আজ বৃহস্পতিবার 7:27 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

সাক্ষাৎকার : মাতৃবন্ধু এএইচএম নোমান

দারিদ্র্য দূর করতে উৎসে নজর দিয়ে মায়েদের মাধ্যমেই তা করতে হবে

হাসানুল কাদির

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:৩৮ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯ রবিবার

ডরপ প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান-এর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকম-এর প্রধান সম্পাদক হাসানুল কাদির।   ছবি : এএইচ ফয়সল

ডরপ প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান-এর সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকম-এর প্রধান সম্পাদক হাসানুল কাদির। ছবি : এএইচ ফয়সল

দারিদ্র্য দূর করতে হলে উৎসে নজর দিতে হবে। উৎসের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে এগুলো সমাধান করতে হবে। তা করতে হবে মায়েদের মাধ্যমেই। এজন্য মায়েদের সম্মান করতে হবে। গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাবলম্বী করতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে। তাদের কোনো অবস্থায়ই অবহেলা করা চলবে না। মায়েদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে গর্ভাশয় থেকেই। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। এটি আমাদের প্রিয়নবিজির পবিত্র বক্তব্য। মাকে বাদ দিয়ে, মাকে অবমূল্যায়ন করে কখনোই সমাজে দারিদ্র্য দূর হবে না। বৈষম্য প্রতিরোধ হবে না। ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন অফ দি রুরাল পুয়র-ডরপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি মাতৃবন্ধু এএইচএম নোমান এসব কথা বলেছেন। তিনি শনিবার (২০ জুলাই ২০১৯) দুপুরে মিরপুরে অবস্থিত ডরপ-এর অফিসে বসে টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরযটকম-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন।

 

জনাব নোমান বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আওতাধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ একটি অনন্য ও বাস্তবসম্মত কর্মসূচি। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে দরিদ্র মাদের জন্য ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ ভোগীর সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ লাখ ৭০ হাজার জনে উন্নীত করায় সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

 

জনাব নোমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে ফরাসি বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেনি ডেমন এসেছিলেন বাংলাদেশ সফরে। বঙ্গবন্ধু তাঁর কাছে বাংলাদেশের অর্থনীতির এগিয়ে নেওয়ার একটি পথনকশা কামনা করেছিলেন। রেনি ডেমন বাংলাদেশে এসে হোটেল পূর্বাণীতে অবস্থান করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক কাজ, অনেক বেকার’। মানে এদেশে কাজের কোনো অভাব বা সঙ্কট নেই। কাজের মানুষের প্রচ- খড়া দেখেছিলেন মিস্টার রেনি ডেমন। এটাই বাস্তব।


জনাব নোমান বলেন, আমাদের দেশে সম্পদ পুঞ্জিভূত করে রাখা হচ্ছে। ১০/১৫ পারসেন্ট মানুষ দেশের সকল সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দেশের বাকি সাধারণ মানুষকে শোষণ করছেন। এই শোষণের কালচার থেকে মুক্তি পেতে না পেলে দারিদ্র্যমোচন হবে না। এক্ষেত্রেও মায়েদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিক অধপতন সম্পর্কে জনাব নোমানের স্পষ্ট মন্তব্য, পশ্চিমা কালচারের কারণেই এসব হচ্ছে। পশ্চিমা প্রভাবে আমরা এখন জর্জরিত। আমাদের নিজস্ব সমাজ-সভ্যতা কিছুই এখন আর দেখছি না। বড়ই খারাপ লাগে এসব পরিবর্তন দেখে।

মাতৃবন্ধু এএইচএম নোমান মাতৃত্বকালীন ভাতা’র গুণগত মান ধরে রাখতে তথ্যভান্ডার সৃষ্টিসহ সংখ্যা না বাড়িয়ে মেয়াদকাল ৩ বছরের স্থলে শিশুর স্কুল ভর্তি পর্যন্ত ৫ বছর করা ও ভাতার পরিমাণ ৮শ টাকার স্থলে ন্যূনতম গার্মেন্টস শ্রম মজুরির সমমান ৮ হাজার টাকা প্রদানের দাবি করেন। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নকারি মহিলা বিষয়ক অধিপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। প্রকৃত ভাতাভোগী নির্বাচন ও সফল বাস্তবায়নে মনিটরিং কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় সরকার ইনিষ্টিটিউট এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমিসমূহে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

