আজ বৃহস্পতিবার 9:57 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

বিজ্ঞানের সব শাখার শুরু করেছেন কোনো না কোনো নবি-রাসুল : দেহনাভি

নিজস্ব সাংবাদিক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:০৩ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ রবিবার

সেমিনারের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্বাস ওয়ায়েজি দেহনাভি, আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি (ইরান)-এর কান্টৃ ডিরেক্টর প্রফেসর ড. হাসান আরিফ আনসারি, আলহাজ মো: ইসমাইল মিঞা ও মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনীকে

সেমিনারের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত আব্বাস ওয়ায়েজি দেহনাভি, আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি (ইরান)-এর কান্টৃ ডিরেক্টর প্রফেসর ড. হাসান আরিফ আনসারি, আলহাজ মো: ইসমাইল মিঞা ও মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনীকে

আধুনিক এই দুনিয়ায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের যতসব বিস্ময়কর আবিষ্কার-সাফল্য আমরা দেখছি, তার সবকিছুরই শুরুটা করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসের কোনো না কোনো নবি-রাসুল। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তথা পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে গবেষণা করলেও দেখতে পাওয়া যায়, আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগেই কোরআন জ্ঞান-বিজ্ঞানের আজকের দিনের বিস্ময়কর প্রতিটি আবিষ্কার সম্পর্কে কোথাও সুস্পষ্ট, কোথাও ইঙ্গিতে বলে রেখেছে। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে এখন বিজ্ঞানের যে উন্নতি ও সাফল্যের ঝলক দেখছি, তার ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। কয়েক শ বছর ধরে মাত্র তারা সাফল্য দেখাচ্ছে। পৃথিবীর জন্ম তো কয়েক শ বছর অাগে নয়, হাজার হাজার বছর আগে থেকেই যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল আগমন করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞানেরে কোনো না কোনো শাখায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন, বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়ে গেছেন। তাঁদের অর্থ্যাৎ নবি-রাসুলদের হাত ধরেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি শাথার শুরুটা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ওয়ায়েজি দেহনাভি এসব কথা বলেন।

 

শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি .২০১৭) বিকাল ৩টায় আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি ও আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সূফীজম এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে (বাড়ড়ি-১৯, রোড-১২, ধানমন্ডি, ঢাকায়) এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আলোচ্য বিষয় ছিল ‘আম্বিয়া প্রেরণের উদ্দেশ্য ও মানবিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে তাঁদের অবদান’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ওয়ায়েজি দেহনাভি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি (কোম, ইরান)-এর কান্টৃ ডিরেক্টর প্রফেসর ড. হাসান আরিফ আনসারি, শেখ সাদী (র.) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী। সভাপতি ছিলেন আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সূফীজম-এর পরিচালক, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আলহাজ মো: ইসমাইল মিঞা।

 

মিস্টার দেহনাভি বলেন, হজরত নূহ (আ.)-এর আগে কেউ জাহাজ তৈরির কথা জানতোই না, বুঝতোই না। হজরত ঈসা (আ.) মেডিকেল সাইন্সে এতটাই বিশেষজ্ঞ ছিলেন যে, তাঁর কোনো তুলনা চলে না। হজরত দাউদ (আ.) লুহার যে ব্যবহার পদ্ধতি দেখিয়ে গেছেন, তাঁর অাগে কেউ তা ভাবতেও পারেনি। এভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখাতেই নবি-রাসুলগণ অবদান রেখে গেছেন। আমরা পবিত্র কোরআন নিয়ে গবেষণা করলে এমনি করে সব বিষয়েই দেখবো, প্রতিটি বিষয়ের শুরুটা করেছেন কোনো না কোনো নবি-রাসুল। তিনি তরুণ প্রজন্মকে কোরআন শরিফ এবং নবি-রাসুলদের বিষয়ে গবেষণা করতে আহ্বান জানান।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি (কোম, ইরান)-এর কান্টৃ ডিরেক্টর প্রফেসর ড. হাসান আরিফ আনসারি বলেন, আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটিতে ১৮০টি ফ্যাকাল্টি রয়েছে। সেখানে হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি, হাম্বলিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আরবি, ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষায়ও পড়াশোনার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ থেকে কোনো স্টুডেন্ট এই ভারসিটিতে পড়তে চাইলে তাদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে জানান।

 

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টারের কালচারাল কাউন্সেলর ড. হুসাইনি, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উপদেষ্টা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম, রহমতে আলম ইসলামমি মিশন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, জামিআ শারইয়্যা মালিবাগ-এর মুহাদ্দিস শাইখুল হাদিস মাওলানা আহমাদ মাইমূন, গাউসিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার পৃন্সিপাল মুফতি ইজহারুল হক, মুহাম্মদপুর শহীদপার্ক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নেছার আহমদ, PHP কুরআনের আলো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আবু ইউসুফ, বাডডা কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা বদীউল আলম সরকার, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি ঢাকা সিটির সেক্রেটারি মাওলানা মুহিউদ্দিন, জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়ার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা কারী মুফিজুল ইসলাম, জ্ঞানালোক-এর চেয়ারম্যান আবদুল বারী আল বাকী, আহছানিয়া মিশন বিদেশি ভাষা (চায়না) বিভাগের প্রধান মুহাম্মাদ ফারুক, হাফেজ মুহাম্মাদ জসিমমুদ্দীন ইদ্রীস, হাফেজ মুতীউর রহমান, মুফতি মুহাম্মাদ ইসমাঈল পারভেজ, হাফেজ মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা রিয়াজ আহমদ, মাওলানা হুমায়ূন কবীর, হাফেজ মাওলানা মুফতি আশিকুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মুফতি মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠান পরিচালনা ও অনুবাদকের দায়িত্বে ছিলেন হুজ্জাতুল ইসলাম আশরাফুজ জামান ও আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটির গবেষণা অফিসার মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বাদশা।

 

এতে পবিত্র কোরআনুল কারিম থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা কারি মুহাম্মাদ বুরহানুদ্দীন। নাতে রাসুল (স.) পরিবেশন করেন ইসলামি সংগীত শিল্পী মুহাম্মাদ আবদুল কাইয়ূম।


সেমিনার শেষে আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটি (কোম, ইরান)-এর কান্টৃ ডিরেক্টর প্রফেসর ড. হাসান আরিফ আনসারি ও শেখ সাদী (র.) ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি মুফতি শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সূফীজম-এর পরিচালক আলহাজ মো: ইসমাইল মিঞা ও হুজ্জাতুল ইসলাম আশরাফুজ জামান, আল মুস্তাফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভারসিটির গবেষণা অফিসার মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বাদশা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম-এর সঙ্গে তাঁর দফতরে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

 

আরও পড়ুন :

 

# লিন্ডসে লোহানের ইসলাম কবুল, ট্রাম্পের আমেরিকায় তাঁর ভয়