আজ শনিবার 6:24 pm08 August 2020    ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭    18 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

আ.লীগে নির্বাচেনর প্রস্ততি

প্রার্থীদের জরিপ শুরু শিগগিরই

সালমান ফিদা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৩:৪০ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার

প্রার্থীদের জরিপ শুরু শিগগিরই

প্রার্থীদের জরিপ শুরু শিগগিরই

সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে প্রার্থী নির্বাচনে ঝামেলায় পড়তে না হয়, সে কারণেই এ জরিপ। দলীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন, নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে পরবর্তী নির্বাচনের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশনা আসতে পারে। আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের আগে এটাই দলের শেষ জাতীয় সম্মেলন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিটি আসনে জনপ্রিয়তা যাচাই করে একাধিক প্রার্থীর নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন কোন আসনে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সে খোঁজ এখনই নেয়া হচ্ছে। যেসব আসনে পরাজয়ের শঙ্কা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে নতুন ও যোগ্য প্রার্থীর খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এ জরিপের প্রতিবেদন মূল্যায়ন করেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়টি নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি তার প্রকাশ্য বক্তব্যে এমপিদের এলাকামুখী হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। দলটি মনে করছে আগামী জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে টিকে থাকার মতো সাংগঠনিক অবস্থা বিএনপির নেই। এ অবস্থায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই বিএনপি পরবর্তী নির্বাচনে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির দাবির মূল জায়গা হবে নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কার কী অবস্থান হবে সেটাই।

এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে বলেছেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো সময় সংসদ ভেঙে দেয়ার অধিকার রয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির অনুমতি নেয়ার দরকার নেই। আদালতের সমস্যাও নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করে, কবে সংসদ নির্বাচন হবে।”

গত ২৬ জুলাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদ ভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বলেন, “প্রত্যেকের নির্বাচনী এলাকায় যেসব উন্নয়ন কাজ বাকি রয়েছে, তা শেষ করতে হবে। এছাড়া আমরা যেসব উন্নয়ন কাজ করেছি, সে বিষয়ে জনগণের কাছে প্রচার করতে হবে।” মূলত এরপর থেকেই এ জরিপের কাজ শুরু হয়।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি বলেছেন, “সরকারের মেয়াদের আড়াই বছর চলে গেছে। ২ বছর ৩ মাস পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য এখন থেকেই সবাইকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হবে।”

বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি আগাম নির্বাচন দাবি করলেও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না।

এদিকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের ঈদুল আজহায় আওয়ামী লীগের সব নেতারা এলাকায় গিয়েছেন। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে দলটির বর্তমান সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “আগামী নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে ২০১৯ সালেই হবে। আমরা এর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই বিএনপিসহ অন্য দলকেও প্রস্তুতি নেয়ার বিষয়ে আহ্বান জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি অনেক এমপি নির্বাচনী জনসংযোগও করেছেন। আমি নিজেও আমার নির্বাচনী এলাকায় ঘুরেছি। কারণ দুই-আড়াই বছর খুব বেশি সময় নয় নির্বাচনের জন্য।”

রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর