আজ বৃহস্পতিবার 7:20 am06 August 2020    ২১ শ্রাবণ ১৪২৭    16 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

শুক্রবার মহালয়া, ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০১:১২ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ রবিবার

প্রতিমা বানানোর কাজ চলছে

প্রতিমা বানানোর কাজ চলছে

গত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর দুর্গোৎসবে ব্যয় দ্বিগুণ বেড়েছে। প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে পূজার সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আয়োজকদের। দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেনাকাটার ধুম পড়ে গেছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আয়োজন।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এ বছরও ৪ হাজার ৪৮৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। এর মধ্যে খুলনায় ৮৪৩টি, সাতক্ষীরায় ৫৬৩টি, বাগেরহাটে ৫৬০টি, যশোরে ৬২৮টি, ঝিনাইদহে ৪৪৪টি, মাগুরায় ৬০৪টি, নড়াইলে ৫৯৩টি, কুষ্টিয়ায় ২১৭টি, চুয়াডাঙ্গায় ১০২টি ও মেহেরপুরে ৩৫টি মণ্ডপে পূজা অর্চনা হবে।

৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা প্রচারিত হবে মর্ত্যলোকে। তাই প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরা। মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রঙ তুলির কাজ। ফুটিয়ে তোলা হবে প্রতিমার পুরো অবয়ব। সবমিলে কারিগরদের এখন দম ফেলার ফুরসৎ নেই।

খুলনা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অরবিন্দু সাহা বলেন, আগামী ৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এ পূজার সমাপ্তি ঘটবে। দু-একদিনের মধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হবে। এরপর প্রতিমার সৌন্দর্য আর চাকচিক্য বাড়ানোর কর্মযজ্ঞে নেমে পড়বেন কারিগররা।

প্রতিমা কারিগর সুবোল পাল বলেন, প্রতিমা তৈরিতে এঁটেল ও বেলে মাটি ছাড়াও বাঁশ-খড়, দড়ি, লোহা, ধানের কুঁড়া, পাট, কাঠ, রঙ, বিভিন্ন রঙের সিট ও শাড়ি-কাপড়ের প্রয়োজন হয়।

কারিগরদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় এক সময় সুন্দর হয়ে ওঠে দেবী দুর্গা। দুর্গার লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ির জরির কাজ, গণেশের ধুতিতে নকশাদার পাড় বসানো ও মহিষাসুরের জমকালো পোশাক তৈরির কাজে দর্জি বাড়িতেও চলছে ব্যস্ততা। কামার পাড়ার সহায়তায় তৈরি হয় দেবীর হাতের চক্র, গদা, তীর-ধনুক ও ত্রিশূল।

প্রতিমা শিল্পীরা জানান, এবারের দুর্গোৎসবে একজন শিল্পী ও তার দল প্রায় ১৫টি প্রতিমা তৈরি করছেন। প্রকারভেদে এসব প্রতিমা তৈরিতে ২০ হাজার টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমা শিল্পী সৌমেন পাল জানান, তিনি প্রতি বছরই খুলনার বাজার রোড মন্দিরের জন্য জীবন্ত প্রতিমা তৈরি করেন। গত ৬ বছর ধরে এ মন্দিরে জীবন্ত প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। এই মন্দিরের জন্য পূজা দেওয়ার জন্য একটি সেট ও পৃথকভাবে দেব দেবীর ৯টি প্রতীমা তৈরি করছেন। এ কাজের জন্য তিনি মজুরী পান লক্ষাধিক টাকা। ৯টি একক প্রতিমা থাকবে জীবন্ত। যা ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস দিয়ে চালিত হবে। এ একক প্রতিমাগুলোর হাতে থাকবে অস্ত্র। যা নিয়ে প্রতিমার হাত ওঠা নামা করতে থাকবে।

খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুণ্ডু বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতি মণ্ডপকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ শাখার এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, দুর্গোৎসব উপলক্ষে ইতোমধ্যেই পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। পূজার সময় শহর ও শহরতলীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের বাড়তি টহল থাকবে। পুলিশকে সহযোগিতা দেবে আনসার-ভিডিপি। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোয় পুলিশের পাশাপাশি দুজন নারী আনসার সদস্য ও ৪ জন পুরুষ আনসার সদস্য এবং একজন করে গ্রাম পুলিশ থাকবে।

ধর্ম-এর সর্বশেষ খবর