আজ রবিবার 5:31 pm09 August 2020    ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭    19 ذو الحجة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

গোপালগঞ্জে বেফাকের সমাবেশ, কওমি স্বীকৃতি কোটি প্রাণের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৪:২৬ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৬:২৫ পিএম, ২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

গোপালগঞ্জে বেফাকের সমাবেশ, কওমি স্বীকৃতি কোটি প্রাণের দাবি

গোপালগঞ্জে বেফাকের সমাবেশ, কওমি স্বীকৃতি কোটি প্রাণের দাবি

কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের সরকারি স্বীকৃতি দেশের লাখো অালেম এবং প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর দাবি। অচিরেই কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা বজায় রেখে আলেমদের সুপারিশ মোতাবেক সরকারকে এ স্বীকৃতির ঘোষণা দিতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর ২০১৬) গোপালগঞ্জের পৌরপার্কে কওমি মাদরাসাগুলোর একটি আঞ্চলিক বোর্ড বেফাকুল ‌মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা মহাসমাবেশ অায়োজন করে। এতে সভাপতি ছিলেন বোর্ডের সভাপতি মুফতি রুহুল আমীন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন মাদরাসার হাজার হাজার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-খতিব ও ছাত্ররা অংশ নেন।

রুহুল আমীন বলেন, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) এ দাবিতে রাজপথে অবস্থান ধর্মঘট করেছেন। লাখ লাখ ছাত্র-শিক্ষক এই স্বীকৃতির জন্য বহু সংগ্রাম করেছেন। ফলে গত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়। বর্তমান সরকারের আমলে আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্বে ১৭জন বিজ্ঞ আলেমকে নিয়ে কওমি কমিশন গঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কওমি মাদরাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া প্রণীত হয়। এর মাধ্যমে কওমি সনদের স্বীকৃতির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মুফতি রুহুল আমীন বলেন, এই সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই স্বীকৃতি চায়। এটা তাদের প্রাণের দাবি। এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া নয়। এটি একজন মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। আমরা শুধু সনদের স্বীকৃতি চাই। দারুল উলুম দেওবন্দের উসুলে হাশতেগানার আলোকে প্রণীত আইন মোতাবেক স্বীকৃতি দেওয়া হলে কওমি মাদরাসাগুলোর স্বকীয়তা, স্বাতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অক্ষুণ্ন থাকবে। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

সমাবেশে বক্তারা দেশের সর্বস্তরের কওমি ছাত্র-শিক্ষককে স্বীকৃতির পক্ষে অারো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, অবিলম্বে সংশোধিত কওমি শিক্ষা কর্তৃপক্ষ আইন পাস করতে সরকারের কাছে জোর দাবি তুলুন।

মুফতি মোরতাজা হাসান ও মুফতি মাকসুদুল্লাহ সমাবেশ পরিচালনা করেন। বক্তব্য দেন গওহরডাঙ্গা মাদরাসার শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুর রউফ, মহাসচিব মাওলানা শামছুল হক, মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা নুরুল হক, মুফতি শোয়াইব ইবরাহীম, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, মাওলানা আজিজুর রহমান, মুফতি রেজাউল করীম, মাওলানা আবুল কালাম, মুফতি মোহাম্মদ তাসনীম প্রমুখ।

বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা, বাংলাদেশ আয়োজিত এ সমাবেশের ঘোষণাপত্রে বলা হয়-
১.     ইসলাম মানবতার ধর্ম। শান্তি প্রতিষ্ঠা ইসলামের মহান ব্রত। বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাসমূহ সেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে, কওমি মাদরাসাগুলো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত নয়। আমরা এ মহাসমাবেশ থেকে শান্তির পয়গাম ঘোষণা করছি।
২.     ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইসলামবিরোধী চক্র বিশ্বব্যাপী যে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। এ চক্রকে সমূলে ধ্বংস করতে বিজ্ঞ আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়।
৩.     ১৫ এপৃল ২০১২ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমাদ শফীকে চেয়ারম্যান এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীনকে সদস্যসচিব করে দেশের বিজ্ঞ ১৭ আলেমের সমন্বয়ে যে কমিশন গঠন করা হয়, এর সুপারিশ এবং ৯ অক্টোবর ২০১৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিশন বৃদ্ধিকৃত মেয়াদে আল্লামা শাহ আহমাদ শফীর সভাপতিত্বে সংযোজিত এবং সময় উপযোগী করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে- তা আগামী পারলামেন্ট অধিবেশনে কার্যকর করতে হবে।

৪.     দারুল উলুম দেওবন্দের উসুলে হাস্তেগানা (মূলনীতি অষ্টকের) আলোকে কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং স্বকীয়তা বজায় রেখে স্বাধীনভাবে কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি ঘোষণা ও কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

৫.     শিক্ষানীতি ২০১০ এবং প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৬ সংশোধন এবং পাঠ্যপুস্তক রচনা এবং সম্পাদনা পরিষদে অভিজ্ঞ আলেমদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

৬.     কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা বজায় রেখে স্বাধীনভাবে স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশের যে প্রান্তে যারা কাজ করবে, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা সে সব কর্মসূচিতে সমর্থন এবং সহযোগিতা করবে।-প্রেস রিলিজ

শিক্ষাদীক্ষা-এর সর্বশেষ খবর