আজ বুধবার 9:25 am08 July 2020    ২৩ আষাঢ় ১৪২৭    17 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

রামু সহিংসতার ৪ বছরপূর্তি আজ

ঘুরে দাঁড়িয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০১:১৩ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ শুক্রবার

ঘুরে দাঁড়িয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

ঘুরে দাঁড়িয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়

নতুন বিহার এবং ঘরবাড়ি নির্মাণসহ পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট তাঁরা। তবে মামলা-মোকদ্দমা এবং আইনি কার্যক্রম নিয়ে এখনো অসন্তোষ কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের। বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রুজুু হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে কিছুই জানেন না স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা। এসব মামলায় কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, কাকে বাদ দেওয়া হয়েছে- পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা অন্ধকারেই রয়েছেন।

কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রঞ্জিত পালিত জানান, ১৯টি মামলায় ৯৪৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে রামুর আটটি মামলায় ৪৫৮জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, রামু থানার জনৈক সুধাংশু বড়–য়ার করা মামলাটি দু’পক্ষের আপোষ মীমাংসার ভিত্তিতে খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বাকি ১৮টি মামলার মধ্যে ৩টি পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কাছে দেয়া হয়েছে। ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

রামু উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ঐক্য ও কল্যাণ পরিষদ ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ বড়ুয়া পূর্বকোণকে জানান, ২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধমন্দির ও পল্লীতে হামলার ঘটনায় ১৯টি মামলার বাদি পুলিশ। পুলিশ ইচ্ছেমত আসামি করেছে। আবার ইচ্ছেমতো বাদ দিয়েছে। এমনকি সেদিনের হামলায় যারা মিছিলের সামনের সারিতে ছিলো, যারা ভাঙচুরে-অগ্নিসংযোগের নেতৃত্ব দিয়েছে এদের অনেকেই পুলিশের চার্জশিটে নেই।
রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, রামু সহিংসতার চার বছর পূর্ণ হলো। এই চার বছরে অনেক কিছুর সাক্ষী হয়েছি, অনেক কিছু প্রত্যক্ষও করেছি। এই চার বছরে সম্প্রীতির উত্তরণ হয়নি তাও নয়, আমাদের সম্প্রীতির জায়গাটাকে আরো সমৃদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সমৃদ্ধ সম্প্রীতির আরো উত্তরণ ঘটাতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে ঘটনা পরবর্তী এক বছরের মধ্যে দৃষ্টিনন্দনভাবে নতুন বৌদ্ধ বিহার, ঘর-বাড়ি নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ায় এবং সে সাথে বৌদ্ধমন্দির ও পল্লীকে কড়া নিরাপত্তা দেয়ায় সরকার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়।
অন্যদিকে রামু সহিংসতার চার বছর উপলক্ষে উপজেলার প্রত্যেক মন্দিরের পাশাপাশি রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ যুব পরিষদ দিনব্যাপি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানান পরিষদের মহাসচিব ঝন্টু বড়–য়া। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, সংঘদান, বিকালে আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত প্রার্থনা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সংঘরাজ ও বাংলাদেশের বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ড. ধর্মসেন মহাথের, সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ ও রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ সত্যপ্রিয় মহাথের।
প্রসঙ্গত উত্তম বড়–য়া নামের এক বৌদ্ধ যুবকের ফেসবুকে পবিত্র কোরান শরীফ অবমাননার ছবি ট্যাগ করার অভিযোগ এনে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামুর বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধপল্লীতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় ১২টি বৌদ্ধ বিহার, ২৬টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, ছয়টি বৌদ্ধবিহার এবং শতাধিক বসতঘরে হামলা লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে উখিয়ায় আরো চারটি বৌদ্ধবিহারে হামলা চালানো হয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর রামু, উখিয়া ও টেকনাফে হামলার ঘটনায় ১৯টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে রামু থানায় ৮টি, উখিয়ায় ৭টি, টেকনাফে দুটি ও কক্সবাজার সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ১৫ হাজার ১৮২ জনকে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আছেন ৩৭৫ জন।

http://www.aljazeerabangla.com

ধর্ম-এর সর্বশেষ খবর