আজ বৃহস্পতিবার 11:07 am21 September 2017    ৫ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

বেফাক মহাসচিব নেই, শুক্রবার দশটায় দশ অাসমান ভেঙে পড়লো!

তাকরিম হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৪:২৩ এএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৬ শনিবার | আপডেট: ০৪:৩০ এএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৬ শনিবার

বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী (রহ.)

বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী (রহ.)

শুক্রবার (১৮ নভেম্বর ২০১৬) সকাল দশটা পাঁচ মিনিট। কওমি ঘরানার দেশি-বিদেশি কোটি মানুষের মাথায় যেন দশ আসমান ভেঙে পড়লো! আসমান তো সাতটি। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর মহাসচিব চলে গেলেন না ফেরার দেশে! এ খবর শোনার পর আসমান কয়টি, তা কি হিসাব করার সময় আছে?

তাঁর ইনতেকালে মুসলিম বিশ্বের আসমান কাঁদছে। জমিন কাঁদছে। অনেক ‌কমিন মানুষও অশ্রুসজল ভাব দেখিয়েছে। বেঁচে থাকতে সেই কমিনেরা কওমি মাদরাসা নিয়ে নানামুখী কেরামতি কাণ্ড ঘটিয়ে সুমহান এই মানুষটিকে ডিস্টার্বের পর ডিস্টার্ব করেছে। বারবার তাঁর অগ্রযাত্রায় পথের বড় কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কমিনদেরও বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজায় অংশ নিতে দেখা গেছে। আপাদমস্তক ভণ্ডামিতে ভরা দরদমাখা (?) বক্তৃতা-বিবৃতিও দিয়েছে। তাহলে বলুন, দশ আসমান আমাদের মাথায় ভেঙে পড়েনি?

আমরা কারা? আমরা বেফাকের ফসল। একশ` ভাগ ভেজাল এবং ভণ্ডামিমুক্ত বেফাকের ফ্রেশ সন্তান। আমাদের এক মুরুব্বি আল্লামা নূরুদ্দীন গওহরপুরী, আরেক মুরুব্বি শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক এবং আরেক মুরুব্বি মুফতি ফজলুল হক আমিনীর (রহ.) পর শুক্রবার হারালাম বেফাকের প্রাণ মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদীকে। এভাবে একের পর এক মুরুব্বি হারিয়ে আমরা হয়ে পড়ছি অসহায়। মুরুব্বিহারা বেফাকের এতিম সন্তানেরা কীভাবে পথ চলবে? আমরা তো দেখছি, কওমি মাদরাসাগুলোর সামনে শুধুই অন্ধকার। এক বিন্দু আলোও চোখে ভাসছে না। সুরঙ্গের শেষ মাথায়ও দেখা যাচ্ছে শুধুই অন্ধকার।

রাত যত গভীর হয়, সকালের সূর্যটা ততই তাড়াতাড়ি আলো হয়ে পৃথিবীতে ভেসে ওঠে। বেফাক মহাসচিবের ইনতেকালে কওমি কোটি প্রাণে গাঢ় অন্ধকারের ধাক্কা লাগলেও, আমরা ডাক দিচ্ছি, জেগে ওঠ ভাই। প্রয়োজনে কমিনদের বিরুদ্ধে শুরু হবে লড়াই। এরপরও বেফাককে তার নিজস্ব গতিতে চালিয়ে নিতে হবে। বেফাকে ডিজিটাল গতি আসুক-তাতে আপত্তি নেই। বেফাক মহাসচিবও তা চাইতেন। বেফাকের চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফী বেঁচে আছেন। সরব এবং সক্ষম আছেন বেফাকের আরও দুই কাণ্ডারি আল্লামা আশরাফ আলী এবং আল্লামা আনোয়ার শাহ। আছেন আরও অনেকেই। সাহস হারানোর কারণ নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়ায় বলি, মাবুদ, তুমি আমাদের মালিক। আমাদের সম্পদ বেফাকের মালিকও তুমি। তোমার কুদরতি ক্ষমতায় বেফাক তথা কওমি মাদরাসাগুলোকে হেফাজত করো। আমাদের সকল মুরুব্বিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করো।


