আজ শুক্রবার 9:29 am10 July 2020    ২৫ আষাঢ় ১৪২৭    19 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

চেংছড়িতে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৬:০৭ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ মঙ্গলবার

চেংছড়িতে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর

চেংছড়িতে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর

 


দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে সেই বাড়িটি ছিল অবহেলিত ও উপেক্ষিত। অবশেষে সেই কালের স্বাক্ষীটি এ বছরই সংরক্ষনের উদ্দ্যেগ নিয়েছে সরকার। খুব শ্রীঘই ইতিহাসের স্বাক্ষী সেই বাড়িটি রুপ নিচ্ছে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে। পাশাপাশি চেংছড়িতে গড়ে তোলা হবে আধুনিক পর্যটন স্পট। ইতিমধ্যেই গ্রহন করা হয়েছে নানা পরিকল্পনা। এছাড়া চলতি বছরের ১৫ আগস্ট ফেলোরাম চাকমার বাড়িটি সংরক্ষিত স্থান হিসেবে ঘোষণা ও ফলক উন্মোচন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকটে বীরেন শিকদার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহ থেকে জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ফেলোরাম চাকমার বাড়িটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসনের সময় রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থার মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোরাম চাকমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের প্রয়াত তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতা আছদ আলী বলির সাম্পানে করে মহেশখালীর সোনাদিয়া হয়ে ইনানী আসেন বঙ্গবন্ধু। ৫৮ বছর আগে ইনানীতে বঙ্গবন্ধুর অজ্ঞাতবাসের সময় যে মুসলিম নারী ভাত রান্না করে দিতেন সেই শতায়ু সখিনা খাতুনও মারা গেছেন তিন বছর আগে। বেচে নেই ফেলোরাম চাকমাও।

বঙ্গবন্ধুর ইনানী অরণ্যের অন্যতম সাক্ষী কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা এ. কে. এম মোজাম্মেল হক, উখিয়ার জালিয়া পালং ইনানী-নিদানিয়া এলাকার জমিদার সৈয়দুর রহমান সিকদার, চেংছড়ির আদিবাসী নেতা ফেলোরাম রোয়াজা চাকমা, তার তিন পুত্র ও দুই নাতিসহ অনেকেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন। তবে এখনো কালের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন ইনানী অরণ্যে বঙ্গবন্ধুর খাবার-দাবারসহ দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা সেদিনের তরুণ ছাত্রলীগ নেতা সোনার পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হাকিম মাষ্টার (৭৮) এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক রাজা পালং খয়রাতি গ্রামের শতায়ু আবদুল খালেক। বঙ্গবন্ধুর সেদিনের ঘনিষ্ট সহচর এবং এই দুই সেবকের স্মরণ শক্তি রয়েছে এখনো অটুট। তারা অনরগল বলে যান ৫৮ বছর আগের সেই অজানা অধ্যায়।

এ বিষয়ে লোকমান হাকিম মাস্টার জানান, জাতির জনকের পদচিহ্ন রয়েছে ওই চেংছড়িতে। ওই বাড়িটি সংরক্ষণ করা হলে সেটা ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে বিবেচিত হবে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান জানান, কক্সবাজারের আনাচে-কানাচে বঙ্গবন্ধুর আরো অনেক স্মৃতি রয়েছে। এসব সংরক্ষনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, ফেলোরাম চাকমার বাড়িটি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করার উদ্দ্যেগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফেলোরাম চাকমার বাড়িকে কেন্দ্র করে এখানে আধুনিক পর্যটন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।

দেশ-এর সর্বশেষ খবর