আজ শনিবার 5:24 pm08 August 2020    ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭    18 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

আ.লীগের ঘোষণাপত্র তৈরি

প্রাধান্য পেয়েছে তারুণ্য ও প্রযুক্তি

সালমান ফিদা, সিনিয়র প্রতিবেদক

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৪:৪৪ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৬ বৃহস্পতিবার

প্রাধান্য পেয়েছে তারুণ্য ও প্রযুক্তি

প্রাধান্য পেয়েছে তারুণ্য ও প্রযুক্তি

আগামী পারলামেন্ট ইলেকশন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে তৈরি হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্র। এতে প্রাধান্য পেয়েছে তারুণ্য ও প্রযুক্তি। পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে কল্যাণ ও কর্মসংস্থান। ২০তম ন্যাশনাল কাউন্সিলকে সামনে রেখে এ ঘোষণাপত্র তৈরি হলো। ঘোষণাপত্র তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত তা দলীয় সভাপতি ও্ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার কথা। তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার পর কাউন্সিলে দেশবাসীর সামনে এই ঘোষণাপত্র তুলে ধরা হবে। ঘোষণাপত্র তৈরির জন্য গঠিত কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৭০ ভাগই তরুণ। এদের বেশিরভাগ আবার ঝুঁকছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের দিকে। জনগোষ্ঠীর ৭০ ভাগ এসব তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাজে লাগানোর নির্দেশনা থাকবে ঘোষণাপত্রে।

সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, ঘোষণাপত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তরুণ সমাজকে বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষার জন্য নেওয়া নতুন পরিকল্পনা থাকবে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের নেওয়া ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে।


জানা গেছে, ঘোষণাপত্রের বিষয়গুলো প্রস্তাবিত আকারে গতকাল বুধবার (১২ অক্টোবর ২০১৬) জমা দেন উপ-পরিষদ সদস্যরা। এখন প্রস্তাবিত বিষয়গুলো নিয়ে ঘোষণাপত্রের একটি খসড়া তৈরি করে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি নিয়ে কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্রের প্রথম ভাগে স্থান পেয়েছে ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কাজ ও এসবের চিত্র। সরকারের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর তুলনামূলক চিত্রও আছে। আগামীতে সরকার কী ধরনের উন্নয়ন কাজ হাতে নেবে, সে তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কল্যাণমূলক কাজও উঠে এসেছে এই ঘোষণাপত্রে।

সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল প্রকল্প, বিদ্যুৎখাতের সফলতা। পাশাপাশি থাকছে খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত, বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত, দুস্থদের জন্য ১০ টাকা কেজিতে চাল সরবরাহসহ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের সফলতা।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিষয়গুলোকে গুরুত্বসহকারে স্থান দেয়া হয়েছে সংক্ষিপ্ত এই ঘোষণাপত্রে। ২০০৮ সালের ঘোষণাপত্রে মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বিষয়গুলো স্থান পেয়েছিলো। এর অনেকাংশই অর্জিত হয়েছে ধরে নিয়ে ২০তম ন্যাশনাল কাউন্সিলের ঘোষণাপত্রে সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলের (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৃষিখাতের আগামী দিনের পরিকল্পনাও থাকছে ঘোষণাপত্রে। কৃষির বহুমুখীকরণ, সহজীকরণ, উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনের খরচ হ্রাস ও কৃষি পণ্যের বিপণন ব্যবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে গুরুত্বের সঙ্গে।

এ বিষয়ে ঘোষণাপত্র উপ-কমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, “পরবর্তী পারলামেন্ট ইলেকশনসহ রূপকল্প-২০৪১ সালকে সামনে রেখে ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ।”

ঘোষণাপত্র উপ-কমিটির এক সদস্য বলেন, “আওয়ামী লীগের আগামী ঘোষণাপত্র হবে খুবই চমৎকার। ঘোষণাপত্রে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হাইলাইট থাকবে। আগামী দিনের পরিকল্পনা থাকবে।”

আগামী দুয়েক দিনের মধ্যেই দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ঘোষণাপত্র তুলে দেয়া হবে। এরপর তিনিই এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।

রাজনীতি-এর সর্বশেষ খবর