আজ বৃহস্পতিবার 9:42 pm21 September 2017    ৬ আশ্বিন ১৪২৪    29 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

চরমোনাই পীরের ক্ষোভ, মিয়ানমারে কীসব হচ্ছে? জাতিসংঘ কোথায়?

সুফিয়ান মাক্কি, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৩:৪০ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৬ বুধবার | আপডেট: ১০:৫৮ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ মঙ্গলবার

চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম

চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম

মিয়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যা ও অব্যাহত সরকারি সন্ত্রাসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। টোটালবাংলা২৪ ডটকম-এ পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন করেন, কীসব হচ্ছে মিয়ানমারে? কোথায় জাতিসংঘ? কী করছে ওআইসি? মানবাধিকারের ফেরিওয়ালাদের চোখ-কান বন্ধ কেন? বলেছেন, আরো অনেক কথা।

 

এর আগে গত শুক্রবার তাঁর দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মিয়ানমারের মুসলিম গণহত্যার বিরুদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারও আগে হেফাজতে ইসলামের আমির ও চট্টগ্রাম হাটহাজারি মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা শাহ আহমদ শফী মিয়ানমারমুখী লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোট, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনও একই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এ বিষয়ে তারা জনমত গঠনেও কাজ করছে। মিয়ানমারের মুসলিমবিদদ্বেষী জালিম সন্ত্রাসী সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বমুসলিমকে জেগে ওঠার ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টারও। বাংলাদেশ ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টার-এর ডিরেক্টর আহমদ অাবু বকর এক বিবৃতিতে বলেন, অং সান সূচির নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এজন্য নোবেল কমিটি বরাবর তারা বার্তাও পাঠিয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানান।

 

চরমোনাইর পীর বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারে মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞা চলছে। বহু মুসলিম আহত হচ্ছেন। অন্যায়ভাবে মুসলিমদের শত শত ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের বসতবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন জঘন্য আচরণ ও কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে মিয়ানমার সরকার মুসলমানদের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের এসব অন্যায় কাণ্ড চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও শামিল। মুসলমানরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলে তাদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি আখ্যায়িত করছে। কেন হচ্ছে এসব? কোথায় জাতিসংঘ? কোথায় মানবাধিকার সংস্থা? রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা কি তাদের বিবেককে তাড়িত করে না?

 

চরমোনাইর পীর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গুলিতে সম্প্রতি ৩০ রোহিঙ্গা মুসলমান শহীদ ও বহু লোক আহত হওয়ার নির্মম ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর প্রতিবাদে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সরকারি মদদে চালিত এ হত্যাকাণ্ড গণহত্যার শামিল। মিয়ানমার সরকার দুটি হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে নিরস্ত্র ও নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গুলি করে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। ‘রাষ্ট্রীয় খুনি’ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। মিয়ানমার সরকার দীর্ঘদিন থেকেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে আসছে।

 

তিনি বলেন, গত তিন যুগ আগে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করেছিল। তাদের এখনো মিয়ানমার সরকার সেদেশে ফিরিয়ে নেয়নি। সাম্প্রতিক মিয়ানমার আরমির হামলায় কমপক্ষে ৪ শ রোহিঙ্গা মুসলমান ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।

 

তিনি এ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ডাক দিয়েছেন, বিশ্ব মুসলিমকে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। চরমোনাইর পীর জাতিসংঘ, ওআইসি এবং সকল আন্তর্জাতিক মানবতাধিকার সংস্থা ও শান্তিকামী বিশ্ববাসীকেও এ বিষয়ে সোচ্চার হতে আহ্বান করেছেন।-প্রেস রিলিজ