আজ বৃহস্পতিবার 7:57 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

‘হেলিকপ্টার’

বিরল প্রজাতির মাছ

তরিকুল ইসলাম

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৯:২৯ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০২:০৮ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

বিরল প্রজাতির মাছ

বিরল প্রজাতির মাছ

বিষক্ত রাক্ষস মাছ ভেবে তিনি মাছটি জাল থেকে ছাড়িয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে দূরের কোথাও ফেলে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময়ে পথিমধ্যে এই বিরল প্রজাতির মাছটি চোখে পড়লে দেখা হয় আব্দুর রশিদের।

এ ব্যাপারে মাছ ধরা ব্যাক্তিটির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই ধরনের মাছ আগে কখনো দেখননি। মাছটির দৈহিক আকার আকৃতি দেখিই তিনি মাছটির নাম দিয়েছেন গ্যাংগ্রীন ট্যাংরা। এই মাছটির বিষাক্ত কাঁটা কারও দেহে ফুটে গেলে সেখানে পঁচন ধরে গ্যাংগ্রীন রোগ হয় বলেও তিনি জানান। তাই মাছটিকে দূরের কোন গর্তে ফেলে দিতে যাচ্ছিলেন।

মাছটি দেখতে অনেক খানি ট্যাংরা মাছের মতই। তবে এই মাছটির গায়ে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত সারা দেহে ডোরাকাটা দাগ। মাছটির মাথার উপর রয়েছে দুটি চোঁখ। এর মুখের অবস্থান মাথার একেবারের নিচের অংশে। শুধু তাই নয় মাছটির দেহ খুবই ধারালো ও কুমিরের মত কঠিন শক্ত, মুখটি দেখতে অনেক খানি কাতল মাছের মতই।

এই বিরল প্রজাতির মাছ এলাকাবাসী আগে কখনো দেখেননি। তাই মাছটি কোথা থেকে আসল এবং এর প্রকৃত নাম কি? এসব বিষয় নিয়ে নানান কৌতুহল জন্মেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। একেক জন একেক নাম দিচ্ছেন। কেউ বলছেন হেলিকপ্টর মাছ আবার কেউ বা বলছেন রকেট মাছ, কেউ বলছেন গ্যাং গ্রীন ট্যাংরা, কেউ বলছেন ডব্লিউ বুশ, কেউ বা বলছেন টাইগার ট্যাংরা আবার কেউ বলছেন সার্কাস ফিস। তবে মাছটিকে যে নামেই ডাকুক না কেন মাছটি এলাকায় একেবারেই নতুন সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণ মিলেছে।

মাছটিকে এলাকার প্রবীণ ব্যাক্তিরা বলছেন, এলাকায় এধরনের মাছ আগে কেউ কখনো দেখেনি। এইবার অতিবৃষ্টির ফলে এলাকায় বন্যায় নিমজ্জিত হয়ে নদী থেকেই মাঠের পানিতে ঢুকে পড়েছে। তাই মাছটির প্রকৃত নাম কি তা তারা সঠিক ভাবে জানেন না।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিরল এ প্রজাতির মাছটির বৈজ্ঞানিক ইংরেজী নাম Algae Clener। Algae শব্দের অর্থ শেওলা আর Clener শব্দের অর্থ পরিষ্কারক অর্থাৎ শেওলা বা ময়লা পরিষ্কারক মাছ। মাছটি জলজ উদ্ভিদের গায়ের শেওলা খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকেন। মাছটির আদি নিবাস আমেরিকা ও সোভিয়েতের লোনা পানিতে। একটি পূর্ণাঙ্গ এ্যলগে ক্লিনার আকারে দুই ফিটের মত লম্ব হয়। ওজনে প্রায় ১০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা পনের বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। কয়েক যুগ আগে বাংলাদেশের সৌখিন প্রাণী প্রেমিকরা শখের বসে মাছটিকে একোরিয়ামে পুষতে শরু করেন। মাঝে মধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রেও নাকি মাছটির দেখা মেলে।

আকিজ কলেজের প্রাণী বিভাগের শিক্ষিকা হিরা আক্তারের নিকট মাছটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ধর্নাঢ্য পরিবারের লোকজন শখের বসে মাছটিকে একুরিয়ামে পুষে থাকেন। তাদের কাছ থেকে শুনেছি মাছটির নাম (Succer) সাকার।’