আজ সোমবার 11:27 am06 July 2020    ২১ আষাঢ় ১৪২৭    15 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

মায়ের পাশে তুবা, ভাইয়ের কান্নায় ভিজল কবরের মাটি

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:৫৩ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মায়ের কবরের পাশে ছোট্ট তুবা ও তাহসিন। ছবি: সংগৃহীত

মায়ের কবরের পাশে ছোট্ট তুবা ও তাহসিন। ছবি: সংগৃহীত

নিষ্পাপ শিশু তাসমিন তুবা (৪)। সবে বুঝে উঠতে শুরু করেছে তাহসিন (১১)। এই বয়সেই মাকে হারিয়েছে দুজন। মায়ের রক্তাক্ত মুখটা ভাসছে তাদের চোখের সামনে। বাড্ডায় গুজব ছড়িয়ে একদল নরপশুর গণপিটুনিতে প্রাণ গেছে তাদের মা তাসলিমা বেগম রেনুর।

 

মাকে দাফনের পর থেকে মায়ের অপেক্ষায় কেঁদে কেঁদে বুক ভাসায় তুবা ও তাহসিন। আত্মীয়দের আদর-সোহাগে কিছুক্ষণের জন্য কান্না থামলেও মায়ের কথা মনে হলেই কেঁদে ওঠে দুজন।

 

প্রতিটি মুহূর্ত মাকে খুঁজে ফেরে তুবার দুই চোখ। এখনও তুবা জানে না তার মা কোথায় আছে। কেমন আছে। কেউ জিজ্ঞাসা করলেই বলছে, মা চকলেট আনতে গেছে।

 

মায়ের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে থেমে থেমে চলছে তুবার কান্না। কান্নাই যেন এখন তার একমাত্র সম্বল। তার কান্নায় শোক ছড়িয়ে শোকের মাতম চলছে রেনুর স্বজনদের মধ্যেও।

 

বুধবার দুপুরে মায়ের স্পর্শ না নিয়েই রায়পুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরেছে আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে।

 

তার আগে মায়ের কবরের পাশে যায় ছোট্ট দুই শিশু। কবর দেখলে ভয় পাবে এমন আশঙ্কায় তুবাকে নিয়ে মাইক্রোবাসে বসে থাকেন তার খালা। আর তাহসিন যায় মায়ের সমাধির পাশে। সেখানে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করে। এসময় তার চোখের জলে ভিজে যায় কবরের মাটি।

 

নিহত রেনুর বড় বোন নাজমুন নাহার জানান, গুজব আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। গুজব ছড়িয়ে একজন নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে! এটি মেনে নেয়া যায় না। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যেন আর কোনো মানুষ এভাবে গুজবের বলি না হয়।

 

ছোট্ট তুবাকে ভর্তির জন্য বাড্ডার একটি স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েই শনিবার ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তাসলিমা বেগম রেনু (৪০)। রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরার সোনাপুর গ্রামে তার দাফন হয়েছে। মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি ঠিকই টের পেয়েছে তাহসিন। কিন্তু নাছোড়বান্দা তুবা। মায়ের কথা মনে পড়লেই ঢুকরে কাঁদছে।

 

প্রসঙ্গত শনিবার সকালে বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন তাসলিমা বেগম। তার দুই সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে স্কুলের গেটে কয়েকজন নারী তাসলিমার নাম-পরিচয় জানতে চান। পরে লোকজন তাসলিমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে বাইরে কয়েকশ লোক একত্র হয়ে তাসলিমাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যায়। স্কুলের ফাঁকা জায়গায় এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুতর জখম করে। পরে উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাসলিমার বোনের ছেলে সৈয়দ নাসিরউদ্দিন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতনামা চারশ থেকে পাঁচশ মানুষকে আসামি করে মামলা করেন।

 

নিহত তাসলিমার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। মহাখালীতে চার বছরের মেয়ে ও মাকে নিয়ে থাকতেন তাসলিমা।

জাতীয়-এর সর্বশেষ খবর