আজ শনিবার 6:27 pm08 August 2020    ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭    18 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

বরগুনার অভাগিনী সুরমা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরগুনা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৪:৪১ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ শনিবার

সন্তান কোলে অভাগিনী সুরমা

সন্তান কোলে অভাগিনী সুরমা

*%

 

 

বড় মেয়ে রাইসার বয়স পাঁচ বছর। মায়ের কোল থেকে নামার সময় হয়নি। অথচ ছোট বোন সুমাইয়াকে দেখভালের দায়িত্ব এখন তার কাঁধে। মায়ের রান্নাবান্না আর গোসলের সময় সাত মাসের শিশু সুমাইয়াকে কোলে নিয়ে বসে থাকতে হয় রাইসাকে।

জন্ম-মৃত্যুর রহস্য বোঝে না রাইসা। সাগরে মাছ ধরা শেষে তার জন্যে স্যান্ডো গেঞ্জি, লাল ফিতা, লেখার খাতা ও জিলাপি নিয়ে বাবা বাড়ি ফিরবেন বলে এখনো পথ চেয়ে বসে থাকে সে। অন্যদিকে খুদের জাউ ও চালের গুঁড়ার পানসে দুধে পেট ভরলেও মন ভরে না সাত মাস বয়সী শিশু সুমাইয়ার। খানিক পর পর কান্নার সুরে সে জানান দেয়, ক্ষুধার উপস্থিতি।

বাড়িঘর মিলিয়ে মাত্র তিন কাঠা জমি রেখে গেছেন ইসমাইল। শ্বশুর বেঁচে নেই। শাশুড়ি চলে গেছেন অন্যত্র। সুরমার দিনমজুর বাবা সিদ্দিক মিয়া (৫০) থাকেন ঢাকায়। জামাইর মৃত্যুর খবরে মেয়েকে দেখতে এসে হাজারখানেক টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সে টাকা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। প্রতিবেশীদের দয়া-দাক্ষিণ্যের চালও শেষ। ছোট ছোট দুই শিশুকন্যা নিয়ে সুরমা এখন কোথায় যাবেন, কার কাছে গেলে মিলবে আশ্রয়, এসবের উত্তর জানা নেই সুরমার।

জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘চলতি বছর ২০ ফেব্র“য়ারি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের গুলিতে নিহত হন সুরমার স্বামী ইসমাইল। ছোট ছোট দুই শিশু নিয়ে সুরমার অসহায় চাহনি দেখে সহ্য হয় না।’ এই পরিবারের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে ধনাঢ্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়ন সংগঠন জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি বলেন, ‘ভাগ্যাহত সুরমাকে দেখতে আমি রূপধন গ্রামে গিয়েছিলাম। ঝড়-ঝঞ্ঝা ও জলদস্যুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে বছরজুড়ে মৎস্য আহরণ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে হাজার কোটি টাকার রাজস্বের জোগান দেন জেলেরা। তাঁদের অসহায় পরিবারের জন্য সরকারের বিশেষ কোনো প্রকল্প থাকা জরুরি।’

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা করার চেষ্টা করব।’

দেশ-এর সর্বশেষ খবর