আজ শনিবার 6:47 pm08 August 2020    ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭    18 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

সারাদেশের অনুপ্রেরণা ‘সবুজ তারাগঞ্জ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৪:০৬ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ শনিবার

সারাদেশের অনুপ্রেরণা ‘সবুজ তারাগঞ্জ’

সারাদেশের অনুপ্রেরণা ‘সবুজ তারাগঞ্জ’

*%

‘সবুজ তারাগঞ্জ গড়ি’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় ১ সেপ্টেম্বর সকালে এ কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলার মহাসড়কসহ পাঁচটি ইউনিয়নের ১৫৩টি রাস্তায় ৪৬০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লাগানো হয় এসব গাছ। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শ্রেণি-পেশার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপজেলা প্রশাসনের এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহাম্মেদ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

রাস্তার দুই ধারে লাগানো ৪০ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, অর্জুন, আকাশমণি, আমলকীসহ নানা জাতের ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ। এ কর্মসূচিতে রংপুরের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ডা. মাহবুব-উল-করিম ও রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম মারুফ হাসান উপস্থিত ছিলেন। আগে থেকে ব্যতিক্রমী এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। ‘সবুজ তারাগঞ্জ গড়ি’ লেখা তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায় সর্বত্র। কর্মসূচি চলাকালে বেজে ওঠে দেশাত্মবোধক গান।

শুরুতে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে হাতে গাছ ও খুঁটি নিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। ঠিক সকাল ৭টায় বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে ও ঢোল বাজিয়ে শুরু হয় চারা রোপণ। জনপ্রতি ১০-১৫টি চারা গাছ রোপণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিলুফা সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিয়ার রহমান, কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেফাউল আজম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া উপজেলার খলেয়া গঞ্জিপুর এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এসেছে চারা দেখতে। তারা গাছগুলো দেখে প্রশংসামূলক মন্তব্য করছে।

উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, সবুজ তারাগঞ্জ গড়তে প্রায় ১১ মাস আগে এই বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। পরে পরিষদের একাধিক সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক সহযোগিতা, বিভাগীয় কমিশনারের সহায়তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ এলাকার জনগণ ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাছের চারা সংগ্রহ করা হয়। কর্মসূচি সফল করতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ১৮টি পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এভাবে পরিকল্পনাকে বাস্তবরূপ দেন ইউএনও জিলুফা সুলতানা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বরাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী হোমায়রা খাতুন বলে, ‘সবাই মিলে মনের আনন্দে গাছের চারা লাগিয়ে রেকর্ড করলাম। এমন ভালো কাজে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সারাজীবন মনে থাকবে।’

সূত্র মতে, কর্মসূচি সফল করতে ৪৫টি সভা ও তিন দিন ধরে পুরো উপজেলায় মাইকে প্রচার চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, আনসার বাহিনীসহ চিকিৎসকের চারটি দল এলাকায় কাজ করে। প্রতি ৫০ জন শিক্ষার্থীকে দেখাশোনার জন্য একজন তত্ত¡াবধায়ক বাঁশি ও ড্রাম নিয়ে অবস্থান করেন। সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আড়াই লাখ গাছের চারা লাগানো হয়।

ইউএনও জিলুফা সুলতানা বলেন, ‘অনেক দিন ধরে সবুজ তারাগঞ্জ গড়ার স্বপ্ন ছিল। আজ তা বাস্তবে রূপ নিল।’ তিনি এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বৃক্ষ রোপণের এমন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীন জীবন। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক নাছিম বলেন, ‘চারাগুলো সংরক্ষণে সবাই এগিয়ে এলে উদ্দেশ্য সফল হবে। দেশ উপকৃত হবে। এ মহৎ কর্মসূচির অনুসরণে দেশের সর্বত্র চারা গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’

দেশ-এর সর্বশেষ খবর