আজ বৃহস্পতিবার 9:48 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

মাওলানা মাসঊদের ফতোয়া : একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

Musafir Abdus Salam

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:০৮ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:১৪ এএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

(লেখাটি পড়ে কিছু বিষয় পরিস্কার হলাম গ্রান্ড মুফতি সম্পর্কে, আপনিও জানতে পারবেন লাখো ফতোয়ার শানে নুযুল, আর ব্যরিস্টার পুত্রের মহাকারিশমা, প্রাচ্যবিদদের বিনিয়োগটা জায়গামতোই হয়েছে। প্রাচ্যবিদ কারা জানতে পড়ুন: প্রাচ্যবিদদের দাঁতের দাগ” বইটি)

===== =========== ===============


ওআইসি মহাসচিব আয়াদ আমীন মাদানী দু` দিনের সফরে গত ১৩ জিলকদ/১৭ আগস্ট বুধবার বাংলাদেশে এসেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বা সহযোগিতায় পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় হোটেল সোনারগাঁও-য়ে তাঁর সংগে আমার উস্তাদ মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেব একটি মিটিং করেছেন। তাতে হুযুর তাঁর প্রকাশিত `সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী` ফতওয়াটি নিয়ে মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মহাসচিব সাহেবের এক প্রশ্নের উত্তরে হুযুর বলেছেন, `অবশ্য বিভিন্ন দেশের ধর্মগুরুর কাছে এর সংবাদ পৌঁছেছে। যাদের মধ্যে ভ্যাটিকান পোপও আছেন। তিনিও বিষয়টির পজেটিভ আলোচনা করেছেন। আমার ইচ্ছা এ বিষয়ে মক্কা ও মদীনা শরীফের ইমামদের নিয়ে একটি মহা সম্মেলন আয়োজন করা। যাতে দালাইলামা এবং পোপ তাদেরকেও দাওয়াত দেওয়ার চিন্তা আছে।`

 

 

মুসাফির আবদুস সালাম, তারই ফেসবুক স্ট্যাটাস এটি

 

 

[ `ভ্যাটিকান সিটি` রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের গির্জার বিশ্ব সদর দফতর। এটি ইতালির রোম শহরের ভিতরে অবস্থিত। `পোপ` হলেন সমগ্র পৃথিবীর ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু। `পজেটিভ আলোচনা` মানে সমর্থনসূচক বক্তব্য। আর `দালাইলামা` হলেন তিব্বতের বৌদ্ধদের আধ্যাত্মিক নেতা। তিব্বত দেশটি হিমালয় পর্বতের উত্তরে অবস্থিত।] শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আরোও বলেছেন, `আমার এ-ও ইচ্ছা আছে যে, জেদ্দা থেকে আমেরিকা যাব এবং ফতওয়াটির একটি কপি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের হাতে হস্তান্তর করবো।`

 

হুযুরের পুত্র জুনুদ উদ্দীন মাকতূম একজন ব্যারিস্টার। লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে তিনি ব্যারিস্টার হয়েছেন। আলোচ্য মিটিংয়ে তিনি পিতার সংগে ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি ওআইসি মহাসচিবকে বলেছেন - `মহাসচিব মহোদয়ের অনুমতি হলে ওআইসির কাছে একটা প্রস্তাব তুলে ধরতে চাই। তা হলো, আমেরিকার এক নামি ইউনিভার্সিটির অধীনে বিশ্ববিখ্যাত প্রফেসর ব্রুস হোফম্যান-এর তত্ত্বাবধানে কাউন্টার টেররিজমের উপর আমি বিশেষ একটি কোর্স করেছি। আমার ক্ষুদ্র প্রস্তাবটি হলো, গোটা মুসলিম বিশ্বের আমার বয়সি যুব সমাজকে নিয়ে ওআইসির অধীনে ও নেতৃত্বে কিছু করা যায় কি না। আমি এ বিষয়ে নগণ্য খাদেম হিসেবে কাজ করতে পারবো।`


