আজ শনিবার 6:30 pm11 July 2020    ২৭ আষাঢ় ১৪২৭    20 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

এরশাদের সঙ্গে চরমোনাইর পীরের ঐক্যফ্রন্ট, ইতিহাসের চাবুক

হাসানুল কাদির, প্রধান সম্পাদক, টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকম

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৯:২১ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:২১ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

চরমোনাইর পীর মরহুম ফজলুল করীম

চরমোনাইর পীর মরহুম ফজলুল করীম

বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোট মিলে গঠিত হয়েছিল চারদলীয় জোট। সেই নব্বুইয়ের দশকের শেষ দিকে। এই জোট হয়েছিল আজকের এবং তখনকার সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামাতেই বিএনপিনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যোগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যোগ দিয়েছিল যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের আমির গোলাম আযম, অংশ নিয়েছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহিও। দেশ বদলে গিয়েছিল। জোয়ার শুরু হয়েছিল বিএনপির পক্ষে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই গর্জে ওঠেছিল মূলত সব রাজনৈতিক শক্তি। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সে এক অকল্পনীয় দৃশ্যপট। ইনডিয়ার বিরুদ্ধেও মহাক্ষোভে ফুঁসছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমার প্রিয় বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। আমার সোনার বাংলা, তুমি সোনার চেয়েও দামি।

 

#  

 


বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জন্মলগ্ন থেকেই নানাবিধ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ইনডিয়া। এই ইনডিয়ান একটি লবিই চারদলীয় জোটে ফাটল ধরাতে নানা কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়। একটি পর্যায়ে তারা শুরুতেই বশে নিয়ে নেয় শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের শরিক চরমোনাইর পীর মরহুম ফজলুল করীমকে। ফজলুল করীম ইসলামী (শাসনতন্ত্র) আন্দোলনের একটি ব্যানারে ইসলামী ঐক্যজোটে ছিলেন। সে হিসেবে তিনিও চারদলীয় জোটের নেতা ছিলেন। পীর নেতা, বীর-বিপ্লবী নন। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির সাইনবোর্ডে তিনি অবশ্য আমিরুল মুজাহিদিন ছিলেন। কোন দেশে কোন যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি মুজাহিদদের প্রধান তথা আমিরুল মুজাহিদিন বনেছিলেন, তা তার জিন্দা ছেলে পীরেরা বলতে পারবেন কি না, জানি না। বাংলাদেশ শুধু নয়, দুনিয়ার কোথাও চরমোনাইর পীর ফজলুল করীমের চৌদ্ধ গোষ্ঠীর কেউ কখনো কোনো জিহাদে অংশ নিয়েছিলেন বলে ইতিহাস নেই। ইতিহাসবিদেরাও তা লিখেন নি। দেওয়ানবাগের পীর মাহবুবে খোদার সঙ্গে অবশ্য বছর পনের আগে লাঠিসোঁটা নিয়ে পীর হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন, যা উভয় পীরের জন্যই বাণিজ্যিক সাফল্য বয়ে আনতে যথেষ্ট সুফল দিয়েছে।

 


হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে অত্যন্ত ইজ্জত-সম্মানের সঙ্গেই দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর ইনতেকাল হয়েছে। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা তাঁর জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁর জন্য জান্নাত প্রার্থনা করছি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ইনতেকালের পর একটি শয়তানচক্র তাঁর অযথা সমালোচনা করছে। জীবিত থাকতেও এই অসভ্যগুলো, বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীগুলো এরশাদকে প্রত্যাখ্যানে বহু কোশেশ করেছে। এরশাদের মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনা-কার্যক্রম-তৎপরতা ধ্বংসে অথবা প্রতিরোধে হাজার ধরনের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র-শয়তানি করেছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ইনতেকালের পর সেই ইহুদি প্রথম আলো গোষ্ঠী এবং বিএনপিতে ঘাঁপটি মেরে থাকা একশ্রেণির বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীরা এরশাদের সমালোচনায় মুখর। তাঁকে ওরা সেনাশাসক বলছেন। কোটি মানুষের প্রিয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে প্রত্যাখ্যানে চাপাবাজি-মিডিয়াবাজি করছেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন। প্রথম আলোর ইহুদি বাচ্চু সম্পাদক মতিউর রহমান এরশাদকে বলছেন সেনাশাসক! হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সেনাশাসক বললে কারওয়ানবাজারের বাচ্চু ওরফে মতিউর রহমান তো জঙ্গিসম্পাদক। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের আমদানি-রফতানির দক্ষ পৃষ্ঠপোষক। বিজ্ঞ প্রচারক। সৎ ও পরিচ্ছন্ন সাংবাদিকতার কঠিন দুশমন। হলুদ সাংবাদিকতার রাহবার। প্রাসঙ্গিক দুয়েকটি মন্তব্য করে ফেললাম। অপ্রাসঙ্গিক হয়ে থাকলে মাফ করবেন। আসছে ‘আলেম সাংবাদিক আমি হাসানুল কাদির’। বইটি পড়তে পারেন। জানবেন, বহু কিছু। ‘সত্য ও সুন্দরের জয় হয়’ চেতনার আপসহীন সাংবাদিকতার নজির মিলবে পাতায় পাতায়।

