Total Bangla Logo
For bangla আজ শুক্রবার 2:46 pm
28 July 2017    ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪    04 ذو القعدة 1438

মাওলানা সৈয়দ মুতিউর রহমান : স্মরণাঞ্জলি

অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:২৩ পিএম, ৮ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার

মাওলানা সৈয়দ মুতিউর রহমান

মাওলানা সৈয়দ মুতিউর রহমান

বৃহত্তর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসাইনিয়া আরাবিয়া দারুল হাদীস মাদরাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা সৈয়দ মুতিউর রহমান চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বুধবার (৭ ডিসেম্বর ২০১৬) রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি দুনিয়া ছেড়ে মাওলায়ে কারিমের দরবারে চলে গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবারই বেলা টায়  লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জামিয়ার মাঠে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
 
বৃহত্তর সিলেট তথা সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে শিক্ষক-ছাত্রদের ঢল নামে তাঁর মৃত্যুসংবাদে। সৈয়দপুর গ্রামের ছায়াডুবি মাঠ পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে। ইনতেকালের সময় তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ছেলে, মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, ছাত্র ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন

সৈয়দপুর বৃহত্তর সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। হযরত শাহ জালাল (রহ.)-এর অন্যতম সঙ্গী হযরত শাহ সৈয়দ শামছুদ্দীন (রহ.)-এর স্মৃতিজড়িত গ্রাম। হযরত শাহ সৈয়দ শামছুদ্দীন (রহ.)-এর বংশধর ছাড়াও সৈয়দপুর গ্রামে বসবাসরত শাহ সৈয়দ শামছুদ্দীন (রহ)-এর আপন দুই ভাই হযরত শাহ সৈয়দ তাজ উদ্দীন (রহ.) এবং হযরত শাহ সৈয়দ রোকন উদ্দীন (রহ.)-এর বংশধরের লোকজন। গ্রামে বাস করেন হযরত শাহ সৈয়দ ওমর সমরকন্দি (রহ.)-এর বংশধরদের এক বড় কাফেলা। এমনিভাবে আরও কয়েকটি সৈয়দ পরিবারের বংশধর এই গ্রামে আছেন। তাছাড়া এই গ্রামে বাস করেন মলিক, শেখ, কোরেশি, মির্জা, খানসহ অনেক সম্মানিত বংশধরদের উত্তরাধিকারগণ। যে গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছেন কুতবে আলম শায়খুল আরব ওয়াল আযম শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর দুইজন প্রথম স্থরের খলিফা। হযরত মালানা শায়েখ সৈয়দ তখলিছ হোসাইন ও হযরত মাওলানা শায়েখ সৈয়দ আব্দুল খালিক (রহ.)। যে গ্রামে বারবার আগমন করেছেন হযরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.) এবং তাঁর সুযোগ্য সাহেবজাদাগণ। এই স্বর্ণগর্ভা গ্রামেই জন্ম গ্রহণ করেন হাফিজ মাওলানা মুতিউর রহমান।   
 
 
১৯৪১ খৃস্টাব্দে  তিনি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত দ্বীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মুন্সি সৈয়দ আনজব আলী। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা বাড়ির মকতবে তাঁর বাবার কাছে সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে সৈয়দপুর হাফিজিয়া মাদরাসায় ছরফ বা নাহু শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর সিলেটের অন্যতম শিক্ষা কেন্দ্র  ঢাকা উত্তর রানাপিং হোসাইনিয়া মাদরাসায় দীর্ঘ কয়েক বছর শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষা অর্জনে দেশের প্রখ্যাত ইসলামি বিদ্যালয় দারুল উলম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হয়ে ধারাবাহিকভাবে সেখান থেকেই দাওরায়ে হাদীস পাশ করেন।
 
 
১৯৭৬ সালে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসাইনিয়া আরাবিয়া দারুল হাদীস মাদরাসায় শিক্ষক পদে যোগদান করেন। ১৯৮২ সালে এই মাদরাসার শিক্ষাসচিব পদে প্রায় ছয় বছর তিনি তাঁর দায়িত্ব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেন। মাদরাসার সাবেক মুহতামিম হাফিজ মাওলানা শেখ সৈয়দ মনজুর আহমদ-এর শারীরিক অসুস্থতায় তাঁকে নায়বে মুহতামিম হিসেবে নির্বাচন করা হয় । ১৯৮৮ সালে  হাফিজ মাওলানা শেখ সৈয়দ মনজুর আহমদ সাহেবের ইনতেকালের পর মাদরাসার কর্ণধার তথা মুহতামিম হিসেবে তিনি দায়িত্ব পান। মৃত্যুর সময় পর্যন্ত প্রায় ২৮ বছর তিনি মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করেন।
 
তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। চলে গেছেন পরম প্রিয় প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্যে। সবাই না ফেরার দেশে যায়। যেতে আমরা বাধ্য। সেই দেশের সুখ-শান্তি-সম্পদ-সমৃদ্ধি আমরা কজনেই বা অর্জন করি? মাওলানা মুতিউর রহমান সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস, তিনি এসব অর্জন করে গেছেন। তিনি নিশ্চিত জান্নাতের বাসিন্দা হবেন। দোয়া করি, আল্লাহ তাঁর বিদেহি রুহের দরজা বুলন্দ করুন।
 
হযরতের শানে আমাদের শ্রদ্ধা। টোটালবাংলা২৪ ডটকম পরিবারের স্মরণাঞ্জলি।
 
লেখক : মরহুমের ছাত্র এবং অধ্যক্ষ, সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামসিয়া আলিম মাদরাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।