 

মাতৃবন্ধুৃ বলেন, দারিদ্র্যের উৎস বন্ধের দিকে নজর না দিলে দারিদ্র বিমোচন হবে না। দারিদ্র্য বিমোচন তথা- উন্নয়ন তলরেখা হলো মা। মা হলো এসডিজি’র একের ভেতর সতের। ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ সাম্যতা ও ন্যায্যতার শোষনহীন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রতিফলন। স্বপ্ন প্যাকেজ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজন শুধু ‘এক মা এক লাখ টাকা’ বাজেট বরাদ্দ। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দারিদ্র্য বিমোচনে মুজিবনগর-টুঙ্গীপাড়া-চাটখিল-কালিগঞ্জ-রামগতি-দৌলতখানসহ ১০ উপজেলায় পাইলট আকারে বাস্তবায়িত ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কার্যক্রম নূনতম ১শ উপজেলায় বাস্তবায়ন প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে ধীর গতিতে প্রক্রিয়াধিন আছে, যা দ্রুত বাস্তায়ন প্রয়োজন। এতে করে সম্পদ বৈষম্য সংকোচিত হবে। দারিদ্র্য বিমোচনে ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ মডেল শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বেও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

 

দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ কতটা কার্যকর?


এ প্রশ্নের জবাবে জনাব এএইচএম নোমান বলেন, গরিবি হটানোর দরজা-জানালা খুলে দেওয়ার স্বীকৃতি পেলেন নোবেল পুরস্কারজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার মূল, গোড়া ও চেতনায় পথিকৃৎ ছিলেন মরহুম মাহবুব আলম চাষীর ‘ঢেঁকি ঋণ’ তথা স্বনির্ভর ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে। ক্ষুদ্রঋণের পথ রচনায় প্রক্রিয়াগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এখন ক্ষুদ্র ঋণ বিশ্বপরিচিত দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার। একক অর্থে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দারিদ্র্যমোচন সম্ভব নয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য লাঘবে ক্ষুদ্র ঋণ অবশ্যই বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। ধনীদের লগ্নিবাজার না হয়ে বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার আপাত অস্ত্র। ক্ষুদ্র ঋণ অধিকার আদায়ের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদের সুষম বণ্টন ব্যবহার বাহন হলেই যথার্থ সার্থকতা আসবে, নতুবা নয়।

এএইচএম নোমান বলেন, লেখাপড়া করে শিক্ষা অর্জন করা আর মাটির সঙ্গে মানুষের সঙ্গে, মালিকানার সঙ্গে, নদী ভাঙার সঙ্গে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে, ধনী-গরিব, পরিবেশ পানি, নদী-নালা, খাল-বিল থেকে যে শিক্ষা, কোন বই পুস্তকে তা পাওয়া যায় না। আমি একে বলব জীবন শিক্ষা, আসল শিক্ষা বা বাস্তবশিক্ষা। আমার মায়ের শিক্ষা, বাবার শিক্ষা, দাদার শিক্ষা, প্রতিবেশির শিক্ষা, সাধারণ কৃষক-মজুরের কাছে থেকে পাওয়া শিক্ষাই বাস্তব শিক্ষা। যাকে আসল শিক্ষা বলা যায়। আমি কোথাও গিয়ে ডক্টরেট করি নাই, মানুষের মাঝে থেকে যে শিক্ষা গ্রহণ করেছি এটিই আমার আসল ডক্টরেট।


গুসি ইন্টারন্যাশনাল পিস পুরস্কারজয়ী নোমান বলেন, ‘পভার্টি এন্ড পিস ক্যান নট ওয়াক টুগেদার’। তাই এসডিজি’র এক নম্বর এজেন্ডা দারিদ্র্যমোচন নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। এসডিজি’র ১৭টি এজেন্ডাকে বটম লাইন মা-কেন্দ্রিক ‘একের ভেতর সতের’ অভিহিত করে দারিদ্র বিমোচনে কাজ করতে হবে। কারণ, ‘উই ক্যান নট কাউন্ট দ্যা স্টারস ইন দ্যা স্কাই, ইয়ারস টুগেদার’।

