আজ বৃহস্পতিবার 10:00 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

রম্যরস

বাঁশময় জীবন-উন্নয়ন

মোস্তফা কামাল, নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৫:৪০ পিএম, ২ নভেম্বর ২০১৬ বুধবার

বাঁশময় জীবন-উন্নয়ন

বাঁশময় জীবন-উন্নয়ন

বাঁশ খেয়ে ঘুমানোর মজাও আলাদা। মঙ্গলবার (১ নভেম্বর ২০১৬) ভোর চারটা নাগাদ ঘুম ভেঙেছে বাঁশির সুরের অ্যালানে। ভোরের আলো-আঁধারিতে কর্মস্থলে এসেও বাঁশের খবর । বাঁশির পরই বাঁশ। ভালো । বাঁশ থেকেই তো বাঁশি বানানো হয়।


খবরটা হচ্ছে, এবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ক্যারিশমা পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনের তৃতীয় তলায় লিফটের সামনের দু’টি টাইলস উঠে না গেলে উন্নয়নের এ শিল্পকর্মটির খবর অজানাই থেকে যেত। রাতেই ধামাচাপার চেষ্টা চলেছিল। তড়িঘড়ি করে সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে ফেলার চেষ্টাটি সফল হয়নি টাইলসের ওপর থেকে সিমেন্ট সরে যাওয়ার কারণে।


আমার স্মৃতিপটে বহু বাঁশ। ‌শুনেছি জন্মের পর নাড়ি কাটা হয়েছে বাঁশের চাঁছি দিয়ে। ছোট বেলায় দেখেছি, কবিতায়ও পড়েছি- চাঁদ ওঠে বাঁশবাগানের মাথায়। দোল খেয়েছি, বাঁশের তৈরি দোলনায়। যদ্দূর জানি, সুন্নতে খতনাও সারানো হয়েছিল বাঁশের ধারালো চাঁছিতে। গ্রামের মাঠে হকিও খেলেছি বাঁশের ব্যাটে। শৈশবে মকতবে ফজরের আগেই শুরু হতো গুনে গুনে বাঁশের কঞ্চির বাড়ি।

 

মনে পড়ে, আমাদের স্কুলের পতাকার স্ট্যান্ডটাও ছিল বাঁশের। হাতের লেখা সুন্দর করাতে শিক্ষকরা বাঁশের কলমে লেখাতেন। বাঁশের টঙ ও মাচায় বসে বুট-বাদাম খাওয়ার ঘটনাও অনেক। বাঁশের খাঁচায় পাখি পোষার স্মৃতি এখনো লাগামের মতো টানে। ছাত্রজীবনে বাঁশের চোঙা ফুঁকিয়েছি। বাঁশের চাটাইয়ে স্লোগানও কম লিখিনি। সেই বাঁশ কোনো না কোনোভাবে এখনো পিছু ছাড়েনি। নিশ্চিত করে বলতে পারি, বাঁশের টান নেওয়ার ক্ষমতা ইস্পাতের চেয়ে বেশি। বাঁশ গাছ নয়, ঘাস। তা পানি শুষে নেয়। সে কংক্রিটের ভেতরে বাড়া-কমা করে কংক্রিটকে ফাটিয়ে দিতে পারে।

 

আল্লাহর ফজলে আমাদের মান উন্নয়নে যোগ হয়েছে বাঁশ। ভবন, সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনায় রড-ইস্পাতের বদলে বাঁশের এই ব্যবহার অবশ্যই একটি উদ্ভাবন। তা একদিকে শৈল্পিক, আরেকদিকে প্রেরণার। চিন্তা এবং উদ্ভাবনে মগ্নদের জন্য ভাবনার।

 

বাঁশ নিয়ে কিছু গবেষণার তথ্য জানি। ১৯৬৪ সালেই ইউএস নেভি ইস্পাতের বদলে বাঁশ দিয়ে কংক্রিট বানানোর পরীক্ষা করেছে। ফলাফলটা বা প্রয়োগটার কী হয়েছে জানি না। আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের কিছু লেখালেখি আছে বাঁশ নিয়ে। ইস্পাতের বদলে বাঁশ ব্যবহার নিয়ে অধ্যাপক নজমুল হক স্যারের রয়েছে বেশ গবেষণা। আমাদের প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা তা বাস্তবে করে দেখিয়ে দিতে পেরেছেন। অপরিসীম অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, পুরস্কার। তা পদার্থবিজ্ঞান নয়তো অন্য কোনো ক্ষেত্রেই হতে পারে।

 

লেখক : মোস্তফা কামাল, নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন