Total Bangla Logo
For bangla আজ বৃহস্পতিবার 12:40 am
27 July 2017    ১১ শ্রাবণ ১৪২৪    02 ذو القعدة 1438

অসহায় মানুষ আশ্রয় চায়

ধরলার পেটে হজম সড়ক, বাড়ি, স্কুলসহ বহু কিছু

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম থেকে

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৭:০৫ পিএম, ৪ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:২৪ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৬ শনিবার

ধরলার পেটে হজম সড়ক, বাড়ি, স্কুলসহ বহু কিছু

ধরলার পেটে হজম সড়ক, বাড়ি, স্কুলসহ বহু কিছু

কুড়িগ্রামে সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে ধরলার ভাঙনে দিশেহারা ভাঙন কবলিত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে ধরলার ভাঙনে নদীর পেটে হজম হয়ে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড’র ২শ মিটারের তীর রক্ষা বাঁধ। শুকনো মৌসুমে আকস্মিক ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারানো দুই শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় দ্রুত সরকারি সহায়তা চাইছেন অসহায় পরিবারগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে ধরলা নদীর এই ভাঙনে মোগলবাসা গ্রামের বাজার সংলগ্ন প্রায় ২শ মিটারের তীর রক্ষা বাঁধ, দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি ও কয়েক একর ফসলি জমি নদীর পেটে হজম হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগের একমাত্র পাকা সড়ক, ঐতিহ্যবাহী মোগলবাসা হাট, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, নিধিরাম, বাঞ্চারাম ও কিসামত গ্রামসহ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এই ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী এক মাসে মোগলবাসা হাটসহ তিনটি গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাকা সড়কসহ অনেক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে, মোগলবাসা ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সরেজমিন দেখা গেছে, শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাই খুঁজে পাচ্ছেন না নদী ভাঙনের শিকার অসংখ্য পরিবার। হাতে টাকা ও খাবার না থাকায় দু’চোখে তাদের শুধুই অন্ধকার।

কয়েকবার যোগাযোগের পরও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে নদী পাড়ের মানুষকে ঘর-বাড়ি হারাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

ধরলার ভাঙনের শিকার একজন আবুল কবিরাজ। তিনি টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে জানান, হঠাৎ ধরলার তীব্র ভাঙনে ভিটে-মাটি সব নদীর পেটে চলে গেছে। কোন রকমে ঘরের চাল রক্ষা করতে পারছি। তাও আবার রাস্তার একদিকে রেখেছি। এখন কই যাব, তার কোন উপায় খুঁজে পাই না। কেউ এমনিতে বাড়ি করার জায়গা দেয় না।

ভাঙনের শিকার অারেক ব্যক্তি দুদু মিয়া। তিনি টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে বলেন, বাড়ি-ঘর কোন রকমে সরিয়ে নিয়েছি। বউ-বাচ্চা নিয়ে আজ ৪ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে বাস করছি। খাবার নাই। হাতে কাজ নাই। টাকাও নাই। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এখনো কোন সাহায্যও দেয় নাই। এ অবস্থায় খাইয়া-নাখাইয়া দিন কাটছে। সামনে কী হবে, আল্লাহই মালুম।

দুদু মিয়া ও আবুল কবিরাজের মতো একই অবস্থা এখন মোসলেম উদ্দিন, নুরুল্ল্যাহ ও মুন্নিসহ নদী ভাঙনের শিকার ২ শতাধিক পরিবারের।

যোগাযোগ করা হলে মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বাবলু টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে জানান, নদী ভাঙন শুরুর আগে থেকেই আমরা এলাকাবাসীসহ স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। মানববন্ধন করে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। এরপরও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব দেয়নি। এ কারণেই এই এলাকার ২ শ’র বেশি পরিবারকে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হতে হচ্ছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের নাম তালিকা করে সাহায্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠিয়েছি। ধরলার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছি। এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দুয়েকদিনের মধ্যেই মোগলবাসার একমাত্র পাকা সড়কটি নদীর পেটে চলে যাবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মোখলেছুর রহমান টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধরলার ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের বান্ডাল দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। আমরা মোগলবাসা এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে ঊর্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। বরাদ্দ পেলে পরবর্তী সময়ে স্থায়ী বন্দোবস্ত করা হবে।