আজ সোমবার 11:53 am06 July 2020    ২১ আষাঢ় ১৪২৭    15 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

সাক্ষাৎকারে মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান

কুরবানির পশুর দামে কারসাজি নয়, ট্যানারিওয়ালাদের সহযোগিতা চাই

সুফিয়ান মাক্কি, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:৪৪ এএম, ১৭ জুলাই ২০১৯ বুধবার | আপডেট: ১০:৪৬ এএম, ১৭ জুলাই ২০১৯ বুধবার

মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান, পৃন্সিপাল , মাদরাসা দারুর রাশাদ

মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান, পৃন্সিপাল , মাদরাসা দারুর রাশাদ

মাদরাসা দারুর রাশাদের পৃন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান বলেছেন, গত কয়েক বছর ধরে কুরবানির পশুর চামড়ার দাম নিয়ে যা হচ্ছে, তা অনাকাঙিক্ষত। খুবই দুঃখজনক। ঈদের ২/৩ দিন আগে হঠাৎ করে ট্যানারি এসোসিয়েশন চামড়ার নামমাত্র দাম নির্ধারণ করে দেন। ফলে ওই নিম্নমূল্যের চেয়ে বাড়িয়ে ট্যানারি মালিকেরা চামড়া কিনতে চান না। এই চামড়া দ্রুত পচনশীল হওয়ায় ওই ধরে দেওয়া দামেই বিক্রি না করেও উপায় থাকে না। এক্ষেত্রে কুরবানির পশুর চামড়ার বাজারে কারসাজি বন্ধ করতে সরকারের দরদী হস্তক্ষেপ চাই।

 


টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকম-এর প্রধান সম্পাদক ও জামিয়াতু আসহাবিস সুফফার পৃন্সিপাল আল্লামা মুফতি হাসানুল কাদির-এর সঙ্গে আজ বুধবার (১৭ জুলাই ২০১৯) সকালে মাদরাসা দারুর রাশাদ-এর পৃন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান দামাত বারাকাতুহুম একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান বলেন, মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বেঁচে থাকতে কয়েক বছর আগে আরজাবাদ মাদরাসায় তাঁর উদ্যোগে কওমি মাদরাসাগুলোর পক্ষ থেকে ট্যানারি শিল্প করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নানা কারণে সে উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নেয়নি। বর্তমানে ট্যানারি মালিকদের মধ্যে কেউই আলেম আছে বলে জানা নেই। তবে ইসলামদরদী অনেক ভাইতো অবশ্যই আছেন। কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ কওমি মাদরাসাগুলোর আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এক্ষেত্রে ট্যানারি মালিক/ব্যবসায়ী ভাই সিমপ্যাথি আমরা আশা করছি। তারা কওমি মাদরাসাগুলোর প্রতি আশা করি সুনজর দেবেন।

 


মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান বলেন, কুরবানির পশুর চামড়ার বাজারে যে অনাকাঙ্ক্ষিত কারসাজি হয়, তা ঠেকাতে অবশ্যই সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া আছে। মাননীয় শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে উদ্যোগী হবেন বলে আমি আশাবাদী। তাছাড়া বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, হাইআতুল উলয়া এবং হাটহাজারি মাদরাসার শীর্ষ পর্যায়ের যারা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, এ বিষয়ে তাদেরও তৎপরতা চালানো উচিৎ। সরকারের সঙ্গে এখনই আলোচনা করতে হবে। এখনই সময়।

 


মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান বলেন, এখনই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করলে ঈদের আগে তখন হঠাৎ করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়াসহ নানা ষড়যন্ত্র থেকে আমরা রক্ষা পাবো। কওমি মাদরাসাগুলোর দরিদ্র, এতিম ও অসহায় গোরাবাফান্ডের আয়ের বড় এ উৎস ধ্বংসে যেকোনো ষড়যন্ত্র বন্ধে আমরা আল্লাহর দরবারে খাস দোয়া করছি।

 


মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান বলেন, কোনো ট্যানারি মালিকই চাইবে না, বেশি দামে চামড়া কিনতে। তারা যত কম দামে কিনতে পারবেন, হয়তোবা তাতেই তাদের লাভ। এটাই তাদের মনোভাব। কিন্তু এ চামড়ার বাজারে কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে যে একতরফা গোল দেওয়ার দুঃখজনক পরিস্থিতির তৈরি করা হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে, তা রোধ করতে হবে। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়, মহল, ট্যানারি এসোসিয়েশন ও ট্যানারি মালিক এবং এ শিল্পের সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত সকল স্তরের ভাইদের কাছে আমাদের আশা থাকবে, কুরবানির পশুর চামড়ার বাজারে কারসাজি না করে কওমি মাদরাসাগুলোর প্রতি আপনারা সদয় আচরণ করবেন।

 


মাদরাসা দারুর রাশাদের পৃন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান-এর সঙ্গে জামিয়াতু আসহাবিস সুফফাসহ দেশের বর্তমান নানা পরিস্থিতি নিয়ে একান্ত বৈঠক করেন আল্লামা মুফতি হাসানুল কাদির। এ সময় তাঁর সঙ্গে মাদরাসা দারুর রাশাদের মুদাররিস মাওলানা মুহাম্মাদ কামালুদ্দীন ফারুকীও উপস্থিত ছিলেন। মিরপুরে মাদরাসা দারুর রাশাদের পৃন্সিপালের অফিসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

# অনেক স্মৃতি, বহু কথা
গণতান্ত্রিক নয়, আধুনিক ইসলামি রাষ্ট্র গঠনে সক্রিয় ছিলেন এরশাদ

জাতীয়-এর সর্বশেষ খবর