আজ বৃহস্পতিবার 7:57 am06 August 2020    ২১ শ্রাবণ ১৪২৭    16 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

মাওলানা তারিক জামিল-এর বয়ান

খাঁটি মুসলমান পবিত্র কাবার চেয়েও সম্মানিত

জসিম উদদীন আহমাদ

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৭:৫১ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

মাওলানা তারিক জামিল আলোচিত তাবলিগি ব্যক্তিত্ব। এমবিবিএস ডাক্তার।

মাওলানা তারিক জামিল আলোচিত তাবলিগি ব্যক্তিত্ব। এমবিবিএস ডাক্তার।

 

মাওলানা তারিক জামিল আলোচিত তাবলিগি ব্যক্তিত্ব। এমবিবিএস ডাক্তার। তাবলিগ জামায়াতের ব্যানারে তিনি আইনজীবী, ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, অভিনেতা, খেলোয়াড়, জমিদার, সরকারি আমলা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ এলিট শ্রেণীর মানুষের মধ্যেই ইসলামের দাওয়াতি কাজ পরিচালনা করে থাকেন। করাচিতে প্রদত্ত তাঁর একটি বয়ান কালের কণ্ঠের ধর্ম পাঠকদের জন্য কিছুটা সংক্ষেপে অনুবাদ করেছেন জসিম উদদীন আহমাদ

 

 

ইসলাম মানে শান্তি। ইমান মানে নিরাপত্তা। সব মুসলমান ভাই-ভাই। আমি এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আসি নি। আমি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও নই। রাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পর্কও নেই। আমি এ দেশেরই নাগরিক। দেশের কষ্ট আমার কষ্ট, দেশের সমস্যা আমার সমস্যা। এখানকার শান্তিই আমার শান্তি। কেউ কোনো নিরপরাধ মুসলমানকে হত্যা করলে তার বেদনায় পুরো আসমান-জমিন ব্যথিত হয়। আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, কেউ কোনো মানুষকে, [রাসুল শুধু মুসলমান বলেননি] অন্যায়ভাবে হত্যা করলে এবং এতে পুরো দুনিয়ার সব মানুষ জড়িত থাকলেও আল্লাহ তায়ালা এই একটি মানুষ হত্যার কারণে পুরো দুনিয়ার সব মানুষকে জাহান্নামে পাঠাতে পারেন! আমি আপনাদের এই পয়গাম দিতে চাই, আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভালোবাসা ও সমপ্রীতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আবাস বা মুসাফিরখানা। এখান থেকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

 

 

 

আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে। মানুষ যেন মনে না করে সে মুক্ত। সব মানুষকেই আল্লাহ তায়ালার সামনে দাঁড়াতে হবে। দুনিয়ার প্রতিটি মুর্হূতের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে হিসাব দিতে হবে। এ জন্য জরুরি হচ্ছে, আমরা পরকালীন জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণ করব। মৃত্যু-পরবর্তী জীবনে যেন সফলতা লাভ করতে পারি, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারি, এ জন্য দুনিয়ার জীবনে প্রচেষ্টা চালাব। ভাই, আমাদের এই জীবন, এই সময় অত্যন্ত মূল্যবান। মুসলমানের জীবন অনেক দামি। হতে পারে সে গুনাহগার। এই মুসলমানের জন্যই তো স্বয়ং আল্লাহর রাসুল (সা.) অশ্রু ঝরিয়েছেন। উম্মতের জন্য তিনি ছটফট করেছেন, নামাজে দাঁড়িয়ে কেঁদেকেটে সারা রাত পার করেছেন। রাসুল উম্মতের গুনাহগারদের জন্য কেঁদেছেন, নেককারদের জন্য কেঁদেছেন। আল্লাহ তায়ালার এই প্রিয় বান্দারা কিভাবে তাঁর স্মরণ থেকে বিরত থাকতে পারে? যাদের জন্য নবী অশ্রুপাত করেছেন! এই উপলব্ধি থেকেই আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমরা সব ভাই-ভাই হয়ে থাকব। আমরা আল্লাহ তায়ালার হুকুমের প্রতি একনিষ্ঠ হব।

 

 

আল্লাহর রাসুল (সা.) বায়তুল্লাহর দিকে আঙুল উঁচিয়ে আল্লাহর ঘরকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, `হে বায়তুল্লাহ! তুই অনেক মর্যাদাবান ঘর, কিন্তু একজন মুসলমানের মর্যাদা তোর চেয়েও বেশি। তুই বড় সম্মানিত ঘর, কিন্তু একজন মুসলমানের সম্মান তোর চেয়েও বেশি।` আল্লাহর রাসুল (সা.) বায়তুল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে বায়তুল্লাহর দিকে আঙুলে ইশারা করে বলেছেন, মুসলমানের মর্যাদা বায়তুল্লাহর চেয়েও বেশি। সুবহানাল্লাহ! খাঁটি মুসলমানের এই সম্মান কেবল ইমানের কারণে। মুমিন হৃদয়ে তাওহিদ, বিশ্বাস ও আনুগত্যই এই সম্মানের কারণ। তার কাছে অন্য কিছু নেই, আছে কেবল ইমান।

 

এই ইমানই তাকে সম্মানিত করেছে, মর্যাদাবান করেছে। একজন মানুষ যখন কালেমা পাঠ করে, তখন তার সামনে পৃথিবীর সব ভাণ্ডার উন্মুক্ত হয়ে যায়। মুসলমান একে অপরকে খুন করতে পারে না। একজন আরেকজনের ক্ষতি করতে পারে না। এক ভাই অন্য ভাইয়ের নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘি্নত করে কোনো কিছু করতে পারে না। সবার দায়িত্ব নিরাপদ সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এটি কেবল প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। সব মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সাগরে ঝড় উঠলে তাতে কোনো জাহাজ আটকে গেলে তখন সব আরোহীর দায়িত্ব সেই জাহাজ কূলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা। সবাই সম্মিলিতভাবে এই চেষ্টা করলে তবেই জাহাজ কূলে ভিড়বে। আপনারা যারা মিডিয়ার লোক এখানে উপস্থিত আছেন (সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে), তাঁদের উদ্দেশে আমার বার্তা হচ্ছে, শুধু ছবি উঠালে হবে না। আপনাদের আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ারও প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনারা ইসলামের অনুসরণ করুন। আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ুন। নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ মোতাবেক জীবন সাজিয়ে নিন।

 

তাহলে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও দুনিয়া-পরবর্তী জীবনে সফলতা দান করবেন। আল্লাহ তায়ালার দরবারে কান্নাকাটি করতে হবে। তাঁর দেওয়া আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপরতা চালাতে হবে। তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ আপনাদের অন্তর পরিবর্তন করে দেবেন। আপনাদের সম্মানিত করবেন। আমরা সেই দিনটির প্রত্যাশা করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবুল করুন।

ধর্ম-এর সর্বশেষ খবর