আজ বৃহস্পতিবার 9:55 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

নতুন কমিশনের এসিড টেস্ট মার্চে, মূল প্রশ্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে

আহমদ আবু বকর, নিজস্ব সাংবাদিক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৮:৩৭ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ শুক্রবার | আপডেট: ১০:১৩ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ শুক্রবার

নতুন নির্মিত ইলেকশন কমিশন ভবন

নতুন নির্মিত ইলেকশন কমিশন ভবন

নতুন গঠিত ইলেকশন কমিশনের প্রথম চ্যালেঞ্জ দেশের ১৮ উপজেলায় নির্বাচন; যা আগামী ৬ মার্চ ২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচন। সাধারণ মানুষের ধারণা, নতুন ইলেকশন কমিশনের জন্য এটা হবে ‘এসিড টেস্ট’। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন ইলেকশন কমিশন শপথ নেবে। এরপর থেকেই কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন ইলেকশন কমিশনের যাত্রা শুরু হবে।
 
নতুন ইলেকশন কমিশন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। আওয়ামী লীগ এই কমিশনকে সাধুবাদ জানালেও আপত্তি তুলেছে বিএনপি। সাধারণ মানুষ রয়েছে শ্রোতা ও দর্শকের ভূমিকায়। তারা শুধু দুই দলের বিতর্ক শুনছে ও দেখছে। আগামী ৬ মার্চ দেশের ১৮টি উপজেলায় এবং ২২ মার্চ গাইবান্ধা-১ আসনে (সুন্দরগঞ্জ) যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা থেকে সাধারণ মানুষ অনেকটা অনুমান করতে পারবে, কেমন হবে এই ইলেকশন কমিশন।
 
নতুন কমিশনের প্রথম নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘দেশের ১৮টি উপজেলায় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সে নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে তারা নিজেদের নিরপেক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন। এটা তাদের জন্য বড় ধরনের একটি সুযোগ।’ তিনি আশা করেন, নতুন নির্বাচন কমিশন এ সুযোগ কাজে লাগাবে।

সার্চ কমিটির সুপারিশের পর প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ গত ৬ ফেব্রুয়ারি কেএম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নতুন ইলেকশন কমিশন গঠন করেন। অন্য কমিশনাররা হলেন- সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কবিতা খানম ও বৃগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী। কবিতা খানম দেশের প্রথম মহিলা ইলেকশন কমিশনার।

নতুন ইলেকশন কমিশন গঠন করার পর থেকেই এই কমিশনের বিষয়ে বিএনপি আপত্তি তুলেছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
  

জানা গেছে, দেশের ১৪ জেলার ১৮ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগামী ৬ মার্চ ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। গত ১ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট ইলেকশন অফিস ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে ইলেকশন কমিশন।



ইসি অফিসাররা জানান, উপজেলা পরিষদে এবারই  প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি আইনের আলোকে বিধিমালা সংশোধন করেছে ইসি। এরপরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দলের মনোনয়নপত্র দেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮টি উপজেলার মধ্যে তিনটিতে সাধারণ, ৯টিতে শুধু চেয়ারম্যান পদে, চারটিতে ভাইস চেয়ারম্যান ও দুটিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে। এর মধ্যে সিলেটের ওসমানীনগর, খাগড়াছড়ির গুইমারা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সাধারণ নির্বাচন হবে। এ তিন উপজেলায় সব পদে অর্থাৎ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা, বরিশালের বানারীপাড়া ও গৌরনদী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালি, কুমিল্লা আদর্শ সদর, পাবনার সুজানগর, নাটোরের বড়াইগ্রাম এবং কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদে শুধু চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নীলফামারীর জলঢাকা, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায়। পাবনার ঈশ্বরদী ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে।

 

যেসব উপজেলায় একটি পদে ভোট হবে সেগুলোর মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের দিন-তারিখ নির্ধারণ করবেন স্ব স্ব রিটার্নিং অফিসাররা। যে তিনটি উপজেলায় সাধারণ নির্বাচন হবে, সেগুলোতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালন এবং আচরণ বিধিমালা না থাকায় এসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
 
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ১৮ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলটির স্থানীয় সরকার/উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। একইসঙ্গে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বরিশালের গলাচিপা পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আহসানুল হক তুহিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। রংপুর বিভাগে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মো. আমান উদ্দিন আহম্মেদ, নীলফামারী জেলার জলঢাকায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. মশিউর রহমান বাবুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে পাবনার সুজানগরে চেয়ারম্যান পদে মো. আব্দুল কাদের রোকন, ঈশ্বরদীতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছাম্মত মাহমুদা খাতুন ও নাটোরের বড়াইগ্রামে চেয়ারম্যান পদে মো. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী মনোনয়ন পেয়েছেন। খুলনা বিভাগে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. আরাফাত হোসেন ও বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ফাহিমা খানমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগে চেয়ারম্যান পদে বানারীপাড়ায় মো. গোলাম ফারুক, গৌরনদীতে সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় মো. গোলাম কিবরিয়া সিকদার ও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন মনোনয়ন পেয়েছেন। ঢাকা বিভাগে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুরে চেয়ারমান পদে মো. জহিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সিলেটের ওসমানীনগরে চেয়ারম্যান পদে আতাউর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মুক্তা পারভীন মনোনয়ন পেয়েছেন। সিলেটের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে চেয়ারম্যান পদে মো. আকমল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজন কুমার দে ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোছাম্মত হাজেরা বারী মনোনয়ন পেয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে আদর্শ সদরে চেয়ারম্যান পদে মো. আমিনুল ইসলাম, চৌদ্দগ্রামে ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবিএম এ বাহার এবং সদর দক্ষিণে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাহমুদা আক্তার মনোনয়ন পেয়েছেন। খাগড়াছড়ির গুঁইমারায় চেয়ারম্যান পদে মেমং মারমা, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. নুরুন্নবী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ঝর্না ত্রিপুরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্চের ইলেকশনগুলো নতুন ইলেকশন কমিশন-এর জন্য এসিড টেস্ট মনে করলেও মূলত সরকার এবং ইলেকশন কমিশন সবাই চাইবে, এসব ইলেকশন সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য হোক। এতে কেউ কোনোপ্রকার কারচুপি বা গণ্ডগোলের চিন্তা করবেন না। এরপরও জাতীয় সংসদ নির্বাচন-এর আগে যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, নতুন ইসি এবং ক্ষমতাসীন সরকার উভয়েই প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য হোক-তাই চাইবে এবং করবে। এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিসহ প্রতিটি দলকে আওয়ামী লীগ নিজেদের ফর্মুলায় অংশ নিতে বাধ্য করবে। নতুন এই ইলেকশন কমিশন আগামী জাতীয় নির্বাচন অাদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্যভাবে করতে পারবে কি না, করবে কি না, অথবা সরকার করতে দিবে কি না-সেটাই বিএনপিসহ অনেকের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

 

 

অারও পড়ুন :

 

# ইসি নিয়ে উত্তেজনা বাড়লেও সরকার সিদ্ধান্তে অনড়