না ফেরার দেশে চলে গেলেন মাওলানা আবদুল জব্বারা জাহানাবাদী। স্মৃতি-বিস্মৃতির অফুরন্ত এক কায়া রেখে গেছেন। তিনি আরও হাজার বছর বেঁচে থাকবেন প্রতিটি কওমি মাদরাসায়, কওমিসন্তানদের চিন্তায়-চেতনায়-স্মরণে-বরণে। এতে কোনোই সন্দেহ নেই।

 

befaq

বেফাক মহাসচিব গাড়ি থেকে নেমে...

জীবনের এক ঝলক


বাগেরহাট জেলা। কঁচুয়া থানা। সহবতকাঠি গ্রাম। সেই গ্রামেই ১৯৩৭ সালের ২৯ আগস্ট তাঁর জন্ম। তাঁর পরিবার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার হিসেবেই গণ্য। পিতা ছিলেন মরহুম শেখ নাছিম উদ্দীন। মায়ের নাম মনোয়ারা বেগম। তিনি পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বড়কাটারা আশরাফুল উলুম মাদরাসায় শিক্ষাজীবন শেষ করে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে যুক্ত করেন। পরে বিভিন্ন সময় ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসা, যাত্রাবাড়ির জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়াতেও শিক্ষকতা করেছেন। যাত্রাবাড়ি মাদরাসার তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, মৃত্যুর সময় তিন মেয়ে এবং এক স্ত্রীর পাশাপাশি তিন ভাই এবং এক বোনও তিনি রেখে গেছেন।

মৃত্যুর আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত সপ্তাহে তাঁকে প্রথমে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ডাক্তারদের পরামর্শে হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে নিয়ে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানেই তিনি ইনতেকাল করেছেন। আলোচিত-সমালোচিত মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ অভিযোগ করেছেন, বেফাক মহাসচিবকে কাঙ্ক্ষিত মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।


মরহুমের শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, পীরজি হুজুর (রহ.)-এর মতো মনীষীগণ। মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ (রহ.)-এরও স্নেহধন্য ছাত্র ছিলেন। বেফাকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ঢাকা সিটির সেক্রেটারি ছিলেন।


বেফাক মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি অনেক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। অনেক মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইসলামবিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। রাজপথে তওহিদি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সময় জোরদার আন্দোলনও গড়ে তুলেছেন। মাস দুয়েক আগে বেফাকের উদ্যোগে একসঙ্গে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদবিরোধী মানববন্ধন সফলেও তাঁর বিশাল অবদান ও বড় ভূমিকা ছিল।


আবদুল জব্বার জাহানাবাদী নামটির সঙ্গে আজকের লাখো আলেম-তরুণের পরিচয় ঘটে সেই ছোট্টবেলা থেকেই। কীভাবে? কওমি মাদরাসাগুলোর জন্য বেফাক সিলেবাসের বাংলা বইগুলোয় শিশু-কিশোরদের উপযোগী তাঁর অনেক লেখা ছাপা হয়েছে, পড়ানো হয়েছে।


তাঁর লেখা অনেক সময়োপযোগী বইও প্রকাশ হয়েছে। যথা- ১. ইসলাম ও আধুনিক প্রযুক্তি, ২. মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, ৩. ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসন ও তাদের গৌরবময় ইতিহাস, ৪. ইসলামে নারীর অধিকার ও পাশ্চাত্যের অধিকারবঞ্চিত লাঞ্ছিত নারী।