 

‘আমি বটম লাইন থেকে পরিকল্পনা করে উন্নয়নের পক্ষপাতী, এই বটম লাইন হলো মা’

 

বাংলাদেশে দরিদ্র মায়েদের জন্য ‘মাতৃত্বকালীন ভাতা’ এক নতুন ইতিহাসের নাম। এই ইতিহাস যিনি রচনা করেছেন তিনি এএইচএম নোমান। ২০০৫ সালের বিশ্ব মা দিবসে নোমান নিজের পরিচালিত বেসরকারি সংস্থা ‘ডরপ’-এর মাধ্যমে মাত্র ১০০ জন অতিদরিদ্র মাকে চিহ্নিত করে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেন। তারপর মায়ের ক্ষমতায়নে এগিয়ে চলা। তাঁরই আবেদনে সরকার ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশের দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্যক্রম চালু করে।

শুরুতে দেশের ৩ হাজার ইউনিয়নে ৪৫ হাজার মাকে এই ভাতাদান করা হলেও বর্তমানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকার সারা দেশে মাসে ৫০০ টাকা করে বছরে প্রায় ৮ লাখ মাকে এই ভাতা দিচ্ছেন। মায়ের গর্ভে শিশু আসা থেকে শুরু করে বুকের দুধ খাওয়া পর্যন্ত ২৪ মাস পরিকল্পিত পরিবার গঠনে শুধু মা এই ভাতা পাচ্ছেন। এতে বাল্যবিবাহ, তালাক ও যৌতুক রোধ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জন্ম নিবন্ধন ও বিবাহ নিবন্ধনে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেকে। সরকারের মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর এই ভাতাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

 


মায়েদের নিয়ে কাজের অনুপ্রেরণা কি নিজের মা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মা-ই তো সব কিছু। আমার সব কাজের অনুপ্রেরণা মা। আমি ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড় ছিলাম। মা স্বাভাবিকভাবে আমাকে একটু বেশিই ভালবাসতেন। মা-বাবার কত না সুন্দর ভালোবাসার উদাহরণ আছে। ১৯৭০-এর ১২ নভেম্বর কাল রাতে জলোচ্ছ্বাসে লাখ লাখ লোকের প্রাণহানি হয়। তখন আমি ‘ধ্বংস থেকে সৃষ্টি’র স্লোগান নিয়ে রামগতি তথা বৃহত্তর নোয়াখালীতে ত্রাণ, পুনর্বাসন, সমবায়, উন্নয়ন ও মানবাধিকার কাজে যুক্ত হই। সে সময় চর আব্দুল্লাহর অসহায় লোকেরা আমার আব্বাকে বলেন, আমাদের অনেক ছেলেমেয়ে হারিয়েছি, আপনি আপনার ছেলেকে আমাদের দিয়ে দিন, আমাদের সাথে কাজ করবে। আব্বা সেই কথা মাকে জানিয়ে বলেন, তোমার ছেলেকে তো সবাই চাইছে। মা খুব দূরদর্শী ছিলেন। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, থাকুক সবার ‘সাথেই’ থাকুক। সেই থেকে আজ অবধি আমি সবার সাথেই আছি। মা তো বুঝতে পেরেছিলেন আমি সবার সাথেই থাকতে পারব।

 

