়েছেন কোটি মানুষের ভালোবাসা। তার কবিতা ও সংগীত দেশপ্রেম, মানবতাবাদ, বিশ্ব-শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির চেতনায় জাতিকে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি দেশাত্মবোধক ও আদর্শিক গান গেয়েও কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। এ যাবতকালে তাঁর বেশকিছু অডিও ভিডিও এ্যালবাম এবং সাহিত্য ও দর্শনের বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে- লাল সগরের ঢেউ, প্রাণের আওয়াজ, অচিনকাব্য, মুরাকাবা, নতুন ঝড়, সুন্দর গল্প, কবিতা কলাম, শিশুপাঠ, পৃথিবীর পথে, রাষ্ট্রচিন্তা, প্রচ্ছদ প্রসঙ্গ, সরল সংলাপ, মেঘে ঢাকা সুন্নাত ও আল কুরআনের কাব্যানুবাদ অন্যতম এবং প্রকাশিত এলবামের মধ্যে- সীমান্ত খুলে দাও, দিন বদলের দিন এসেছে, ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি, ইয়ে মেরা ওয়াতান, আবার যুদ্ধ হবে, নতুন ইশতেহার আসছে ও দাস্তান-ই মুহাম্মাদ অন্যতম। এছাড়াও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে অনেক প্রবন্ধ ও কলাম এবং তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পেয়েছে বেশকিছু যুগান্তকারী সঙ্গীত।

 

তার রচিত ঐতিহাসিক অনুবাদ সাহিত্য “আল-কোরআনের কাব্যনুবাদ” এবং বিস্ময়কর সিরাত এ্যালবাম ‘দাস্তান-ই-মুহাম্মদ’ বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির অন্যতম সৃষ্টি। তিনি কিশোরগঞ্জ জামিয়া এমদাদিয়া কওমি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স অব ইসলামিক স্টাডিজ) সমাপন করেন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

 

দেহ-যৌবনে পূর্ণতা আজ, মনোযৌবনে দোলা।
চল্লিশ মানে নব-জীবনের তরণীতে পাল তোলা।
চল্লিশ হলো মধ্য সাগরে গম্ভীর স্থবিরতা।
চল্লিশ হলো প্রজ্ঞার আলো, দৃষ্টির গভীরতা।

 

ব্যক্তিত্বের বর্ণছটায় চল্লিশ ওঠে সেজে।
জীবন-মরণ সঙ্গম-সুর চল্লিশে ওঠে বেজে।
চল্লিশ আনে নির্মল প্রাণে উদার প্রেমের বান।
চল্লিশ জানে জীবন শুধুই মরণবীণার তান।

 

চল্লিশ জাগে নবউদ্যমে নবরূপে নবারুণে।
চল্লিশ নবঝংকারে নবঝঞ্ঝায় জাগে খুনে।
অস্থি, মজ্জা, শিরা, লোমকূপে চল্লিশ যায় মিশে।
জীবনের বোধ, হৃদয়ের সার-নির্যাস চল্লিশে।

 

চল্লিশ চলে চূড়ান্ত নিজ গন্তব্যের পানে।
চল্লিশ জ্বলে নিজকে পুড়িয়ে কালের প্রদীপদানে।
চল্লিশ হাসে নিভৃতে, কাঁদে নিশ্চুপ অভিমানে।
নিজকে বোঝার, নিজকে খোঁজার চল্লিশ হলো মানে।

 

চল্লিশে আজ জাগুক সুপ্ত-সত্য হৃদয়মাঝে।
চল্লিশে আজ ফুটুক ফাগুন অস্তিত্বের ভাঁজে।
শতবর্ষের স্বপ্ন আসুক চল্লিশে আজ নেমে।
হৃদয় মনন প্রাণ যৌবন চল্লিশে থাক থেমে।
১৪/১০/১৯