আজ বুধবার 12:51 am20 September 2017    ৪ আশ্বিন ১৪২৪    27 ذو الحجة 1438
For bangla
Beta Total Bangla Logo

কাদের কেন পছন্দ হাসিনার, তিনি কি পরিবর্তন আনতে পারবেন?

হাসানুল কাদির

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৩২ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০১৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:০০ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় নেতা-কর্মীরা ওবায়দুল কাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় নেতা-কর্মীরা ওবায়দুল কাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন, তা নিয়ে শুধু আওয়ামী লীগেই নয়, রাজনীতিসচেতন সব মানুষের মধ্যেই ব্যাপক কৌতূহল ছিল। সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বত্র এমনকি চায়ের স্টলেও এ বিষয়ে আলোচনার ঝড় বইতো। শেষ পর্যন্ত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পদে নির্বাচিত হলেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদেরকে কেন বেছে নিলেন শেখ হাসিনা? সৈয়দ আশরাফকে প্রধানমন্ত্রী বাদ দিয়েছেন, না কি আশরাফই স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন? এমন আরো অনেক প্রশ্নের জবাব আছে এই রিপোর্ট-এ।


তুলনামূলক বিচারে ‘ক্লিন ইমেজের’ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই এ পদে বহাল থাকছেন নাকি পরিশ্রমী রাজনীতিক ওবায়দুল কাদের, নাকি অন্য কেউ। এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নানামুখী বিশ্লেষণ হয়েছে। রাজনীতির টেবিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায়।


শেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত রবিবার (২৩ অক্টোবর ২০১৬) আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে এ পদে নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

উল্লেখ্য, গত রবিবার ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য। এর দু দিন আগে শুক্রবার রাত পৌনে দুইটার সময় আলজাজিরাবাংলা ডটকমের লিড নিউজ প্রকাশিত হয়, ‘আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কী চমক থাকছে? জেনে নিন।’ সেখানে অগ্রিম এই বার্তাই সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আগ্রহী পাঠকেরা চাইলে আমাদের সার্চ অপশনে গিয়ে এই শিরোনামটি লিখলেই ফের সেটি পড়তে পারবেন।


আওয়ামী লীগের একটি অংশ চেয়েছিল নেতৃত্বে পরিবর্তন। আরেকটি অংশের চাওয়া সৈয়দ আশরাফই যেন দলের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বহাল থাকেন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যে ওবায়দুল কাদেরকে চেয়েছেন, তা কাউন্সিলের ঠিক আগ মুহূর্তে মিডিয়ায় বেরিয়ে আসে।


আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, নানা হিসাব-নিকাশ করেই ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেছে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। কেন এ পদে তাঁকে বসানো হলো, তা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বিভিন্ন মহলে।


দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, আগামী ইলেকশন মাথায় রেখেই ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন শেখ হাসিনা। কাউন্সিলে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়।


এ কাউন্সিলে দলের ঘোষণাপত্র এবং শেখ হাসিনার দেওয়া প্রায় পুরো বক্তব্য ছিল আগামী ইলেকশনের প্রস্তুতি ও ইশতেহারের মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর বক্তব্যকে আগাম নির্বাচনী ইশতেহার বলেও মন্তব্য করেছেন।

তাদের মতে, আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিই আগামী ইলেকশন পরিচালনা করবে। সেক্ষেত্রে দল এমন একজনকে বেছে নিয়েছে, যিনি কঠোর পরিশ্রমী। সাংগঠনিকভাবে দক্ষ। কর্মীদের পাশে থাকার মানসিকতা আছে। এটি আগামী ইলেকশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


দলটির সিনিয়র এক নেতা জানান, সৈয়দ আশরাফের সময় দল শক্তিশালী হয়েছে। এটা সত্য। কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ অনেক কমে গেছে, এটাও বাস্তব। দুটি দিকই বিবেচনায় রাখতে হবে।


সৈয়দ আশরাফকে কেউ সহজে পান না বলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছিল। এ কারণে হয়তো ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি কমবেশি সবপর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।


তিনি আরো জানান, ইলেকশনের আরো দুই বছর বাকি। এই সময়ের মধ্যে সব জেলা সফর, প্রার্থী মনোনয়নসহ নানা কাজ রয়ে গেছে। ওবায়দুল কাদেরকে এ কাজগুলো করতে হবে।


গত উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা ইলেকশন পরিচালনায় প্রধান ছিলেন ওবায়দুল কাদের। এই ইলেকশনগুলোয় সারা দেশে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এই অভিজ্ঞতা আগামী পারলামেন্ট ইলেকশনে কাজে লাগিয়ে তিনি আবারো দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে পারবেন- এমন ধারণা তাঁর পক্ষে কাজ করেছে।


