আজ শনিবার 5:43 pm08 August 2020    ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭    18 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে

পুনর্বাসিত ৯৮৯ ভিক্ষুক এখন স্বাবলম্বী

নিজস্ব প্রতিনিধি, নীলফামারী

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৫:৩২ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধবার

নিজ বাড়িতে দুই স্বাবলম্বী ভিক্ষুক মহিলাকে দেখা যাচ্ছে

নিজ বাড়িতে দুই স্বাবলম্বী ভিক্ষুক মহিলাকে দেখা যাচ্ছে

 

এসব ভিক্ষুকের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এনে লোনের মাধ্যমে করা হয়েছে কর্মমুখী। তাদের বর্তমান সঞ্চয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে ২৪২ জন পুনর্বাসিতকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ই জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হয়। তালিকাভুক্ত ৯৮৯ জনকে পুনর্বাসনের আওতায় এনে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায়ও আনা হয়। দেয়া হয় বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড। পুনর্বাসিত ভিক্ষুকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করে গড়ে তোলা হয়। মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে খাওয়া মানুষগুলো কর্মের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি এক এক জন উন্নয়ন কর্মীতে রূপান্তর হয়েছে। পুনর্বাসিতদের মধ্যে ৯৫১ জনকে একটি বাড়ি একটি খামারের সদস্য করে দেয়া হয় লোন। লোনের টাকা দিয়ে গরু, ছাগল ও ব্যবসা করে আজ তারা স্বাবলম্বী। তাদের অ্যাকাউন্টে বর্তমানে নিজস্ব সঞ্চয় ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮শ’ টাকা, কল্যাণ অনুদান ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৮শ’, আবর্তক তহবিল ৪৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২৩ টাকাসহ মোট তহবিল রয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬১ হাজার ২২৩ টাকা তহবিল রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুনর্বাসিতদের সাফল্যের কথা শুনে সরজমিনে এর বাস্তব চিত্র দেখার জন্য আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি পুনর্বাসিতদের পুনর্বাসনের বাস্তব চিত্র দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি পুনর্বাসিতদের যার বসতভিটা আছে তাদের জমিতে ঘর নির্মাণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করার আশ্বাস দেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প হতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম পর্যায় ১০ জন পুনর্বাসিতদের ঘর নির্মাণের জন্য ৬০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। পুনর্বাসিত ১০ জনের ঘর নির্মাণ কাজ প্রেরিত প্লান, ডিজাইন ও প্রাক্কলন মোতাবেক ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের একটি দল তা পরিদর্শন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৩ দফায় আরো ২৩২ জনের ঘর নির্মাণের জন্য ঘর প্রতি ৭৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করেন।

ঘর নির্মাণের আগে জেলা প্রশাসক, নীলফামারী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব, উদ্যোক্তা, একটি বাড়ি একটি খামারের মাঠ সহকারী, সুশীলসমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কিভাবে পুনর্বাসিতদের ঘর নির্মাণ দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়। একটি কর্মপরিকল্পনাও করা হয় বলে জানা গেছে।

বরাদ্দ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি ঘর নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়ন করেছে বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়- প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর পেয়ে পুনর্বাসিতরা খুবই খুশি ও মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে বলে পুনর্বাসিতরা অভিমত প্রকাশ করেন।

রণচণ্ডী ইউনিয়নের সাবেক ভিক্ষুক মহিলা জানান- আল্লাহ এবার হামার প্যাকে ঘুরে দেখছে। থাকার একটা ঘর হইছে। গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের বাচ্চানী বেওয়া ও ফুলজন বেওয়া জানান- চটের বস্তা দিয়ে চালা বানেয়া কি কষ্ট করে আছনু। ঝড়-বৃষ্টি আর শীতোত ভিজি আছনু। আর মোক ঝড়-বৃষ্টি ও শীত নিয়ে চিন্তা করিবার নাগিবে না। সরকার মোক একটা ঘর দিয়া কি যে উপকার করছে। আলিজোন বেওয়া, মহিলা, বাচ্চানী বেওয়ার মতো ২৪২ জন পুনর্বাসিত ভিক্ষুক ঘর পাওয়া তাদের দুঃখ-দুর্দশার দিন শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ এর “যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে ঘর নির্মাণ” প্রকল্প হতে এসব পুনর্বাসিতদের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী এস এম কেরামত আলী নান্নু জানান, পুনর্বাসিত ভিক্ষুকদের ঘর নির্মাণ কাজ প্রেরিত প্লান, ডিজাইন ও প্রাক্কলন মোতাবেক যাতে হয় এজন্য একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে নিয়োজিত করা ছিল। ঘর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের সময়কার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, প্রকল্প হতে বরাদ্দকৃত পুনর্বাসিত ভিক্ষুকদের ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্নপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

দেশ-এর সর্বশেষ খবর