আজ বৃহস্পতিবার 10:05 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

যেমন ফর্ম নিয়ে সৌম্য-তামিমরা

ক্রিকেট সাংবাদিক

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:১০ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ শনিবার | আপডেট: ১০:১২ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৭ শনিবার

তামিম-সৌম্য-সাব্বিরদের ছবি

তামিম-সৌম্য-সাব্বিরদের ছবি

নাসির হোসেনের গড় ২২৬! তামিম ইকবালের ১০১.৫০! খুব পিছিয়ে নেই মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহরাও। দুই ভায়রার ব্যাটিং গড় যথাক্রমে ৯৩ ও ৮২.৩৩!

ওদিকে বোলারদের পারফরম্যান্সের দিকে দেখলেই নয়। তাসকিন আহমেদের উইকেটপ্রতি খরচ ৯৯ রান! সানজামুল ইসলামের ৮৬.৫০! মেহেদী হাসান মিরাজ (৬৩), শুভাশীষ রায়দের (৫৮) গড়ও ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো। তবে সেটি ইতিবাচক নয় নিশ্চয়ই।

দীর্ঘ সফরে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান-বোলারদের অবস্থাটা মোটা দাগে এমন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পারফরম্যান্সের পুঁজিতে আত্মবিশ্বাসের ডানা লাগিয়ে উড়াল ব্যাটসম্যানদের। অন্যদিকে ডানা ভেঙে মুখ থুবড়ে পড়ার দশা সিংহভাগ বোলারের। অবশ্য নিয়মটা প্রমাণের জন্য ব্যতিক্রমও তো রয়েছে। ব্যাট হাতে যেমন রংহীন সৌম্য সরকার-ইমরুল কায়েসরা, উল্টো দিকে বল হাতে রং ছড়ানো বিধ্বংসী রূপ রুবেল হোসেনের।

নিউজিল্যান্ড সফর থেকে ফিরতে না ফিরতেই ভারত সফরের প্রস্তুতি। পরপরই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দম ফেলার সুযোগই মিলছিল না যেন। সেই ব্যস্ততায় ছেদ পড়েনি এতটুকুন। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার জন্য এরই মধ্যে পৌঁছে গেছেন ইংল্যান্ডে। লঙ্কাদ্বীপ থেকে ফেরার পরের সময়টা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হাত মকশো করার সুযোগ ছিল ক্রিকেটারদের সামনে।

তা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগান ব্যাটসম্যানরা! চার রাউন্ড শেষে ২৭৯ রান করে লিগের সর্বোচ্চ রান এখন মুশফিকের। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে প্রথম ম্যাচে খেলেছেন অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস, পরের খেলায় সেঞ্চুরি। তাঁর গড়টাও ওই সেঞ্চুরির কাছাকাছি—৯৩! রান হয়তো মুশফিকের চেয়ে কিছুটা কম, তবে ধারাবাহিকতায় তাঁকে ছাড়িয়ে মাহমুদ উল্লাহ। আবাহনীর জার্সিতে চার ম্যাচে তাঁর রান ৫৯, ৭৭, ৪৯* ও ৭২। বেশ কিছু দিন পর জাতীয় দলে আবার ডাক পাওয়া নাসিরের রান ২২৬। চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে অপরাজিত থাকায় তাঁর গড়ও ২২৬! গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে প্রথম ম্যাচেই অপরাজিত সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের জানানটা দিয়ে রাখেন আরেকবার। পারফরম্যান্স দিয়ে ওই কড়া নাড়াতেই আবার নাসিরের সামনে খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা।

মোহামেডানের হয়ে তামিম খেলেন মোটে দুই ম্যাচ। এর মধ্যে প্রথমটিতেই বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ১৫৭ রানের ইনিংস আসে তাঁর ব্যাট থেকে। নুরুল হাসান চার ম্যাচে ৬৪ গড়ে ১৯২ রান করেন শেখ জামালে। গত লিগে অসাধারণ পারফর্ম করা মোসাদ্দেক হোসেন এবারও আবাহনীর জার্সিতে শুরু করেন সেঞ্চুরি দিয়ে। শেষ দুই ম্যাচে ৩ ও ৯ রান করলেও চার ম্যাচে ৪৮.৩৩ গড়ে ১৪৫ রান মন্দ কী! সাব্বির রহমান আবার উল্টো। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথম দুই খেলায় ১৩ ও ৩৬ করার পর শেষ ম্যাচে ম্যাচ জেতানো ৭৫ বলে অপরাজিত ৭৮ রানের ইনিংসে দেন ফর্মে ফেরার প্রতিশ্রুতি। যে প্রতিশ্রুতি একদমই পাওয়া যাচ্ছে না জাতীয় দলের দুই ওপেনার সৌম্য ও ইমরুলের ব্যাটে। প্রথমজন প্রাইম ব্যাংকের হয়ে তিন ম্যাচে করেন মোটে ৫০ রান। পরেরজন শেখ জামাল ধানমণ্ডির জার্সিতে চার ম্যাচে ৯০।

ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তা-ও মোটে দুজনের এই দশা, বোলারদের মধ্যে তো সিংহভাগেরই! আবাহনীর তাসকিন দুই ম্যাচে নেন মোটে এক উইকেট। ক্লাবসতীর্থ বাঁহাতি স্পিনার সানজামুলের চার ম্যাচে দুই শিকার। মোহামেডানের শুভাশীষ-মেহেদীর তিন ম্যাচে দুই উইকেট করে। বেশ কিছু দিন পর ফেরা পেসার শফিউলের পারফরম্যান্সও আহামরি না। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে চার ম্যাচে চার শিকার ৪১.৭৫ গড়ে।

বোলারদের এই আঁধারিতে আলোর বাতি হাতে পেসার রুবেল। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে তিন ম্যাচে তাঁর ৯ শিকার, এর মধ্যে কলাবাগানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই নেন ছয় উইকেট! লিজেন্ডজ অব রূপগঞ্জের হয়ে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার চার ম্যাচে ছয় উইকেট খারাপ না। ইংল্যান্ডগামী বিমানে ওঠার দিনে ৩৬ রানে দুই উইকেট নিয়ে এবং ১৮ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে কলাবাগানের বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি। তবু যখন তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক, লিগে বোলারদের পারফরম্যান্স মাশরাফিকে না ভাবিয়ে পারবে না।

তা-ও তো ভালো যে ওই বোলাররা ম্যাচ অনুশীলনের মধ্যে ছিলেন। ব্যাটে বিবর্ণ সৌম্য-ইমরুলও তাই। সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের যে সেই সুযোগও হচ্ছে না! আইপিএলে একটি করে ম্যাচেই একাদশে ছিলেন দুজন, বাকি সময়টা কাটছে ডাগ আউটে। ইংল্যান্ডে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার ইঙ্গিতও তো মিলছে না।

দলের অন্যতম সেরা দুই অস্ত্রকে নিয়ে মাশরাফির চিন্তাটা তাই সবচেয়ে বেশিই হওয়ার কথা।