Total Bangla Logo
For bangla আজ শুক্রবার 2:46 pm
28 July 2017    ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪    04 ذو القعدة 1438

ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি, চরমোনাই পীরের বিবেক জাগানিয়া বক্তব্য

সুফিয়ান মাক্কি, নিজস্ব সাংবাদিক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৩৫ এএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ শনিবার

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি ২০১৭) রাজধানীর গুলিস্তান কাজী বশির মিলনায়নে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারাদেশ থেকে কয়েক হাজার ছাত্র এবং কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিও অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন চরমোনাইর পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন কিছু বাস্তব তথ্য-মন্তব্য-হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, যেগুলো শুধু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরাই নন, দুনিয়ার দুই শ কোটি মুসলমানেরই হৃদয়কে নাড়া দেওয়ার মতো। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিটি মুসলমানের বিবেক জাগানিয়া এই বক্তব্য টোটালবাংলা২৪ ডটকম পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।


বিশ্ব রাজনীতির কথা আপনারা জানেন। গোটা পৃথিবীতে এখন মুসলমানরা মজলুম। ইতিহাসের চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতি চলছে। আমেরিকার বার্ষিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আগামী বিশ্ব হবে সংঘাতের বিশ্ব।”  মুসলিম শক্তিগুলো আজ পরস্পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল মুসলিম রাষ্ট্র ফিলিসতিনকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করছে। মধ্যপ্রাচ্যকে আমেরিকা-রাশিয়া পরস্পরের শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র বানিয়েছে। জাতিসংঘ এক্ষেত্রে অশুভ শক্তিগুলোর মন্ত্রণালয়ে পরিণত হয়েছে। এই জাতিসংঘ মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় কখনো আন্তরিকতা প্রদর্শন করে নি। এ অবস্থায় মুসলিম জাতিসংঘ গড়ে তোলা এখন সময়ের বড় দাবিতে পরিণত হয়েছে।


আমাদের বাংলাদেশও এখন ভালো নেই। প্রায় ১০ বছর ধরে জনগণের প্রকৃত ভোটাধিকার নেই। জোর করে সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে আছে। বাংলাদেশে বাক-স্বাধীনতার চূড়ান্ত অবদমন হয়েছে। ভিন্ন মতকে মেরে কেটে-জেলে পুড়ে দমন করা হচ্ছে। মিছিল-মিটিং-সমাবেশ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে করা যায় না। কথা বলা যায় না, লেখা যায় না। জনগণের প্রতি রাষ্ট্র দায়িত্ববোধহীন। জনতার কাছে প্রশাসনের কোন জবাবদিহিতা নেই। জনপ্রশাসন জনগণের সেবক হওয়ার পরিবর্তে কর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির সয়লাব চলছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দলীয় পেটুয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সরকার দলীয় এমপি পর্যন্ত নিহত হচ্ছে। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি দমনের নামে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করছে। দেশের এই পরিস্থিতি কোনভাবেই ভবিষ্যতের জন্য শুভ নয়। মানবতার সার্বিক কল্যাণ, সুশাসন ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইসলামি শাসনতন্ত্রই একমাত্র পন্থা।


মুসলিম প্রধান বাংলাদেশের বিচারালয়ে গৃক দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। আমরা এর কোনো অর্থ খুঁজে পাই না। গৃক দেবী থেমিসের কী প্রাসঙ্গিকতা আছে আমাদের দেশে? বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা কি থেমিসের আদর্শে পরিচালিত হবে? হাজার বছরের মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্যের দেশ, বাংলাদেশকে গৃক থেকে দেবী ধার করতে হবে কেন? এই মূর্তি অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। না হলে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আমজনতার মূল্যবোধ রক্ষায় আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।


