Total Bangla Logo
For bangla আজ শুক্রবার 2:45 pm
28 July 2017    ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪    04 ذو القعدة 1438

জিনপিংয়ের সফর

প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা

আনিকা ফারজানা, সিনিয়র প্রতিবেদক

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:৫০ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১২:০৯ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা

প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরকালে ২৫টি ছোট-বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ চূড়ান্ত হতে পারে। এতে মোট একলাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে বন্ধুপ্রতীম এই দেশটি থেকে, যা বাংলাদেশের বাজেটের প্রায় অর্ধেক। কর্ণফুলি নদীতে টানেল, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং পদ্মাসেতুতে রেল লাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে এ তালিকায়।

এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। এ খাতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।

চুক্তির মধ্যে তিনটি সমঝোতা স্মারক, চারটি ফ্রেমওয়ার্ক এগৃমেন্ট এবং তিনটি প্রকল্পের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, এরই মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির একটি অগ্রবর্তী দল ঢাকা সফর করে গেছে। তারা সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।


বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “শুনেছি ২৫টি প্রকল্পে বিনিয়োগ চূড়ান্ত হবে চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকালে। যা মোট অর্থে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।”

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “কতটি প্রকল্প এবং কত টাকা সেটি বড় কথা নয়। চীন বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম দেশ। এই দেশকে ঘিরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক।”


অর্থনীতিবিদ ড. সাদিক আহমেদ বলেন, “চীনের প্রেসিডেন্টের সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে। চীন সাধারণত শর্ত আরোপে কঠিন থাকে।”

সূত্র জানায়, সেতু নির্মাণ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি এবং স্ট্রেনদেনিং ইনভেস্টমেন্ট এন্ড প্রডাকশন ক্যাপাসিটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

এছাড়া এগৃমেন্ট অন ইকোনমিক এন্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন ফর ওয়ান থাউজেন্ড মোটরসাইকেল এন্ড ডিজাস্টার সেন্টার, প্রকিউরমেন্ট অব সিক্স ভেসেল এবং দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ টৃটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চূড়ান্ত করে অর্থায়নের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর বাইরে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়েও আলোচনা হবে।

সেতু বিভাগ ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ দুটি নতুন প্রকল্পে ঋণ চাইবে চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফরে।


সরকারের পক্ষ থেকে চীনের অর্থায়নের প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্রের বিষয়টি তুলে ধরা হবে। সাধারণত চীন যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করে, তাতে কোনো দরপত্র আহ্বান করা যায় না। এতে সরকার কিছুটা বিব্রত। বিষয়টি তুলে ধরা হবে প্রেসিডেন্টের কাছে।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর আগে ২৫ প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন।

জিনপিংয়ের সফর সফল করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা কমিশনের একটি সূত্র বলছে, প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকাকে সাজিয়ে তোলা হবে নানা ধরনের ছবি দিয়ে। বিশেষ করে তার চলাচলের পথগুলোতে সাঁটানো হবে পোস্টার ও জাতীয় পতাকা।

সূত্রগুলো বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এ অতিথির আগমন ঘিরে সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। এ কারণেই তিনি কোথায় থাকবেন, সেটি গোপন রাখতে বলা হয়েছে।