ব্যক্তিজীবনে তিনি নিরহঙ্কার মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে খুব অল্প সময়ে মিশে যেতে পারতেন। নম্র ও ভদ্র হিসেবে অনেক সুনাম ছিল। জানা যায়, মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তাঁর নামে কোন ব্যাংক একাউন্ট ছিল না। চা রুটি এবং ‍নুনতা বিস্কুট খেয়ে বেফাককে শক্ত হাতে ধরে রেখেছিলেন।

তাঁর সম্পূর্ণ চিন্তা-চেষ্টা, ধ্যান-জ্ঞান নিয়োজিত ছিল কওমি মাদরাসার উন্নতি, অগ্রগতি ও সাফল্য অর্জনে। কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি নিয়ে অনেক সময় অনেকে কাজ করেছেন। এই কাজটি সবার আগে তিনিই বেফাকের সাবেক চেয়ারম্যান আল্লামা নুরুদ্দীন গহরপুরী (রহ.)-এর নির্দেশে শুরু করেন। কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি আমরা কেন চাই নামে তিনি একটি বইও লিখেছেন। সরকারি দফতরে এ দাবিতে তিনিই প্রথম কাগজপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে প্রস্তাবিত কওমি সনদের সিলেবাস তাঁর হাতেই তৈরি। কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির তিনিই প্রথম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

‘বেফাক` নামটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই চোখে ভেসে ওঠে তাঁর প্রিয়মুখ। বেফাকের প্রতিটি ইট-বালুকণায় রয়েছে তাঁর অবদান। অনেকটা এ রকম যে, বেফাক মানেই আবদুল জব্বার, আবদুল জব্বার মানেই বেফাক। কারণ জানতে চান? একটিই কারণ, তাঁর দিনরাত একটিই ফিকির ছিল, তা হলো বেফাক।

তাঁর ইনতেকালের পর বেফাকের চেয়ারম্যান ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা আহমদ শফী বলেছেন, মাওলানা আবদুল জব্বারের ভূমিকা, অবদান ইতিহাসে সোনালি হরফে লেখা থাকবে।

বেফাকের ভাইস চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়ার পৃন্সিপাল আল্লামা আনোয়ার শাহ বলেছেন,  তিনি বেফাককে দক্ষতার সঙ্গে শক্ত হাতে গড়ে তুলেছেন। তাঁর তুলনা শুধু তিনিই।


বিরহে তোমার শোকাঞ্জলি

বেফাক মহাসচিবের বিরহে শুধু কওমি অঙ্গন নয়, সারাদেশের প্রতিটি সচেতন মুসলিম জনতা শোকাহত। শোকের ঢেউ গিয়ে লেগেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত তাঁর অসংখ্য শিষ্য-ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীর মধ্যেও। তাঁর ইনতেকালের সংবাদ পেয়ে শোক প্রকাশ করেছেন দেশি-বিদেশি বহু গুণী-জ্ঞানী-মনীষী।

বাংলাদেশ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। সরকারি দলের কয়েবকজন এমপিও শোক প্রকাশ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে তাঁর জানাজায় শরিকও হয়েছেন। শোক বার্তায় তিনি মন্তব্য করেছেন, মাওলানা আবদুল জব্বার একজন ত্যাগী ও কর্মবীর মানুষ ছিলেন। তিনি আজীবন কওমি মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন, অগ্রগতির চেষ্টা করেছেন। কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি তাঁর জীবনের একটি স্বপ্ন ছিল। আশা করি, আল্লাহ তায়ালা তাঁর স্বপ্ন ও আশাকে সফল করবেন। বেফাক মহাসচিব অসুস্থ হয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবরও নিয়েছিলেন।

তাঁর ইনতেকালে কওমি অঙ্গনে শোকের ছায়া পড়েছে বেশি। তিনি দেশের লাখ লাখ মাদরাসা ছাত্র-আলেম-ইমাম-খতিব-পীর-মাশায়েখকে কাঁদিয়ে আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের মূর্তপ্রতীক মাওলানা আবদুল জব্বার ছিলেন একজন শেকড় সন্ধানী মহামানুষ। তিনি বাংলাদেশে দেওবন্দি চেতনার যোগ্য-দক্ষ-দূরদর্শী-সাহসী-ত্যাগী মুখপাত্র ছিলেন। ছিলেন পরিচ্ছন্ন আল্লাহভীরু খাঁটি মানুষ।

