Total Bangla Logo
For bangla আজ বৃহস্পতিবার 12:37 am
27 July 2017    ১১ শ্রাবণ ১৪২৪    02 ذو القعدة 1438

জগন্নাথপুরে ভাইস চেয়ারম্যান পদে খেজুর গাছ জিতবে!

নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৭:৫৫ পিএম, ৫ মার্চ ২০১৭ রবিবার

সাবেক এমপি শাহীনূর পাশা চৌধুরীসহ আরও অনেকেই খেজুর গাছের পক্ষে কাজ করছেন। ছবি : ফেসবুক

সাবেক এমপি শাহীনূর পাশা চৌধুরীসহ আরও অনেকেই খেজুর গাছের পক্ষে কাজ করছেন। ছবি : ফেসবুক

রাত পোহালেই ভোট। সোমবার (৬ মার্চ ২০১৭) অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। উপজেলার সর্বত্রই বইছে নির্বাচনী আমেজ। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এই নির্বাচনে বিএনপি থেকে একক প্রার্থী থাকলেও চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী নিয়ে বিপাকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী তথা স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপি মনোনীত একমাত্র প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হবে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী খেজুর গাছ মার্কায় জিতবেন-এমনটিই বেশি সম্ভাবনা। এলাকার সাবেক এমপি মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরীও টোটালবাংলা২৪ ডটকমকে জানান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে খেজুর গাছের মাওলানা ছালিম কাসেমিই জিতবেন। আমরা মনে করি, এটি শুধু ঘোষণার বাকি। জনগণের সমর্থনের জোয়ার দেখেই এমনটি আশা করছি।

 

আরও পড়ুন-বৈদ্যুতিক গম্বুজের মসজিদ উদ্বোধন, সমাজ পাল্টাতে শুধু সমালোচনা নয়



বিএনপি থেকে একক প্রার্থী থাকায় নেতাকর্মীরা ফুরফুরে মেজাজে। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গতবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আকমল হোসেনকে। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীর তাঁর প্রতি সমর্থন নেই। তাঁর বিরুদ্ধে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। স্বজনপ্রীতির অভিযোগও অনেক। তাঁর বয়স এবং অসুস্থতার কারণেও অনুসারীরা অনেকটা নিরাশ। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকার পরও জগন্নাথপুর উপজেলায় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উল্লেখ করার মতো কোন উন্নয়ন না হওয়ায় ভোটের রাজনীতিতে এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরই আশঙ্কা। বিশেষ করে, বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুরের রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সরকারদলীয় প্রার্থীরা বিপাকে। সম্প্রতি এ আসনের সাবেক এমপি শাহীনূর পাশা চৌধুরীও ফেসবুক স্ট্যাটাসে এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের উন্নয়নের ব্যর্থতা তুলে ধরছেন। তাঁর দলের প্রার্থীকে খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করতে সবরকম চেষ্টাই করছেন।

আওয়ামী লীগের অারেক প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোক্তাদির আহমদ মুক্তা। তিনি দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। চমক দেখাতে পারেন মুক্তা-এমন আভাসও মিলছে জগন্নাথপুর থেকে। উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তাদির আহমদ মুক্তা ভাইস চেয়ারম্যান থাকার সময় জনগণের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। এজন্য তিনি জনগণের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মী তাঁর পক্ষে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। বয়সে তরুণ হওয়ায় নির্বাচনী দৌড়ে আকমল হোসেনের চেয়ে এগিয়ে আছেন মুক্তা।  পর্যবেক্ষকদের ধারণা, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তা-সিন্ধু সেচে মুক্তা কুড়িয়ে চমক দেখাতে পারেন।

 

আরও পড়ুন-ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ছাড়লেন বাংলাদেশি রুমানা, কেন, জানুন



বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে গতবারের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আতাউর রহমানকে। গত নির্বাচনে কারচুপি করে অল্প ভোটের ব্যবধানে তাঁকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। বিএনপি থেকে তিনি একক প্রার্থী হওয়ায় ফুরফুরে মেজাজে  নেতাকর্মীরা। তাদের ধারণা,  আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় এবার বিএনপি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি। চেয়ারম্যান পদে  বিএনপির আতাউর রহমান সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও ভাইস চেয়ারম্যান পদে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুর গাছ মার্কা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে ভালো অবস্থানে রয়েছেন তরুণ আলেম মাওলানা সৈয়দ ছালিম কাসেমী। জমিয়ত ২০ দলীয় জোটের শরিক হলেও স্থানীয় নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় অবস্থান জানান দিতে চায় জগন্নাথপুরের জমিয়ত নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। জমিয়তের সঙ্গে সমমনা ইসলামি দলগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ খেলাফত  মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট ছালিম কাসেমীর পক্ষে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম সৈয়দপুরের সাধারণ মানুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে খেজুরগাছেই ভোট দিবেন বলে জানা গেছে।

 

আরও পড়ুন-৫০ বছরে বিশ্বের বড় ধর্ম হবে ইসলাম, ৫০ সালে বেশি মুসলিম ইনডিয়ায়



এলাকাবাসী বলছেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এবার খেসারত দিতে হচ্ছে আকমল হোসেনকে। বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোক্তাদির আহমদ মুক্তার মধ্যেই মূল লড়াই হবে। উপজেলার চেয়ারম্যান পদে এই দুজনের একজন নির্বাচিত হবেন-এটি যেমন সাধারণ মানুষের ধারণা, ঠিক তেমনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে খেজুর গাছ মার্কায় মাওলানা ছালিম কাসেমি জয়ী হবেন-এতেও খুব একটা সন্দেহ নেই। অপেক্ষা শুধু জয়ের ঘোষণা শোনার।