পরিবারে মায়ের প্রভাব কেমন ছিল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মা সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিলেন। দাদি-নানি উভয়ই তাকে পছন্দ করতেন। আমাদের মূল্যবোধগুলো বাবা-মার কাছ থেকে এসেছে। আমাদের ভাইবোনদের কারো বিয়েতে পণ বা যৌতুক দেয়া-নেয়া হয়নি। বাবা-মার একটা কঠিন চাওয়া এটি। আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে একটি আংটি দিয়েছিল আমি সেটিও ফিরিয়ে দিয়েছি। এতে আমার স্ত্রী হয়তো একটু কষ্ট পেয়েছেন। একটা আংটি পরলে কী হতো ? শুধু আমাদের পরিবারে না, আমাদের সংসারেও মার বিশাল অবদান আছে। আমার বড় ছেলে যখন জন্ম নেয় তখন আমার স্ত্রী ঢাকা মেডিকেলে ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার্থী। পড়াশুনার জন্য ৪১ দিনের ছেলেকে মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় চলে আসি। আমার ছেলে ৪ বছর পর্যন্ত আমার মায়ের কাছে ছিল। এখন যেটা উত্তরা তখন (১৯৬৫) ছিল কসাই বাড়ি মৌজা। সেখানে একটি জমি বিক্রি হবে আমি চিঠিতে মাকে জানালাম। মা ৫ হাজার টাকা পাঠালেন জমি কিনতে। বাবা বললেন, ওই এলাকায় এতদূরে কেউ থাকে নাকি। এখন সেখানেই ১২ নং সেক্টরে ৬ নং রোডে মা’র ইচ্ছায় তালুকদার বাড়ি নাম হলো। ভাইবোন আর আমাদের ছেলেমেয়ে সবাই মিলে এ বাড়ি একত্রে পারিবারিক বন্ধনে আনন্দ উচ্ছ্বাসের একটি প্রতীক।

 

আধুনিক মা সম্পর্কে তিনি বলেন, মা কিন্তু মাই। যে মা চাকরি করেন, যে মা ঘরে থাকেন আবার যে মা দরিদ্র মা। সন্তানের জন্য তার অপার ভালোবাসা আছে। তবে শ্রেণিবৈষম্য অনেক বেড়েছে। সুষম বণ্টনের অভাব সেই বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আপনাদের মনে আছে, ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের সময় সাড়ে ৭ কোটি কম্বল এসেছিল। কোথাও বণ্টনে অস্পষ্টতা ছিল হয়তোবা। সেই বণ্টনের জায়গাকে আঘাত দিতে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার ভাগের কম্বলটা কোথায়? তবে এটাও ঠিক কোথাও কোথাও মায়ের ভালোবাসার ব্যত্যয় বলব না, তবে একটু শিথিল হচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্কগুলোও তাই। সেজন্য সুষম বণ্টনের জন্য কঠিন আঘাত দিতে হবে।

 

মায়েদের জন্য আপনি কী স্বপ্ন দেখেন?


-মায়েদের নিয়ে কাজ করতে যে কী আনন্দ তা বলে বোঝানো যাবে না। মা যখন স্বপ্ন প্যাকেজের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত হয়, যে শাশুড়ি বউকে দেখতে পারত না, স্বামী স্ত্রীকে বকাঝকা করত, সেই বউ যখন গর্ভবতী হয়ে স্বপ্ন প্যাকেজের আওতায় আসে, তখন দৃশ্যপট বদলে যায়। তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আসে, স্বামী শাশুড়ির কাছে তার কদর বাড়ে। তখন তার চোখের আনন্দ আমাকে আবেগ আপ্লুত করে। স্বপ্ন তো একটাই, সব মায়ের অধিকার আদায় হবে। মায়ে মায়ে কোনো বৈষম্য থকবে না। স্বপ্নকে ভিত ধরে পুরো দেশের মা আসবে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে। নীতি-নির্ধারক কাছে যখন মায়েদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মতের অমিল হয় তখন কষ্ট পাই। আমি বটম লাইন থেকে পরিকল্পনা করে উন্নয়নের পক্ষপাতী। উপর থেকে না। এই বটম লাইন হলো মা, সকল উন্নয়নের মূলে মা। এসডিজি বলেন আর যা-ই বলেন, মাকে ক্ষমতায়িত করলে সব হবে। মাই একের ভেতর সব। মা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ম্যানেজার, অর্থনীতিবিদ, সুপারভাইজার, সমন্বয়ক, কারিগর, মনিটর, সেবিকা, শিক্ষক- মায়ের উপরে কিছুই নেই।

 

ধন্যবাদ, নোমান ভাই। টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকমকে সময় দেওয়ার জন্য। আল্লাহ আপনাকে সবসময় সম্পূর্ণ সুস্থ, সক্ষম, সক্রিয়, প্রাণবন্ত রাখুন। আপনার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হোক।

 

জনাব নোমানও টোটালবাংলাটুয়েন্টিফোরডটকম-এর পথচলায় সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেন। এর সাফল্য কামনা করেন।