[গুগল উইকিপিডিয়ারর বিবরণ মতে ব্রুস হোফম্যান-এর জন্ম ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে। তিনি রেন্ড ওয়াশিংটন কর্পোরেশন-এর ডাইরেক্টর এবং সন্ত্রাস ও বিদ্রোহ দমন বিষয়ে মতামত দানের জন্য বিশেষভাবে পরচিত। রেন্ড কর্পোরেশনটি প্রাচ্যবিদদের চিন্তাচেতনার প্রচার-প্রসারের একটি সংস্থা। প্রাচ্যবিদ ওই সকল স্বঘোষিত অমুসলিম গবেষকদের বলা হয় যারা ইসলামকে নিকৃষ্ট ও কলুষিত সাব্যস্ত করার হীন উদ্দেশ্য থেকে কুরআন, হাদীস ও ইসলামী জ্ঞানবিজ্ঞানের গবেষণা করেন। ব্রুস হোফম্যান জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির এডমন্ড উ ওয়ালশ ফরেন সার্ভিস স্কুলে নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণারর পরচালক। তিনি সন্ত্রাস ও বিদ্রোহদমন গবেষণার একজন বিশেষজ্ঞ। ব্রুস হোফম্যান-এর পরিচয় জানলাম। আর `কাউন্টার টেররিজম` অর্থ সন্ত্রাস দমন।]

 

`পাথেয়` পত্রিকা থেকে এক এক করে উপরের উদ্ধৃতিগুলো দেখিয়ে একজন আমাকে বললেন, আপনার উস্তাদ `সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী` যে ফতওয়া প্রকাশ করেছেন, ফতওয়াটি কোন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী? কারণ ভ্যাটিকানের পোপ, তিব্বতের দালাইলামা, আমেরিকা, জাতিসংঘ, ব্রুস হোফম্যান ও তাদের অনুসারী পক্ষগুলো ইসলামের জিহাদকে সন্ত্রাস ও জংগীবাদ অভিধায় অভিহিত করে। সন্ত্রাস ও জংগীবাদ শব্দ দ্বারা তারা জিহাদকে বুঝায় এবং জংগী ও সন্ত্রাসী বলে বুঝায় মুজাহিদগণকে। পক্ষান্তরে ইসলাম ও মুসলমানদের দৃষ্টিতে উপরিউক্ত তারা হল সন্ত্রাসপক্ষ এবং তাদের কর্মকাণ্ড হলো সন্ত্রাস।


দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত একটি লেখার সম্পাদিত রূপের অংশবিষেশ গত ২৭ জিলকদ বুধবার-এর রোযনামচায় উল্লেখ করা হয়েছে।- `উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ যখন কোনো মুসলিম দেশের উপর আগ্রাসনের থাবা বিস্তার করে, তখন তারা জিহাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে, এবং জানবায মুজাহিদীন তাদের দমন করার জন্য সন্ত্রাসবাদ,মৌলবাদ ও জংগিবাদের অপবাদ আরোপ করে। কারণ, তারা জানে একমাত্র জিহাদই পারে বিপর্যস্ত উম্মাহর জীবনে প্রাণের স্পন্দন ফিরিয়ে আনতে৷`

 

তিনি আমাকে বললেন, আপনি ক আপনার উস্তাদ-পুত্র ব্যারিস্টার জুনূদ উদ্দোন মাকতূম-এর উক্তিটি লক্ষ্য করেছেন- `মহাসচিব মহোদয়ের অনুমতি হলে ওআইসির কাছে একটি প্রস্তাব তুলে ধরতে চাই। তা- হলো, আমেরিকার এক নামি ইউনিভার্সিটির অধীনে বিশ্ববিখ্যাত প্রফেসর ব্রুস হোফম্যান-এর তত্ত্বাবধানে কাউন্টার টেররিজমের উপর আমি বিশেষ একটি কোর্স করেছি। আমার ক্ষুদ্র প্রস্তাবটি হলো, গোটা মুসলিম বিশ্বের আমার বয়সি যুব সমাজকে নিয়ে ওআইসির অধীনে ও নেতৃত্বে কিছু করা যায় কি না। আমি এ বিষয়ে নগণ্য খাদেম হিসেবে কাজ করতে পারবো।`

 