আরেক নেতা বলেন, ২০১৪ সালের ইলেকশনে দেশের দ্বিতীয় বড় দল বিএনপি অংশ নেয়নি। আগামী ইলেকশনে তা নাও হতে পারে। এ ইলেকশনে সবাই আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ইলেকশনে জয়ী হতে হলে আওয়ামী লীগকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এক্ষেত্রে এখন থেকেই তৃণমূল নেতাদের সক্রিয় করা জরুরি। সেই বিবেচনায়ও কাদেরকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

দলীয় সভাপতি ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানার পছন্দের প্রার্থী ছিলেন ওবায়দুল কাদের। সব বিবেচনায় দলের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে মনোনীত হলেন ওবায়দুল কাদের।

সরকারের ইমেজ বাড়াতে গিয়ে দিনরাত অবিরাম রাস্তাঘাটে ছুটে বেড়ান ওবায়দুল কাদের। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে নেয় জনগণ। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও রয়েছে তাঁর ওপর জেল-জুলুম ও হামলা-মামলাসহ নানা ত্যাগের ইতিহাস।


এবার সবচেয়ে জৌলুসপূর্ণ রাজসিক কাউন্সিল আয়োজন করতে পারায় ওবায়দুল কাদেরের ওপর সন্তুষ্ট শেখ হাসিনা। এসব বিবেচনায় তাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে বেছে নিয়েছেন তিনি।


ওয়ান ইলেভেনের সেনাসমর্থিত জরুরি সরকারের আমলে দলের চরম সঙ্কটময় মুহূর্তে বিশ্বস্ততা ও নেতৃত্বের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন সৈয়দ আশরাফ। এরপর টানা সাত বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার অভিযোগ থাকলেও তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততা নিয়ে কেউ কখনো প্রশ্ন তোলেনি।


গত শনিবার (২২ অক্টোবর ২০১৬) আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সৈয়দ আশরাফের আবেগঘন বক্তৃতা নেতাকর্মীদের মন ছুঁয়ে যায়। মাঠের পলিটিকসে সৈয়দ আশরাফের তেমন ভূমিকা না থাকলেও ওয়ান ইলেভেনের সময় জিল্লুর রহমানের পাশে সৈয়দ আশরাফের ভূমিকা ভয়ঙ্কর ও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে দলকে রক্ষা করে। ফলে ২০১২ সালের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আশরাফের পাশে ওবায়দুল কাদেরের নাম এলেও আশরাফই টানা দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।


এরপর পলিটিকসের নানা সঙ্কটময় মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফ। বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামীর অবস্থান ছত্রভঙ্গ করা, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পারলামেন্ট ইলেকশনের আগ মুহূর্তে জাতিসংঘসহ বিদেশি প্রভাবশালী দেশগুলোর হস্তক্ষেপ মোকাবেলা এবং সারাবিশ্বের সঙ্গে বিদেশিক সুসম্পর্ক জোরদার করণে তাঁর ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী।


দীর্ঘ সময় ধরে সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও সৈয়দ আশরাফের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। অভিযোগ উঠেনি কোনো ধরনের তদবির, চাঁদাবাজি বা প্রভাব বিস্তারের। কারো জন্য ক্ষতির কারণ না হওয়ায় দলের নেতাকর্মীসহ সুধী সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয় সৈয়দ আশরাফ।

এ জন্য গত বছরের ৯ জুলাই এলজিআরডি মন্ত্রীর পদ থেকে বাদ দেওয়ার পর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাঁকে নিজের হাতে থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বিবেচনায় দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের পছন্দের নেতা ছিলেন আশরাফ।


সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফর এবং বিপুল বিনিয়োগ প্রস্তাবে পাশের প্রভাবশালী একটি দেশ সৈয়দ আশরাফের ওপর চরম নাখোশ হয়। কারণ, এই বিষয়টি পুরো দেখভাল করেছেন সৈয়দ আশরাফ। ফলে বিকল্প নেতা হিসেবে ওবায়দুল কাদের ছিলেন তাদের পছন্দের প্রার্থী। কাউন্সিলে এ বিষয়টিও প্রভাব ফেলেছে।


সৈয়দ আশরাফ নিজেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদে থাকতে চাননি। এর আগেও তিনি একাধিকবার এ পদ থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহের কারণে তিনি সরে যেতে পারেননি। এবার পদ ছেড়ে অনেকটাই হাফ ছেড়ে বাঁচেন সৈয়দ আশরাফ। ফলে সহজেই ওবায়দুল কাদেরের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পথ সুগম হয়। এমনকি কাউন্সিলে নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নামটিও সৈয়দ আশরাফই স্বেচ্ছায় প্রস্তাব করেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। করেছেন অনেক প্রশংসাও।  


ওবায়দুল কাদের পরিবর্তন আনতে পারবেন?

কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা সভাপতি পদে বহাল থাকলেও নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

ক্ষমতাসীন দলের নতুন এই সাধারণ সম্পাদক কি সরকার বা দলে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন? তিনি আওয়ামী লীগ বা দেশের পলিটিকসে কতটুকু পজেটিভ ও কৃয়েটিভ ভূমিকা রাখতে পারবেন?


এমন প্রশ্নের জবাবে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সাধারণ সম্পাদক পলিটিকসে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন না। ‘মাঠ-ঘাটের নেতা’ বলে পরিচিত ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আগামী পারলামেন্ট ইলেকশনের কথা ভেবে। সৈয়দ আশরাফ নেতা-কর্মীদের থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। ওবায়দুল কাদের তাদের সংগঠিত করতে পারবেন।


ঢাকা ইউনিভারসিটির বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, ‘তারা এই কাউন্সিলের মাধ্যমে কী ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে, সেটা দেখতে পারলে ভালো হতো। আমার মনে হয়, পলিটিকসে খুব একটা পরিবর্তন হবে না। তারা যেভাবে কাজ করে এসেছে, সেভাবেই কাজ করবেন। দুই বছর পর পারলামেন্ট ইলেকশন। এই সময়টা তারা কীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখবে বা ফের নির্বাচিত হবে, সেই বিষয়েই কাজ করবে। বিদায়ী সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। সভাপতিকে বলে বলে তাঁকে সক্রিয় করতে হয়েছে। ওবায়দুল কাদের নিজে থেকেই সক্রিয়। তিনি কাজ-পাগল মানুষ। নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজও তিনি দৌড়ে দৌড়ে করেন। তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন- এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’


ঢাকা ইউনিভারসিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আরো বেশি সংগঠিত হতে চেষ্টা করবে। সামনের ইলেকশনে তারা একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে। নতুন সাধারণ সম্পাদকের সুদীর্ঘ পলিটিক্যাল অভিজ্ঞতা আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের জনমত বাড়াতে তিনি ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করবেন। তোফায়েল-আমুদের বাদ দেওয়ার কারণ, তারা গায়ের জোরে রাজনীতি করতে চান। ওবায়দুল কাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। আমরা আশা করি, তিনি আরো গণতান্ত্রিক ও গঠনতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’


কেউ কেউ বলছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের যোগাযোগ কমে গেছে। বলা যায়, এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এমন কথা অনেক দিন ধরেই দলীয় সভাপতির কাছে বলা হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদকই মূলত এই সম্পর্ক দেখভাল করেন। এ কারণে হয়তো ওবায়দুল কাদেরকে দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি কমবেশি সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ইলেকশনের আরো দুই বছর বাকি। এই সময়ের মধ্যে ৬৪ জেলা সফর ও প্রার্থী মনোনয়নসহ নানা কাজ তাঁর সামনে। ওবায়দুল কাদেরকে এ কাজগুলোই করতে হবে।

গত উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা ইলেকশন পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এই ইলেকশনগুলোয় আওয়ামী লীগ বিশাল জয় পেয়েছে। আগামী পারলামেন্ট ইলেকশনে ওয়ায়দুল কাদেরের সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে দল ফের ক্ষমতায় আসবে-এমনই মন্তব্য অনেক অভিজ্ঞ বিশ্লেষকের।

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি সম্পর্কে রাজশাহী ইউনিভারসিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পলিটিকসের যে প্র্যাকটিস আছে, তার বাইরে আওয়ামী লীগ যেতে পারবে না। দলপ্রধানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কেউ যায় না, যেতে পারে না। ওবায়দুল কাদের ভালো মানুষ। তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে। তিনি কী করতে পারবেন? আমরা আগেও দেখেছি, এখনো দেখছি। তাঁর মাধ্যমে খুব পরিবর্তন আসবে, এমন বিশ্বাস করার কারণ নেই। দলপ্রধান সিদ্ধান্ত নেন। সেটাই বাস্তবায়ন হয়। আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি সরকারপ্রধানও। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ হবে। এই কাউন্সিলে তারা গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনেছে। মানুষের কাছে ভালো-মন্দ উপস্থাপন করেছে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে তারা এক ধরনের নির্বাচনী প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।’


দেশের দ্বিতীয় বড় দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, আগামী দিনে পলিটিকসে কোনো পরিবর্তন আসবে কি-না সেটা আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণকরাই বলতে পারেন।


তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের একজন স্বচ্ছ রাজনীতিক। তিনি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখন আগামী দিনে তিনি কী ভূমিকা রাখতে পারবেন, সেটা নির্ভর করবে তাঁর ওপর। তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা, দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন।’


এই সামর্থ্য তাঁর আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটি তাঁর ওপরই নির্ভর করবে?’

 

হাসানুল কাদির : সম্পাদক, টোটালবাংলা২৪ ডটকম

hasanulkadir@gmail.com