আজ বৃহস্পতিবার 7:49 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

এনডিটিভির রিপোর্ট

জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকে কীভাবে দেখছে দিল্লি

বিদেশ ডেস্ক

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ১২:৪৯ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৬ শনিবার

জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকে কীভাবে দেখছে দিল্লি

জিনপিংয়ের ঢাকা সফরকে কীভাবে দেখছে দিল্লি

বাংলাদেশের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে সহজ শর্তে প্রতিবেশী দেশ ইনডিয়া ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তি করেছিল গত বছর। এর জবাবে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করলো। ইনডিয়ার এনডিটিভির একি রিপোর্টে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, গত বছর ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে গিয়ে সহজ শর্তে ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তি করেছিল। চীন বাংলাদেশকে ইনডিয়ার চেয়েও বহুগুণ বেশি ঋণ দিচ্ছে।

সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনালের সাউথ এশিয়া স্ট্যাডিজের পরিচালক জাও গানচেং বলেন, ‘ইনডিয়া ও চীন উভয় দেশই বাংলাদেশের উন্নয়ন চায়, যা অন্য কেউ চাইতো না বা চাচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না, বাংলাদেশ নিয়ে ইনডিয়া ও চীন কোনও খেলায় মেতেছে। কারণ বাংলাদেশ চীন ও ইনডিয়ার বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে।’


এনডিটিভির ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকা সফরে গিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এ ঋণ চুক্তি সই করেন। এটা এ পর্যন্ত বাংলাদেশের পাওয়া সর্বোচ্চ বিদেশি ঋণ। এ ঋণের টাকা বাংলাদেশ জ্বালানি প্ল্যান্ট, সমুদ্র বন্দর এবং রেলওয়ে নির্মাণে ব্যয় করবে।

আরও বলা হয়, মূলত বাংলাদেশে অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে গত ৩০ বছরের মধ্যে কোনও চীনা প্রেসিডেন্ট প্রথম বাংলাদেশ সফর করলেন। যেখানে ইনডিয়াও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
এছাড়া জাপানও বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে বন্দর ও জ্বালানি কমপ্লেক্স নির্মাণে জাপান কম সুদে ঋণ দিচ্ছে। ফলে ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তার ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের কমপক্ষে ২৫টি প্রকল্পে চীন অর্থায়ন করতে চায়। যার মধ্যে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের আগ্রহ বেশি।

এমএ মান্নান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘কম সুদে রেকর্ড পরিমাণ (২৪ বিলিয়ন ডলার) ঋণ চুক্তি সই করায় শি জিনপিংয়ের সফর একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন অন্যতম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এজন্য আমাদের অনেক ঋণ দরকার।’

চীনের প্রেসিডেন্টের এ সফরে বিদ্যুৎ গৃৃড নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ চীনের জিয়াংসু ইস্টার্ন কম্পানির সঙ্গে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি সই করেছে।

চীনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সোনাদিয়ায় একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে চীনের আগ্রহ বেশি। যে প্রস্তাবনাটি গত একবছর ধরে আটকে আছে।


কমবুডিয়া সফর শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকায় পৌঁছান। গত ৩০ বছরের মধ্যে চীনের কোনও প্রেসিডেন্ট প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করলেন। এরপর সপ্তাহব্যাপী বৃকস সম্মেলনে অংশ নিতে শনিবার তিনি ইনডিয়ার গোয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের প্রেসিডেন্ট এমন এক সময় এশিয়া সফরে বের হয়েছেন, যখন ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে প্রতিবেশী শ্রীলংকা, নেপাল ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

বিনোদন-এর সর্বশেষ খবর