তাঁর মৃত্যুতে টোটালবাংলা২৪ ডটকম-এ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দল ও সংগঠন এবং বহু বরেণ্য ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। যেমন-

বেফাকের চেয়ারম্যান ও হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফী, বেফাকের ভাইস চেয়ারম্যান ও জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জের পৃন্সিপাল আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ, মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমিরুল উমারা যাত্রাবাড়ি মাদরাসার পৃন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম, তাঁর দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মুফতি মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস, বেফাকের ভাইস চেয়ারম্যান ও ফরিদাবাদ মাদরাসার পৃন্সিপাল মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, খেলাফত আন্দোলনের আমিরে শরিয়ত মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ, শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুযুল হক, বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টারের ডিরেক্টর আহমদ আবু বকর, খেলাফতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী ও সদস্যসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী ও মহাসচিব মুফতি কামরুল ইসলাম ভূইয়া, জামিয়া ইমদাদিয়া কল্যাণপুরের পৃন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, সিলেট গওহরপুর মাদরাসার পৃন্সিপাল ও বেফাকের নির্বাহী সদস্য মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, জাতীয় উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা দীন মোহাম্মাদ কাসেমী ও মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বরেণ্য আলেম মাওলানা সাজিদুর রহমান, সুনামগঞ্জের সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামসুল উলুম মাদরাসার পৃন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ প্রমুখ।


বেফাকের প্রেস রিলিজ থেকে

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-বেফাক টোটালবাংলা২৪ ডটকম-কে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে জানায়, বেফাক মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী শুক্রবার (১৮ নভেম্বর ২০১৬) সকাল দশটা পাঁচ মিনিটে ইনতেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন। মৃত্যুর সময় তিনি ঢাকার হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ১৯৭৮ সালে গঠিত দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর প্রধান শিক্ষাবোর্ড বেফাকের শুরুর সময় থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নানা পদে বিভিন্ন সময় তিনি কাজ করেছেন। ১৯৯২ সাল থেকে মোট ২৭ বছর বেফাকের মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি মাদরাসা শিক্ষা সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত বহু বইয়ের রচনা ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বেফাকের অাইটি ইনচার্জ মাওলানা ফরহাদ হাসান প্রেস রিলিজটি পাঠিয়েছেন।



জানাজায় ইমাম আল্লামা আশরাফ আলী

তাঁর জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বেফাকেরই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এশার নামাজের পর রাত ৮টায় জানাযা শুরু হয়। এতে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আল্লামা মাহমূদুল হাসান, গওহরডাঙ্গা মাদরাসার পৃন্সিপাল মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা শেখ আবদুল্লাহ, আল্লামা আহমদ শফীর প্রতিনিধি মাওলানা মুনির আহমদ, আল্লামা আনোয়ার শাহ`র প্রতিনিধি মাওলানা আবদুর রশিদ, কওমীনিউজ সম্পাদক মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম প্রমুখ।



দিনভর আলোচনা-বহু বৈঠক, শেষমেশ সিদ্ধান্ত, দাফন হবে বাগেরহাটে

মরহুমের দাফন হবে বাগেরহাটের নিজ গ্রাম সহবতকাঠীতে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বেফাক অফিসে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রতিবেদন তৈরির সময় বায়তুল মোকাররমে জানাজা শেষে লাশ বাগেরহাটের পথে ছিল। তাঁর দাফন কোথায় হবে, বাগেরহাটে না বেফাক অফিসের কোনো জায়গায়- শুক্রবার দিনভর এ নিয়ে নানা আলোচনা হয়। বিভিন্ন বৈঠকও হয়। শেষমেশ শীর্ষ আলেমগণ বাগেরহাটের নিজ গ্রামে দাফনের সিদ্ধান্ত নেন। মরহুমের পূর্ব-ইচ্ছার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্রের দাবি।


