আজ বৃহস্পতিবার 9:46 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

সিরিয়ান নারীতে মিশরি পুরুষদের আকর্ষণ : মানবিক না অন্য কিছু?

চৈতি খন্দকার, সাব-এডিটর

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:৩১ পিএম, ৮ জানুয়ারি ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ১২:৫২ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০১৭ শুক্রবার

লামিয়া লুতফি

লামিয়া লুতফি

সিরিয়ায় যুদ্ধ চলছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিয়ের জন্য সিরিয়ার উদ্বাস্তু নারীদের চাহিদাও বাড়ছে। কখনো তা স্বেচ্ছায়, আবার কখনো অনিচ্ছায়। মিশরও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০১১ সালের পর থেকে সিরিয়ার নারী এবং মিশরীয় পুরুষদের মধ্যে বিয়ের হার অনেক বাড়ার খবর অতিরঞ্জিত কিনা তা বিচার করা কঠিন হলেও তাদের নিয়ে অনন্ত মুখরোচক গল্পের ঘাটতি নেই।


উম্মে আম্মারের বয়স তিরিশি বছর। তার স্বামী এক দুর্ঘটনায় মারা গেলে তিনি বিধবা হয়ে যান। বর্তমানে একজন ‘সিঙ্গেল’  উদ্বাস্তু হিসেবে মিশরের শরনার্থী শিবিরে বাস করছেন। তার মতো অনেক সিরীয় নারীকে বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী হিসেবে বিবেচনা করছেন মিশরের বহু পুরুষ। এর অন্যতম কারণ, ‘কম যৌতুক’,  যা পুরুষ কর্তৃক যৌতুক হিসেবে স্ত্রীকে দিতে হয়। বিষয়টি মিশর ও সিরিয়ানদের মধ্যে কিছুটা বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। (বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো, পাত্রকে যৌতুক দেওয়া হয় পাত্রী পক্ষ থেকে!)


মিশরীয় পুরুষদের এই আগ্রহ সম্পর্কে উম্মে আম্মার বলেন, ‘তাদের এই বিয়ের প্রস্তাব বরং হয়রানিমূলক। আমি কি বলতে পারি? একজন বুড়ো মানুষ, যার দাঁত প্রায় সব পড়ে গেছে; আমার কাছে যখন তিনি আমার নম্বর চান। তিনি একজন সিরীয় নববধূকে পেতে চান। কারণ, তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে সুখী নন।’


প্রায় প্রতিদিনই এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি একটি কাজ হাতে নিতে চেয়েছিলেন, এখন অত্যন্ত জরুরি না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বলে তিনি জানান।


সিরিয়ার নারীদের স্ত্রী হিসেবে পেতে পুরুষেরা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। তারেক আল-শেখ, যিনি মিশরে বসবাসকারী সিরীয়দের বৃহত্তম ফেসবুক গ্রুপের একজন পরিচালক। তিনি বলেন, ‘অনেক পুরুষ মনে করে, এই ধরনের সাইট সিরিয়ার নারীদের কাছে পৌঁছার একটি ভালো উপায়।’


তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সব সিরীয়র জন্যই একটি উপাদেয় হিসেবে কাজ করছে। বিয়ের দালালেরা এই গুজব ছড়াচ্ছে, একজন সিরীয় নারীকে বিয়ে করতে যৌতুক হিসেবে একজন মিশরীয়কে মাত্র ৫০০ মিশরীয় পাউন্ড খরচ হবে।’

 
তিনি বলেন, ‘এতে সিরিয়ার নারীরা অসন্তুষ্ট। তেমনি সিরিয়ার পুরুষেরাও রাগান্বিত।’


কায়রোতে ‘নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দূরীকরণ’ (সিডও) কমিটির প্রধান লামিয়া লুতফি এই গুজবের উৎস নিয়ে আলোচনায় বলেন, ‘আমি সবসময় এটিকে (মিশর) একটি চমৎকার দেশ বলে দাবি করতাম, এখানে কোনো (শরণার্থী) ক্যাম্প নেই। সিরীয়রা এখানে আসার সময় তাদের থাকার জায়গা ছিল না। তারা শহরের কিছু মসজিদে থাকত। মিশরের বিত্তশালীরা ১,০০০ মিশরীয় পাউন্ডের বিনিময়ে নারীদের বিয়ে করত। তাদের একটি এপার্টমেন্ট দিয়ে দিতো।’


