আজ বৃহস্পতিবার 7:20 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

অগ্রণীর সেই এমডি

যেকোনো সময় দেশ ছাড়বেন

আনিকা ফারজানা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০১:০১ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ শনিবার

যেকোনো সময় দেশ ছাড়বেন

যেকোনো সময় দেশ ছাড়বেন

বৃহস্পতিবার বিকেলে তার ঘনিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। জানতে চাইলে ওই সূত্র প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। অন্যদিকে, সৈয়দ আবদুল হামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে বিমানবন্দরগুলোকে দুর্নীতি দশন কমিশন (দুদক) থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কয়েক দফা দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালকে তার মোবাইলে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী মো. বেনজির আহমেদ হজ করতে সৌদি আরব রয়েছেন। জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ঋণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাকে অপসারণের পর অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকের সিনিয়র উপব্যবস্থাপনা পরিচালক-ডিএমডি মিজানুর রহমান খানকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সান-মুন-স্টার গ্রুপকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় তাকেসহ তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে দুদক। বর্তমানে দুজনই ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন।

এমডি হিসেবে সৈয়দ আবদুল হামিদের মেয়াদ ছিল গত ১০ জুলাই পর্যন্ত। শেষ কর্মদিবসে তাকে অপসারণ করা হয়। সান-মুন-স্টার গ্রুপকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. বেনজির আহম্মেদ বাদী হয়ে চলতি বছরের ২ আগস্ট মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, মো. মিজানুর রহমান, সাবেক ডিএমডি মোফাজ্জল হোসেন, সান-মুন-স্টার গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান, অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আমিরুল ইসলাম, আখতারুল আলম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. শফিউল্লাহ ও অগ্রণী ব্যাংক প্রধান শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলামকে আসামি করা হয়।

দুদকের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজস ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল কাগজপত্রের ওপর ভিত্তি করে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেন। এর মধ্যে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ইতোমধ্যেই তারা আত্মসাত করেন।

রাজধানীর কল্যাণপুরে সান-মুন-স্টার গ্রুপের মালিকানা দাবিদার যে সম্পত্তির ওপর ‘মিজান টাওয়ার’ নির্মাণের জন্য অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ দেয়া হয়েছে এটির মালিকানা এখনো সুনিশ্চিত নয়। এছাড়া সম্পত্তির ওপর আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রাজউকের অনুমোদিত নকশাও জাল করা হয়েছে। বন্ধকী সম্পত্তির অতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় না এনে আসামিরা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঋণ প্রদান এবং তা আত্মসাত করেন। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যেকোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ নবায়ন, পরিচালনা পর্ষদকে না জানিয়ে জামানত পরিবর্তন, খেলাপি ঋণের তথ্য গোপনসহ ৭৯২ কোটি টাকার ঋণের অনিয়ম বিষয়ে সৈয়দ আব্দুল হামিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী কমিটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের নেতৃত্বে গঠিত স্থায়ী কমিটি শুনানি শেষে গত ২২ জুন তাকে অপসারণ করে। মোট ১০টি অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

অগ্রণী ব্যাংকের একটি সূত্র বলছে, এখানে যা হয়েছে তা বোর্ডের সম্মতিতে হয়েছে। ফেসে গেলেন শুধু ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বোর্ডের রাঘব বোয়ালরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী থাকায় তাদের কিছু হয়না। সূত্র আরও জানায়, মামলা থেকে রেহাই পেতে সৈয়দ আবদুল হামিদ মূলত দেশ ছাড়ার পথ খুঁজছেন। তার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীও তাকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।