আজ বৃহস্পতিবার 6:57 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

আত্মহত্যার ঘটনা কমেছে

তবুও ঝুঁকিতে ৬৫ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ১১:৩১ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধবার | আপডেট: ১১:৩৯ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধবার

তবুও ঝুঁকিতে ৬৫ লাখ মানুষ

তবুও ঝুঁকিতে ৬৫ লাখ মানুষ

আত্মহত্যা নিয়ে দেশব্যাপী হালনাগাদের কোনো গবেষণা জরিপ পরিচালিত না হলেও পুলিশের রেকর্ডে বছরে ১০ হাজারেরও বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুর আত্মহত্যার রেকর্ড রয়েছে। রেকর্ডে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে।

নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের সহজলভ্যতা, যৌতুক, পারিবারিক নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, উত্ত্যক্ত ও প্ররোচিত করা, প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব, মানসিক অসুস্থতা, জটিল রোগ, নগরায়ণ ও পরিবারতন্ত্রের বিলুপ্তি, নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, এখনও তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের ৬৫ লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কীটনাশকের সহজলভ্যতা হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে আগের তুলনায় এ আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে।

পুলিশের পরিসংখ্যানে ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে প্রতি বছর গড়ে ১০ হাজার মানুষের আত্মহত্যার রেকর্ড থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতি লাখে ৭ দশমিক ৮ জন।

আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে এক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে ‘সুইসাইডঃ বাংলাদেশ সিনারিও’ বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান এবং আত্মহত্যা বিষয়ক কেস রিপোর্ট ও ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোনো না কোনো গুরুতর মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন।

তিনি আরো বলেন, আত্মহত্যাপ্রবন ব্যক্তিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের আত্মহননের ইচ্ছার কথা আত্মীয় বা বন্ধুর কাছে ব্যক্ত করে থাকেন। হয়তো সেটা গুরুত্ব দেয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না।

‘সোসাইটি ফর সুইসাইড প্রিভেনশন বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি, অনুশাসন, ভালো বন্ধু, প্রতিবেশী ও সহকর্মীর সঙ্গে সামাজিক সুসম্পর্কের পাশাপাশি সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত নিদ্রা, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকা তথা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শারীরিক-মানসিক যে কোনো অসুস্থতায় যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা লাভের সুযোগ আত্মহত্যা প্রবণতা কমায়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আব্দুল হামিদ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক রোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন্নাহার।