আজ বৃহস্পতিবার 9:56 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

ঢাকায় সম্মেলন করতে চায় শিবির, ঘোষণা করবে নতুন কমিটি

সোহেল সাদেক, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৫৯ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ সোমবার

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সম্মেলন চলতি ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি নতুন সভাপতি ও কমিটি গঠন করবে। কেন্দ্রীয় সম্মেলনটি তারা রাজধানী ঢাকায় করতে চাচ্ছে। এই খবর জেনে ইতিমধ্যে গোয়েন্দারাও নজরদারি বাড়িয়েছেন।

 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ‘চলতি মাসের যেকোনও দিন ঢাকায় শিবিরের নেতৃত্ব নির্বাচন করতে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করবে সংগঠনটি। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের কমিটিও ঘোষণা করবে শিবির। আমরা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছি। ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের খবর কখন কোথায় হবে, তা পাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।’

 

ডিসেম্বরেই রাজধানীর কোনও একটি মিলনায়তনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে ছাত্র শিবির। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী সদস্য সম্মেলন করার কথা থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় গত প্রায় ছয় বছর ধরে প্রকাশ্যে সম্মেলন করতে পারেনি সংগঠনটি। এ সময় গোপন ব্যালটে ও ই-মেইলে ব্যালট পাঠিয়ে সদস্যদের মতামত নিয়ে সভাপতি-সেক্রেটারি নির্বাচন করে আসছে শিবির।

 

গোপনে সম্মেলন করলেও এবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে শিবির কেন্দ্রীয় সম্মেলনটি করতে চায় বলে দাবি শিবির সূত্রগুলোর।

 

রাজধানীর বনশ্রী, মিরপুর, পল্টন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা, নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ নেতাদের নাম, ঢাকায় আসার কৌশল, সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি।

 

জামায়াত নেতাদের মতো ছাত্র শিবিরের নেতারাও আত্মগোপনেই থাকেন। তারা সাংগঠনিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক বা যোগাযোগ রক্ষা করেন একেকজন একেকজনের মতো করে। কয়েকজন শিবির নেতার সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও আপাতত তারা কিছু বলতে সম্মত হননি। চট্টগ্রামের এক শিবির নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টোটালবাংলা২৪ ডটকম-কে বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট স্থানে সম্মেলন বা নেতৃত্ব নির্বাচনের কোনও সম্ভাবনা নেই। অনেকটা জামায়াতের সিস্টেমে ভোট হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ অনেক অাগেই নেওয়া হয়েছে। বাস্তবে তা সম্ভব হবে না। ঢাকায় সম্মেলন না হলেও আমাদের সাংগঠনিক কাজ ঠিকই চলছে।’

 

বর্তমানে সারা দেশে শিবিরের সদস্য সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার। ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি শাখাকে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে ভোট দিতে বলা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকবেন একাধিক দায়িত্বশীল নেতা। এর বাইরে ছাত্র শিবিরের ‘কর্মী’ ও ‘সাথী’ নামে দু’টি সাংগঠনিক স্তর আছে। তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই।

শিবিরের গঠনতন্ত্রের তৃতীয় অধ্যায়ের ধারা ১২-এ বলা আছে, কেন্দ্রীয় সংগঠন গঠিত হবে- কেন্দ্রীয় সভাপতি, কার্যকরী পরিষদ এবং একটি সেক্রেটারিয়েটের সমন্বয়ে। ধারা১৩-এ বলা আছে, এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যেকের ভোটে এক বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।

 

কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন করতে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। ধারা ৩৩-এ বলা আছে, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচন পরিচালনা করবে। কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দু’জন সহকারী নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। সংগঠনের সব স্তরের নির্বাচন পদ্ধতি কার্যকরী পরিষদ নির্ধারণ করবে।

 

২০১৬ সেশনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন শিবিরের তিনজন সাবেক সভাপতি। তারা হলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ। এবারও এই তিনজন নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকতে পারেন। সঙ্গে জামায়াতের সিনিয়র নেতা ইজ্জত উল্লাহও এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকতে পারেন।

 

১৯৭১ এর পূর্বে জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংস্থার নাম ছিল ইসলামী ছাত্রসংঘ । ১৯৭৭ সালে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা "বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির" নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ইউনিভারসিটির কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে শিবির প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মীর কাশেম আলী। প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠনটির সদস্য ছিলো মাত্র ছয় জন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দলটির সব সদস্য বাঙালিদের উপর গণহত্যা চালায়।

 

ছাত্র সংগঠনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুক্তির দাবিতে ধংসাত্বক আন্দোলনের কারণে ব্যপক সমালোচিত হয়। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অধিভুক্ত ন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর স্টাডি অব টেরোরিজম এন্ড রেসপন্স টু টেরোরিজমের তৈরি ফাইলে ছাত্র শিবিরকে একটি ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, এটির সঙ্গে পৃথিবীর বৃহৎ জঙ্গি সংগঠনসমূহের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও আমেরিকার কংগ্রেসে ২০১৫ সালের ৩০ এপৃল জামায়াত ও ইসলামমী ছাত্র শিবির নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়।