যখনই দেখা হয়েছে, তাঁর কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখেছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেফাক মহাসচিবের জানাজায় শরিক হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রাত ৮টায় বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত জানাজার আগে এক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাওলানা আবদুল জব্বারের সঙ্গে আমার পরিচয় অল্প দিনের হলেও তাঁর পাণ্ডিত্য, শিক্ষাবিষয়ক চেতনা ও মানবিক গুণাবলির প্রতি আমি মুগ্ধ। তাঁর সঙ্গে আমার যখনই দেখা হয়েছে, আমি তাঁর কাছে কিছু না কিছু বিষয় শিখেছি। তিনি ইসলামকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।


ইনডিয়া থেকে শোক ও দেওবন্দে দোয়া

তাঁর ইনতেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানি এবং সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানি। তাঁরা বলেন, বেফাক মহাসচিবের ইনতেকাল এক অপূরণীয় ক্ষতি।

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে টোটালবাংলা২৪ ডটকম-এর নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল হাদিসে দোয়া অনুষ্ঠান হয়েছে। দারুল হাদিস ক্লাসের সব ছাত্রকে নিয়ে দোয়া পরিচালনা করেন দারুল উলুম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস ও সদরুল মুদাররিসিন মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরী।

মাগরিব নামাজের পর দারুল হাদিসে হজরত পালনপুরী ক্লাস শুরু করার পূর্বেই বেফাক মহাসচিবের ইনতেকালের সংবাদ দেন। পরে ক্লাসের প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকস্তব্ধ পরিবারের সাবরে জামিল আশা করে দোয়া করেন।



চরমোনাই পীরের শোক ও দলীয় অফিসে দোয়া

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম এবং তাঁর দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ গভীর শোক প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন। এতে তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষা সম্প্রসারণ ও বেফাকের মাধ্যমে সকল কওমি মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষককে ঐক্যবদ্ধ এবং অভিন্ন রাখতে মরহুমের অবদান অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা শোকস্তব্ধ ফ্যামেলিকে গভীর সমবেদনা জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অফিসে শুক্রবার জুমার নামাজের পর মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। এতে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ অংশ নেন।



ইসলামী ঐক্যজোটের শোক

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী ও মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ এক শোকবার্তায় বলেন, নিঃস্বার্থ-অবিচল-নিবেদিতপ্রাণ, প্রবীণ আলেম, বেফাকের কিংবদন্তিতুল্য মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী (রহ.) ছাড়া বেফাক-এর ইতিহাস অসম্পূর্ণ। তিনি সারাজীবন বেফাককে আগলে রেখেছেন। তিলে তিলে এটিকে গড়ে তুলেছেন মহীরুহরূপে।


গওহরডাঙ্গা বেফাক ও খাদেমুল ইসলামের শোক

বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া (গওহরডাঙ্গা বেফাক) ও খাদেমুল ইসলাম জামায়াতের চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমীন পৃথক দুই বিবৃতিতে শোক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতি একজন মেধাবী, ত্যাগী, পরিশ্রমী অভিভাবক আলেমকে হারাল। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের সু উচ্চ মর্যাদা দিন।



জাতি ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে এক কিংবদন্তিকে হারালো : ইশা ছাত্র আন্দোলন

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর সভাপতি নূরুল ইসলাম আল-আমীন, সহ-সভাপতি জিএম রুহুল আমীন ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ ফজলুল করীম মারুফ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মহান এই আলেম এদেশে ইসলামি শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন। তাঁর বিয়োগে ব্যথিত দেশের সকল ইসলামপ্রিয় মানুষ। তাঁর শূন্যতা পূরণ হওয়ার মত নয়।