 

 


হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করতে যুদ্ধ করেছিলেন। সারাজীবন তিনি এই যুদ্ধে ছিলেন। তিনি ক্ষমতায় থাকতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন। ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি আধুনিক ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের নেশায় ছিলেন। এর বড় সাক্ষী, আমি হাসানুল কাদির। বাংলাদেশবিরোধী বহুমুখী চক্রান্তে লিপ্ত ইনডিয়ান লবিটি চারদলীয় জোটের পুটি মাছ চরমোনাইর পীরকে প্রথমে সহজেই জালে ফেলে। এই পীরের মাধ্যমে পরে এরশাদকে নিয়ন্ত্রণে নেয়। অনাকাক্সিক্ষত এক পরিস্থিতির মুখে তখন চার দলীয় জোট ছাড়েন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জাতীয় পার্টিতে হট্টগোল বাঁধানোর মূল মন্ত্র চরমোনাইর পীর। তিনি এরশাদের সঙ্গে ইসলামি রাষ্ট্র গঠনে একসঙ্গে নির্বাচনের কথা বলেন। একসঙ্গে জীবন দিয়ে হলেও চরমোনাইর পীর দেশে ইসলামি রাষ্ট্র গঠনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরশাদ চরমোনাইর পীরকে নিয়ে সরল বিশ্বাসে ইসলামি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। নিজের সঙ্গে এই পীরকেও জোটের কো-চেয়ারম্যান মেনে নেন। আনুষ্ঠানিক এ ঘোষণার পরই চরমোনাইর পীরের প্রকৃত চেহারা ভেসে ওঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামনে। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের কাছে শুধুই কাগজ চাওয়া ছাড়া ভিন্ন কোনো মতলবে কোনোদিন কখনো চরমোনাইর পীর যোগাযোগ করেছিলেন বলে প্রমাণ নেই। এমনই তথ্য মিলেছে। ইসলামি শাসনতন্ত্র নামে, বাস্তবে ইসলামি অর্থআদায়তন্ত্র! এই তন্ত্রের পীর-ফকিরেরা চাইলে উল্টো ডকুমেন্ট নিয়ে আওয়াজ দিতে পারেন। আল্লাহ তুমি হেফাজত করো। তুমি রাব্বুল আলামিন। তুমি রাহমানুর রাহিম। তুমি সব দেখ। সব জান। হে মাবুদ, কোনো কিছুই তোমার চোখের আড়ালে নেই। আমাদের সবাইকে হেফাজত করো। হেদায়েত নসিব করো। আমাদের ভুলগুলো তুমি দয়া করে শুধরে দাও। মাফ করে দাও।

 


চরমোনাইর পীরের ইসলামি (শাসনতন্ত্র) আন্দোলন থেকে ইসলামি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) আসনে লাঙ্গল মার্কার নমিনেশন দিয়েছিলেন চরমোনাইর পীর ফজলুল করীম। আমার হাত ধরে এই নমিনেশন নিয়েছিলেন তাড়াইল উপজেলার সাবেক সফল ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাতউদ্দিন আহম্মেদ বাবুল। প্রিয় বাবুল ভাই আমার কথায় চরমোনাইর পীরের দলে যোগ দিয়েছিলেন। পীর সাহেবও নমিনেশন শুধু নয়, তাড়াইল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভার কর্মসূচিও দিয়েছিলেন। জনসভার দেড় লাখ হ্যান্ডবিলও ছেপে বিলি করা হয়েছিল। হঠাৎ চরমোনাইর পীর সাহেব সিদ্ধান্ত বদলে ফেললেন। পরে জানা গেছে, এরশাদের তরফে কিছু হাদিয়া গ্রহণের মাধ্যমে বাবুল ভাইকে আমার মাধ্যমে মাঠে নামিয়েও চরমোনাইর পীর তার জিহাদ (!) সমাপ্ত করলেন। আরেকজনকে লাঙ্গলের নমিনেশন দেওয়া হলো।

 


দুঃখজনক বলার কোনো কারণ নেই। পিতার রেফারেন্স ধরে জিন্দা দুই পীর রেজাউল-ফয়জুল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামি আন্দোলন (এখন শাসনতন্ত্র বাদ) গত নির্বাচনের কিছু দিন আগে ৩০০ আসনের ৩০০ জন হাতপাখা মার্কার এমপি পদপ্রার্থীকে মাত্র নব্বুই লাখ টাকা নিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে বিক্রি করে দেন বলে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে বড় কর্মসূচি দিয়ে একসঙ্গে আন্দোলন বাণিজ্যে ২০ লাখ টাকা কামানোর সর্বোচ্চ রেকর্ডও এই চরমোনাইর পীরের দলের সংগ্রহে আছে বলে গালি দিয়েছিলেন সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আমার পরমপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় আশরাফ ভাই। তিনি এখন আর দুনিয়াতে নেই। পিউর সৈয়দ আশরাফ ভাইকে আল্লাহ জান্নাতে জায়গা দিবেন-এই আশায় ইতিহাসের চাবুক এখানেই আজ শেষ করছি। দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ। দোয়া চাই। আল্লাহ হাফেজ।


শনিবার, ঢাকা
২০ জুলাই ২০১৯

 

রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর