Total Bangla Logo
For bangla আজ রবিবার 9:01 pm
23 July 2017    ৮ শ্রাবণ ১৪২৪    28 شوال 1438

নাসিক নির্বাচনে সাখাওয়াত প্রার্থী, সেনা মোতায়েন দাবি বিএনপির

যাকুয়ান রিদা, সিনিয়র প্রতিবেদক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৮:২১ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:২৯ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার

সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ সিটি ইলেকশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী

সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ সিটি ইলেকশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করেপোরশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সেই নির্বাচনী এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ দাবি তুলেছেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ বলেছেন, নাসিক নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ সর্বশেষ টেস্ট কেইস। বিএনপির এই শীর্ষ দুই নেতার এমন মন্তব্যের আগেই নাসিক নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় মেয়র পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

 

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খানকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তিনি বিএনপি-সমর্থক পেশাজীবী। রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই।

 
 
তৈমুর রাজি নয়, পরিবর্তে বিএনপির বাছাই সাখাওয়াত
 
 
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানকে বিএনপি ধানের শীষ মার্কায় মেয়র পদে বাছাই করে নিয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

সোমবার (২১ নভেম্বর ২০১৬) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অফিসে বৈঠক করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও সিটি বিএনপির নেতারা। ওই বৈঠক শেষে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

 


বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত খুনের ঘটনায় আইনজীবীদের আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলেন আইনজীবী সমিতির তখনকার সভাপতি এই সাখাওয়াত হোসেন। সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী তিনি।
 

জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে দলের প্রার্থী হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিল বিএনপির। তিনি ইলেকশন করতে রাজি না হওয়ায় বিএনপিকে নতুন প্রার্থী খুঁজে নিতে হয়। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ইলেকশনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মিস্টার তৈমুর। ভোট গ্রহণের সাত ঘণ্টা আগে তাঁকে কেন্দ্রের নির্দেশে বসিয়ে দেওয়া হয়। সেই ইলেকশনে নাগরিক কমিটির প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ​ আইভী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

 

সিটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল দাবি করেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ইলেকশন হলে বিএনপির প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত। নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা এবার ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

 

নাসিক নির্বাচনে সেনা মোতায়েনর দাবি বিএনপির

 

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সেই নির্বাচনী এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম নামের একটি সংগঠন এক আলোচনাসভার আয়োজন করে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫২তম জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিএনপির পক্ষ থেকে দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ দাবি জানান।

 

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি অবশ্যই চায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হউক। নারায়ণগঞ্জ গডফাদারদের শহর হিসেবে পরিচিত, তাই সেখানে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করলে সাধারণ ভোটাররা ন্যূনতম নির্বাচনী পরিবেশ পাবে। ভয়ে, আতঙ্কে কোনো গডফাদারকে ভোট দিতে হবে না।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইসি গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা আগামী জাতীয় নির্বাচনের পথকে সুগম করবে। অথচ বর্তমান সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সেনা মোতায়েনের কথা শুনলেই আতকে উঠছেন।’

 
মিয়ানমারে চলমান মুসলিম গণহত্যার প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর যে অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছে, সেখান থেকে পালিয়ে আসাদের নিরাপত্তা দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব। সরকারের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা নির্বিকার। বিএনপি মিয়ানমার প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকারের নির্বিকার থাকার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।’

 

স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ সভায় সভাপতি ছিলেন। বক্তব্য দেন, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, খালেদা ইয়াসমিন, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ।

 

নাসিকে অংশগ্রহণ বিএনপির সর্বশেষ টেস্ট কেইস

 

বিএনপির স্থায়ীকমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেছেন, নাসিক নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ সর্বশেষ টেস্ট কেইস। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেখতে চাই, সরকারের চরিত্র ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে কিনা। তা না হলে বুঝবো, তাদের কাছে গণতন্ত্র নিরাপদ নয়। পরবর্তীতে আমরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।

 

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। `রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, চ্যালেঞ্জের মুখে সুন্দরবন` শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে অল কমিউনিটি ফোরাম।

 

খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। আমরা আগেও ভোটারবিহীন এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সারা পৃথিবীসহ সবাই দেখেছে, নির্বাচন নিয়ে কতটা প্রহসন হয়েছে। রকিবমার্কা নির্বাচন কতটা প্রহসনময় তা দেখাতেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন নিয়ে রূপরেখা তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগ অন্তঃসারশূন্য বলে যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনাদের চিন্তাই অন্তঃসারশূন্য, নেত্রীর বক্তব্য নয়। আপনারা প্রত্যাখ্যান করেছেন, এর মানে বলে দিলেন, আমরা (আওয়ামী লীগ) সুষ্ঠু নির্বাচন চাই না। যেভাবে সরকার চালাচ্ছি, এভাবেই অনন্তকাল চালাবো।

 

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইনজিনিয়ার আশরাফ উদ্দীন বকুলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা ইউনিভারসিটির সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপি নেতা কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।