লুতফি জানান, মসজিদে থাকার এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলেও দালালেরা এখনো রয়ে গেছে।


আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে, কিছু লোক নারীদের অনুমিত দুর্বলতাকে ব্যবহার করে থাকে। এখনো অনেক মানুষ ‘সিস্টার’  শব্দ ব্যবহার করেন, যার অর্থ দুর্বল নারীদেরকে রক্ষা করা। যদিও অনেক দেশের শরণার্থী শিবিরে নারীরা হুমকির মুখে রয়েছে।  


কিছু মিশরীয় সিরিয়ার নারীদের বয়স, মতাদর্শ ও ধর্ম বিবেচনায়ও বিয়ে করতে চায়।


মিশরের একজন পুরুষ, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার বয়স ৫৫ বছর। আমি একটি এপার্টমেন্ট এবং একটি গাড়ির মালিক। আমি আমার মিশরীয় স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন আছি। একজন সিরিয়ান নারীকে সামাজিকভাবে বিয়ে করতে চাচ্ছি।’


মিশরে বসবাসকারী সিরিয়ান তরুণী হালা মুহাম্মদ। বয়স কুড়ি বছর। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষের ব্যবহারের কারণে আমি ভেবেছিলাম, বিয়ে হচ্ছে এক ধরনের শোষণ পদ্ধতি এবং আমাদের দিকে তাদের তাকানোর ভঙ্গি এবং তাদের এসব কথার মাধ্যমে তারা খারাপ মনোবাসনা হাসিল করতে চায়। এ কারণে বিয়ের প্রস্তাবের পূর্বেই কিছু লোককে সরাসরি ছলনাকারী বলে মনে হয়’।


তিনি আরও বলেন, ‘তা সত্ত্বেও, আমি কিছু সম্ভ্রান্ত লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি। আমি মনে করি না, বিয়ে কিংবা বিয়ের ধারণা ভুল।’


লুতফি বলেন, ‘মিশর ও সিরিয়ার নারীরা খুব একটা ভিন্ন নয়। মিশরে সিরিয়ার নারীদের নতুন ধরনের জীবনযাপনের কারণে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো বিকশিত হতে পারে এবং এটা সত্য, তারা সেখানে বিদেশি।’


তিনি বলেন, ‘সাধারণত সিরিয়ার নারীরা মিশরীয় নারীদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত। তারা তাদের অধিকার সম্পর্কেও বেশি সচেতন। সিরীয়রা তাদের দেশের নিজস্ব রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন। বাস্তবে তারা এখন মিশরে উদ্বাস্তু। যেকোন মুহূর্তে সেখান থেকে তারা বহিষ্কার হতে পারেন। অতএব, তাদের বিনয়ী হওয়া ছাড়া উপায় নেই।’


সিরিয়ার নারীদের মিশরীয় পুরুষদের বিয়ে নিয়ে মিশরে বসবাসরত কিছু সিরীয়’র মধ্যে উদ্বেগ আছে। এটি সত্য। সবাই একই ধারণা পোষণ করে-এটি সত্য ঠিক নয়।


সিরীয় উদ্বাস্তু নারী রাফা ফায়েজ বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমি একজন মিসরীয় ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তিনি সবসময় আমার জন্য দুঃখ অনুভব করতেন। তার এই প্রতিক্রিয়া আমাকে ভয় পাইয়ে দিত। তাকে বিয়ের পর... আমরা আনন্দে বাস করছি।’  সূত্র : আল মনিটর

 

 

আরও পড়ুন :

 

#  শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা এক ফিলিস্তিনি নারীর সাফল্যের গল্প

শুধুই নারী-এর সর্বশেষ খবর