Total Bangla Logo
For bangla আজ শুক্রবার 2:44 pm
28 July 2017    ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪    04 ذو القعدة 1438

চরমোনাইর পীর হাতের ইশারায় কোটি কোটি মানুষ নিয়ন্ত্রণ করেন

সুফিয়ান মাক্কি, নিজস্ব সাংবাদিক, ঢাকা

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০৬:৪৮ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা সিটির বিক্ষোভ মিছিল

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা সিটির বিক্ষোভ মিছিল

চরমোনাইর পীর সাহেবের হাতে কোন অস্ত্র নাই। এরপরও তিনি কোটি কোটি জনতাকে হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করেন কোন শক্তিতে? আপনাদের হাতে কোটি কোটি অস্ত্র থাকার পরও কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না? যে শক্তি অর্জন করলে হাতের ইশারায় মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয়, সেই আল্লাহপ্রদত্ত শক্তির কাছে মাথানত করলে দুনিয়ার কোন শক্তিকে পরওয়া করতে হয় না।


চরমোনাইর পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ ঢাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারমুখী লংমার্চে বাধা দিয়ে সরকার মজলুম মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই লংমার্চের মাধ্যমে পীর সাহেব চরমোনাই বিশ্বকে একটি ম্যাসেজ দিতে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমান মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধ করতে মিয়ানমার যেতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ, ওআইসি ও বাংলাদেশ সরকারকে মজলুম মুসলমানদের পক্ষে কথা বলতে ব্যর্থ হলে মুসলমানরা আপনাদের ক্ষমা করবে না।




আজ শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর ২০১৬) জুমার নামাজের পর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লংমার্চে সরকারি বাধার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা সিটি দক্ষিণ ও উত্তর বিক্ষোভ-পূর্ব সমাবেশের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ।

 


অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী-পুলিশ ও রাখাইন বৌদ্ধদের দ্বারা বর্বরোচিত রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি-ঘরে আগুন ও নির্যাতন বন্ধ করতে সরকারকে চাপ দিতে হবে। সরকার একটি মানবিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

 


অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সকল প্রকার নাগরিক ও মানবিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করতে হবে। মজলুম মানুষের পক্ষের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা মজলুমের বিরুদ্ধে অবস্থানের শামিল।



সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সেখানে শান্তিবাহিনী পাঠাতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী সকল রোহিঙ্গাকে তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে মানবিক সকল অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। নির্যাতিত মুসলমানদের বাংলাদেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও ধর্ষণের বিচার এবং মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যে মানবিক বিপর্যয় রোধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।


ঢাকা সিটি দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম সমাবেশের সভাপতি ছিলেন। আরও বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ঢাকা সিটি উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, উত্তর সহ-সভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণের সেক্রেটারি মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, শ্রমিকনেতা হারুনুর রশিদ, এইচএম ছিদ্দিকুর রহমান, মাওলানা এইচএম সাইফুল ইসলাম, মাওলানা মাসউদুর রহমান, ঈমান উদ্দিন, ছাত্রনেতা সাইফ মুহাম্মদ সালমান প্রমুখ।


সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে প্রেসক্লাব কদম ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে দেয়।-প্রেস রিলিজ



ঢাকা সিটি উত্তরের সভা



ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা সিটি উত্তরের প্রচার সম্পাদক মুফতি জহির ইবনে মুসলিম-এর পক্ষ থেকে পাঠানো আরেক প্রেস রিলিজে জানানো হয়, অধিকারবঞ্চিত নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের পক্ষে মানবতাবাদী কর্মসূচি লংমার্চে বাধা দিয়ে প্রমাণ করেছে, এই সরকার মানবতার পক্ষের নয়। এই সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছে। দেশের জনগণের আশা ছিল, লংমার্চে অংশ নেওয়া সারাদেশ থেকে আগত জনগণকে সরকার ও প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে। অথচ নানা টালবাহানা করে সরকার লংমার্চকেই বাধা দিয়েছে।

আজ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা সিটি উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি দলটির যুগ্ম-মহাসচিব।


সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাসউদ বলেন, সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইনের মাধ্যমে ৯২ শতাংশ মুসলিমের অন্তরে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। হিন্দুত্ব ও নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন এদেশের সাধারণ জনতা কখনো মেনে নেয়নি, মেনে নিবে না। দ্রুত জাতীয় শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইনের সংস্কার করতে হবে। না হলে দেশে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে।
 
সিটি সেক্রেটারি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সভা পরিচালনা করেন। এতে অংশ নেন সিটি সহ-সভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাঈম, দফতর সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সহ-দফতর সম্পাদক ইনজিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক আলহাজ নাজমুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলাউদ্দিনসহ নগর ও থানা শাখার নেতৃবৃন্দ।