আজ বুধবার 1:03 am20 September 2017    ৪ আশ্বিন ১৪২৪    27 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

মূর্তি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে : নেজামী

নিজস্ব সাংবাদিক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:০০ পিএম, ১ জুন ২০১৭ বৃহস্পতিবার

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী : চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোট

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী : চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোট

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা সরকার প্রধানসহ গণদাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে জাতীয় ঈদগাহ্ সীমানার সামনে থেকে সরিয়ে সুপৃমকোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে গৃক দেবী থেমিসের মূর্তি পুনস্থাপনকে অনভিপ্রেত আখ্যায়িত করে বলেছেন, এতে জনগণ বিস্ময়ে হতাশ, হতবাক ও ক্ষুব্ধ। তাঁরা বলেন, অনৈসলামিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যেমন প্রতিক্রিয়া আছে, মূর্তির ক্ষেত্রে সেই প্রতিক্রিয়া আরও প্রবল।  মূর্তি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত  এদেশের সংক্ষুব্ধ জনগণের  স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ চলবে।  কারণ, মুসলিম সংস্কৃতিতে হিরো কাল্ট বা বীরপূজার প্রচলন নেই।  তাই দেখা যায়, উপমহাদেশে মুহাম্মদ বিন কাশেম থেকে শুরু করে কতো বীর রাষ্ট্রনায়ক তাঁদের কারো মূর্তি নির্মাণ করা হয়নি। উপমহাদেশে কুতুব মিনারসহ বহু স্থাপত্য শিল্পে মুসলিম আর্ট ও অলঙ্করণ পদ্ধতি এবং মুসলিম শিল্পকলার জগতে ডেকোরেটিভ আর্ট বিচিত্র রঙ ও রেখায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। তাজমহলসহ বহু মসজিদ-মিনার নির্মাণ করে মুসলিম আর্টকে অবিস্মরণীয় করে মুসলমানরা তাদের স্বকীয় আর্টকে বিকশিত করেছে।  শিল্প-সংস্কৃতির যে উপাদান  তৌহিদের বা একত্ববাদের পরিপন্থী, মুসলমানরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।  মুসলমানরা জীবনভিত্তিক মূর্তি নির্মাণের  সম্পূর্ণ বিরোধী।  ইসলামে মূর্তি নির্মাণ নিষিদ্ধ।  মানুষ ও জীবজন্তুর মূর্তি তৈরি করা মুসলিম সমাজে নিষিদ্ধ। মুসলিম শিল্প-কলায় চিত্রকলা আছে, ভাস্কর্যের নামে মূর্তি নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই।

 

আরও পড়ুন : ‌‌‌‌...কেউই দলকে বাঁচাতে আসবে না- ওবায়দুল কাদের


নেতারা বুধবার (৩১ মে ২০১৭)  সকালে পার্টির পুরানা পল্টন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মূর্তি পুনঃস্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এসব কথা বলেন। পার্টির সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রশিদ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারোয়ার, মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন ও মুফতি এএনএম জিয়াউল হক মজুমদার, সহকারী মহাসচিব ওবায়দুল হক ও রবিউল আলম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মমিনুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পীরজাদা সৈয়দ মোঃ আহছান, ইসলামী ছাত্র সমাজের সভাপতি আবদুল্লাহ আল-মাসুদ ও মহাসচিব নুরুজ্জামান।

 

আরও পড়ুন : পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইসলাম কবুল করছেন বারাক ওবামা


কয়েকটি মুসলিম দেশে মূর্তির অবস্থান সম্পর্কে নেতারা বলেন, পাশ্চাত্যের প্রভাবে বিভিন্ন মুসলিম দেশে স্থাপিত এসব মূর্তির বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত প্রবল। ফলে সেসব দেশে অনেক পরিবর্তন সাধিত হয়।  তুরস্ক তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। চারুকলার আড়ালে ভাস্কর্য বা মূর্তিবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত  আলেম-উলামা সম্পর্কে একশ্রেণীর লোকের বল্গাহীন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ, ব্যাঙ্গাত্মক, অবমাননাকর ও অশোভন উক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে নেতারা বলেন, যেকোন মুসলিম দেশে মূর্তি স্থাপন মহান আল্লাহ-রাসুলের (সা.) প্রেমে উচ্ছ্বলিত মানুষের চিত্তের ওপর মারাত্মক আঘাত স্বরূপ।   

নেতারা বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রমূলক অনৈসলামিকরণ প্রক্রিয়ার অনুচররা সব মুসলিম দেশেই ইসলামি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নানাভাবে প্রতিকূল আচরণ করার প্রয়াস চালাচ্ছে। ইসলামবিরোধী চিন্তা-চেতনার আবর্তে তাড়িত এসব লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইসলামবিরোধিতায় ক্রিয়াশীল বৃহৎ শক্তির তল্পীবাহক ও সেবাদাসের ভূমিকায় অবতীর্ণ।  ইসলামি জাগরণকে সাম্প্রদায়িক শক্তি বলে ইসলামপন্থীদের কলঙ্কিত করার জন্য এসব লোক আদা-পানি খেয়ে লেগেছে।  ইসলাম ধর্মীয় সীমারেখার দেশে ইসলামকে দাবিয়ে রাখাই তাদের ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য।-প্রেস রিলিজ