তারপর বললেন, তাহলে কি জিহাদ দমন করার উপর কোর্স করার জন্যই ফরীদ মাসঊদ বুঝেশুনে তার ছেলেকে আমেরিকায় প্রেরণ করলেন না? ছেলে ব্যারিস্টার মাকতূম কি প্রফেসর ব্রুস হোফম্যান-এর তত্ত্বাবধানে জিহাদ দমন করার বিশেষ কোর্স সমাপ্ত করে গোটা মুসলিম বিশ্বে জিহাদ দমন করার মিশন নিয়েই ফিরলেন না? এখানে অন্য কোন তাবীল ও ব্যাখ্যা করার সুযোগ আছে কি? আপনার উস্তাদের আলোচ্য ফতওয়াটি গোটা মুসলিম বিশ্বে আমেরিকা ও ব্রুস হোফম্যান-এর হীন লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়ার আরো কোন প্রমাণের প্রয়োজন আছে? তাছাড়া এটি যদি `ক্ষুদ্র প্রস্তাব`, তাহলে বৃহৎ প্রস্তাব যে কী হতে পারে, তা কল্পনা করলেও গাঁ শিউরে ওঠে।

 

পুত্র ব্যারিস্টার মাকতূম-এর প্রস্তাব শোনে ওআইসি মহাসচিব কি করলেন, চাচা ও শিক্ষক আরীফ উদ্দীন মারুফ-এর ভাষায় তা-ও শুনুন- `মহাসচিব মহোদয় তার প্রস্তাবটি খুবই গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। পাশে বসা দু`ভাষি পিএস-কে তিনি তার ব্যাক্তিগত ইমেইল ও যোগাযোগ নম্বর দেওয়ার জন্য বলেন। বিশেষভাবে তার সাথে যোগাযোগ রাখতে বলেন।`

 

অবশ্য গোটা মুসলিম বিশ্বের যুব সমাজকে নিয়ে ব্যারিস্টার জুনুদ উদ্দীন মাকতূম প্রফেসর ব্রুস হোফম্যান-এর নগণ্য খাদেম হিসেবে জিহাদ দমনে কী শহযোগিতা করেছেন, করছেন ও করবেন, তা এখন বলতে পারছি না।


আমাকে সম্বোধন করে উচ্চারিত তার সর্বশেষ উক্তি ছিল, কিন্তু লাভ হবে না। ভ্যাটিকানের পোপ, তিব্বতের দালাইলামা, আমেরিকা, জাতিসংঘ, ব্রুস হোফম্যান ও তাদের অনুসারী পক্ষগুলোকে সন্তুষ্ট করা কখনো আপনার উস্তাদের জন্য বর্তমান অবস্থায় সম্ভব হবে না। কারণ আল্লাহ তা`আলা পরিষ্কার ইরশাদ করেছেন–


و لن ترضى عنك اليهود و لا النصارى حتى تتبع ملتهم، قل إن هدى الله هو الهدى، و لئن اتبعت أهواءهم بعد الذي جاءك من العلم ما لك من الله من ولي ولا نصير.


অর্থ. ইহুদী ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি ওদের ধর্মের অনুসারী হয়ে যান। আপনি বলে দিন, `নিশ্চয় আল্লাহর বাতলে দেওয়া পথই সরল পথ।` আর যদি আপনি ওদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করেন, সেই জ্ঞানের পরও যা আপনার নিকট এসেছে, তবে আল্লাহর মোকাবেলায় আপনার কোন বন্ধু থাকবে না এবং সাহায্যকারীও না।

 

[০৫ জিলহজ ১৪৩৭হি. ২৪ভাদ্র ১৪২৩ বা. ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ঈ. বৃহস্পতিবার ] (রোযনামচার পাতা থেকে)
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী ফতওয়া


—————————————————
Copy From: মাওলানা সফিউল্লাহ ফুআদ।

 

নোট : Musafir Abdus Salam-এর এটি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস। এই স্ট্যাটাসটি হুবুহু ছাপা হলো। শুধু শিরোনামটি সম্পাদকীয় পর্ষদের দেওয়া। স্ট্যাটাসে বিভিন্ন ধরনের ভুল-ত্রুটি, তথ্যের সত্য-মিথ্যা থাকলে থাকতেও পারে। এজন্য সম্পাদক দায়ী নন।