আজ বুধবার 12:55 am20 September 2017    ৪ আশ্বিন ১৪২৪    27 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

ঢাকায় কেন আসছেন ওআইসি মহাসচিব, পুরো লেখাটি পড়ুন

তাকরিম হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:২৫ এএম, ২০ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার

ওআইসির নতুন নিযুক্ত মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমাদ আল ওথাইমিন

ওআইসির নতুন নিযুক্ত মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমাদ আল ওথাইমিন

আগামী মে (২০১৭) মাসে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন ওআইসির নতুন নিযুক্ত মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমাদ আল ওথাইমিন। এছাড়া মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় জোট ওরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ২০১৮ সালের বৈঠকটিও ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ আয়োজন ও এ বছরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠককের আলোচনা সারতে এ মাসের শেষে সউদি আরব যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। জেদ্দায় অনুষ্ঠিতব্য ওআইসির সিনিয়র পর্যায়ের অফিসারদের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এবারের বৈঠকে ধর্মীয় উগ্রপন্থা এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ওআইসি জোটসহ মুসলিম দেশগুলোকে পাশে চায় বাংলাদেশ।

ওআইসি মহাসচিবের সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন বড় অফিসার বলেন, নতুন মহাসচিব যোগ দেওয়ার পর তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী মাসে তার সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

 

আরও পড়ুন : সুপৃম কোর্টের সামনে গৃক দেবী নয়, পবিত্র কুরআনের স্তম্ভ চাই


চার দিনের সফরে পররাষ্ট্র সচিব ওআইসির পূর্বনির্ধারিত ৩০ এপৃল-২ মে উচ্চ পর্যায়ের সভার বিভিন্ন সেশনে যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি সাইড লাইনে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সিনিয়র কর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তারা জানান, জেদ্দার এ বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বার্ষিক আয়োজনের এজেন্ডাসহ অন্যান্য প্রস্ততি চূড়ান্ত হবে। সামনের জুলাই মাসে আফৃকার আইভোরি কোস্টের বন্দরনগরী আবিদজানে ওই বৈঠক হবে। ওই সভার প্রস্তুতি নিয়ে জেদ্দার বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কর্তারা অংশ নেবেন।

জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি জঙ্গিবাদ ও রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ওআইসির আরও সক্রিয়তা আশা করছে বাংলাদেশ।

 

আরও পড়ুন-খালেদা-তারেককে সব মামলায় বেকসুর খালাস দিতে হবে : ইসলামিক ইউনিয়ন



ঢাকায় ২০১৮ সালের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন বড় কর্তা জানান, আগামী বছরের ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সে বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য এবারের বৈঠকের প্রস্তুতি পর্বের বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা জরুরি। তাছাড়া বৈঠকের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেওয়াও প্রয়োজন।

তিনি জানান, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রপন্থার সম্ভাব্য উত্থান চেষ্টা মোকাবেলায় মুসলিম দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। উগ্রপন্থা মোকাবেলায় ওআইসির বিভিন্ন উদ্যোগেও বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকায় রয়েছে।

ওআইসি ও সউদি আরবের উদ্যোগে রিয়াদে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্বের যে জোট গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ তার প্রথম দিকের সমর্থনকারী রাষ্ট্রের অন্যতম। রিয়াদে প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী সেন্টারের সঙ্গে তথ্য-আদান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া মুসলমানদের পবিত্রস্থান কাবা শরিফ এবং মসজিদে নববী সন্ত্রাসের হুমকিতে আক্রান্ত হলে বাংলাদেশ সেনা পাঠনোর আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

এবারের বৈঠকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত আক্রমণ এবং তাদের পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার যে কৌশল নিয়েছে, সে বিষয়টি ওআইসির বৈঠকে আরও জোরালোভাবে তুলতে চায় ঢাকা।

দীর্ঘ সময় ধরে কয়েক লাখ মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছে। সম্প্রতি নতুন করে আরও প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এটির স্থায়ী সমাধানে বিশ্ব নেতৃত্ব বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের তরফে যাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানো যায় সেজন্য ওআইসির আরও সক্রিয়তা চায় বাংলাদেশ।

 

অারও পড়ুন : গৃক মূর্তি ভাঙা এবং চিফ জাসটিসকে বরখাস্ত করতে ইইউ’র আলটিমেটাম

বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা, মেধাবী আলেম ও বিখ্যাত সাংবাদিক হাসানুল কাদির বলেন,  মুসলমানদের পবিত্রস্থান কাবা শরিফ এবং মসজিদে নববী এখন সন্ত্রাসের হুমকিতে রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া কুখ্যাত দুই কাদিয়ানি, যারা কাবা শরিফের কথিত ইমাম এবং মসজিদে নববীর ইমাম হিসেবে পরিচয় দিয়ে গেছে, এই দুই শয়তানের মাধ্যমেই পবিত্র কাবা শরিফ এবং মসজিদে নববী ফের আক্রমণের মুখে। এই দুই কুখ্যাত ইহুদি কাদিয়ানি কুলাঙ্গারকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে সউদি বাদশাসহ ওআইসি মহাসচিবকে সতর্ক করে দেন জনাব হাসানুল কাদির। সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ইসলামিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল কাদির বলেন, পবিত্র কাবা শরিফ এবং মসজিদে নববীর ওপর আর কোনো অপশক্তিই কোনোপ্রকার আক্রমণ করতে পারবে না। এরপরও সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশ শুধু নয়, গোটা বিশ্বের দুই শ` কোটি মুসলিম জীবনের বিনিময়ে হলেও পবিত্র এই দুই স্থানের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো সময় নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত।

ওআইসি মহাসচিবকে তিনি বলেন, শুধু আরাম-আয়েশ-ঘুরাফেরা করবেন না। চোখ-কান খোলা রাখুন। দেশ-দুনিয়ায় কী ঘটছে, সেইসব বিষয়েও সতর্ক হোন। মুসলিমদের সময় এসেছে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার। এগুলো বুঝতে হবে।