বিজাতীয় অপসংস্কৃতির মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করা হচ্ছে। ইনডিয়ান টিভি চ্যানেলের আগ্রাসনে আমাদের সমাজ ও পরিবারের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন এখন হুমকির মুখে। এ সকল চ্যানেল বন্ধ করা সচেতন জনগণের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে মূর্তির সংস্কৃতিকে বাঙালি সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা বাঙালি মুসলমানরা সহ্য করবে না। এ সকল অপসাংস্কৃতিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।


শিক্ষা সিলেবাস থেকে যেসব গল্প কবিতা পড়ে বছরের পর বছর দেশের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে শিক্ষিত হয়েছে, সেই সব গল্প কবিতা সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা চক্রান্তকারীরা সরিয়ে দিয়েছিলো। জনতার আন্দোলনের মুখে সরকার যখন আবারও সেসব গল্প কবিতা পাঠ্যসূচিতে সংযোজন করেছে, তখন বাম-সেক্যুলার জনবিচ্ছিন্ন গুটি কয়েক মাথামোটা আমাদের ঐক্যবদ্ধ সমাজকে ভেঙে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরা বাঙালিদের মাঝে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়াচ্ছে। অসহনীয় মাত্রার বাড়াবাড়ি শুরু করেছে। আমরা সাবধান করে দিতে চাই। যারা এদেশের মানুষের মাঝে বিভেদ ও সাম্প্রদায়িকতা তৈরি করতে চায়, সিলেবাস বদলাতে চায় বাংলাদেশের সাধারণ জনতা তাদের সহ্য করবে না। তাদের ঠাঁই বাংলার জমিনে হবে না।

বিতর্কিত শিক্ষানীতি ২০১০ ও শিক্ষাআইন ২০১৬ বাতিল করে এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অধিকাংশ জনগণের মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে।

আমাদের পাশের দেশ মিয়ানমারের মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। মা-বাবার সামনে মেয়েকে, ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ করা হচ্ছে। এই ইস্যুতেও সরকার আমাদের লংমার্চে বাধা দিয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বিশ্ব রাজনীতির মোড়লরাও এই বর্বরতার বিরুদ্ধে কোন অবস্থান গ্রহণ করে নি। রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া না হলে এবং নির্যাতন বন্ধ না হলে আমরা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।


রাজধানীর গুলিস্তান কাজী বশির মিলনায়তনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সম্মেলন সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। ফজরের পর থেকেই দায়িত্বশীল এবং নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে গিয়ে জড়ো হতে থাকেন। ছাত্র আন্দোলন-এর সভাপতি নূরুল ইসলাম আল-আমীন সম্মেলনে সভাপতি ছিলেন। সেক্রেটারি জেনারেল শেখ ফজলুল করীম মারুফ পরিচালনা করেন। এতে বিশেষ মেহমান হিসেবে অংশ নেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য পৃন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ আল-ফরিদী, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব আলহাজ আমিনুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল কাদের, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আব্দুল লতিফ মাসুম, দারুল মা’আরিফ-এর সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা জসিম উদ্দিন নদভী, ঢাকা ইউনিভারসিটির সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হুসাইনুল বান্না, মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা আহমদ বদরুদ্দীন খান, ইসলামী যুব আন্দোলন-এর আহ্বায়ক কে.এম আতিকুর রহমান, ইশা ছাত্র আন্দোলন-এর সাবেক সভাপতি মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মুহাম্মাদ বরকত উল্লাহ লতিফ, মাওলানা আরিফুল ইসলাম এবং সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্রঐক্য-এর নেতৃবৃন্দ।


প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে চরমোনাইর পীর ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর চলমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। সেইসঙ্গে ২০১৭ সেশনের জন্য নতুন কমিটিও ঘোষণা করেন। নতুন কমিটিতে সভাপতি জি.এম রুহুল আমীন, সহ-সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ এবং সেক্রেটারি জেনারেল পদে শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম স্থান পেয়েছেন।

 

 

আরও পড়ুন :

 

# ইউনেসকোর ঘোষণার প্রতিবাদ, মঙ্গল শোভাযাত্রা সবার নয়