Total Bangla Logo
For bangla আজ বৃহস্পতিবার 12:35 am
27 July 2017    ১১ শ্রাবণ ১৪২৪    02 ذو القعدة 1438

সিনহা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, তাকে পদ ছাড়তে হবে : চরমোনাইর পীর

যাকুয়ান রিদা, নিজস্ব সাংবাদিক

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:৩৩ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৭ শুক্রবার

গৃক দেবীর মূর্তি সরানোর দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশ। (ছবি : ফোকাস বাংলা)

গৃক দেবীর মূর্তি সরানোর দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসমাবেশ। (ছবি : ফোকাস বাংলা)

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, প্রধান বিচারপতির গৃক দেবীর প্রতি কোনও ভক্তি বা অনুরাগ থাকলে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার এ পছন্দকে তিনি জাতীয়ভাবে চাপিয়ে দিতে পারেন না। ‘মূর্তি’ স্থাপন করে তিনি দেশের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এমন একজন বিতর্কিত বিচারপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির আসনে থাকতে পারেন না। বিতর্কিত বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ করা উচিত।’ শুক্রবার  (২১ এপৃল ২০১৭) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের মতোই বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়নও সুপৃম কোর্ট এলাকা থেকে গৃক মূর্তি সরানোর দাবি করেছে। একই স্থানে গৃক মূর্তির বদলে পবিত্র কুরআনের স্তম্ভ বসানোর দাবি করে একটি তাৎক্ষণিক নমুনাচিত্রও প্রকাশ করেছে। ইসলামিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিাতা হাসানুল কাদিরও বাংলাদেশের ইতিহাসের কুখ্যাত কুলাঙ্গার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বরখাস্ত দাবি করেছেন।


রোজার আগেই মূর্তি না সরালে ঈদের পর সুপৃম কোর্ট ঘেরাওয়ের হুমকিও দিয়েছেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেছেন,  ‘মূর্তি’র জায়গা মন্দিরে। সুপৃম কোর্ট এলাকা থেকে মূর্তি সরাতেই হবে। ‘মূর্তি’ না সরালে ১৭ রমজান সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

 

আরও পড়ুন : সুপৃম কোর্টের সামনে গৃক দেবী নয়, পবিত্র কুরআনের স্তম্ভ চাই


চরমোনাইর পীর বলেন, ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমরা শঙ্কিত। জাতীয় ঈদগাহের পাশে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপৃম কোর্ট এলাকায় গৃক দেবীর ‘মূর্তি’ স্থাপন করে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনায় সবচেয়ে বড় আঘাত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মূর্তি’ কীভাবে এলো, কোথায় থেকে এলো, কে বসালো, তিনি তা জানেন না। শুনেছি প্রধান বিচারপতির একক সিদ্ধান্তে ‘মূর্তি’ বসানো হয়েছে।  কাদের স্বার্থে গৃক ‘মূর্তি’ সুপৃম কোর্ট এলাকায় স্থাপন করা হলো? এটি সাধারণ জনতার প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, ‘‘সংখ্যাগরিষ্ঠ খৃস্টান অধ্যুষিত আমেরিকার সুপৃম কোর্টের সামনেও সর্বোচ্চ আইনদাতা হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অলংকৃত আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশের সুপৃম কোর্টের সামনে গৃক দেবী লেডি জাসটিস-এর ‘মূর্তি’ স্থাপন করে মুসলিম সাংস্কৃতিক চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। মাটি বা ধাতবের তৈরি ‘মূর্তি’ কখনোই ন্যায়-বিচারের প্রতীক হতে পারে না। কারণ, ‘মূর্তি’র বাকশক্তি ও বোধশক্তি নেই, রায় দিতে পারে না। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ ও তাঁর নাজিল করা কুরআন হচ্ছে ন্যায়-বিচারের প্রতীক। আল্লাহ ন্যায়-বিচারের সব পদ্ধতি পবিত্র কুরআনে লিখে রেখেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তা পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করেছেন। এ জন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়-বিচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।’

 

আরও পড়ুন : খালেদা-তারেককে সব মামলায় বেকসুর খালাস দিতে হবে : ইসলামিক ইউনিয়ন



প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রেজাউল করীম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাদের খুশি করার জন্যে সংবিধানের মূলনীতি থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষাতা বসালেন, তারা আগামী নির্বাচনে আপনাকে ভোট দেবে না।’

পূর্ব ঘোষিত এই মহাসমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুমতি না দেওয়ায় সমালোচনা করেন চরমোনাইর পীর। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য পৃন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব খুলনা, মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল ফরিদী, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।