আজ বৃহস্পতিবার 7:11 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

কবিতা

আমিন আশরাফ

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ১২:৪৬ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধবার | আপডেট: ০২:১০ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

আমিন আশরাফ

আমিন আশরাফ

অনুচ্ছেদের বিকল্প ব্যবচ্ছেদ

আমি তোকে অনুবাদ করে যাচ্ছি
আরে, তাকাচ্ছিস কেন রে…
বুকের সপ্তমার্গের অনুবাদ হচ্ছে
দেখছিস, কোনো অভিধানের সাহায্য নিচ্ছি না
আহারে, তোকে অনুবাদের আগেই অভিধান ঠোঁটস্থ
মাঝে মাঝে ট্রান্সলেশন রিভিউ
পাগলি!
আমার যে পছন্দ হয় না অসমাপ্ত শিল্পায়ন!

প্রান্তিক স্ট্রাগলের গলায় ঝুলতে ঝুলতে
তুই বেশ মজা পেতি
অনুরণের প্রাণনে দোলতে দোলতে
আমি তোর সত্য-মিথ্যার সঙ্গী
তুই ন্যানো সেকেন্ড অন্তর অন্তর
আবেদন পাকাস অসংখ্য কীটের বোতাম টিপে
পেলি কী অনুচ্ছেদের বিকল্প ব্যবচ্ছেদ।

আমি নিহত ভিকটিম
তোর অগ্রজ বিষপানে আমার অকাল মৃত্যু
বডিতে এখনও লেগে আছে আবেদনবাহিত রোগ
কল্লোলে বাঁশি বাজে স্থানে স্থানে
আচমকা পুরাতন আসে নবায়ন ফর্ম নিয়ে
প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য কল্পলোক
বুকের মইধ্যে জ্বলে ওঠে নিষিদ্ধসুখ মহরা
জানিস না কী তুই, জানিস না!
আমি তোর দ্বিতীয় স্বাদ-রসনা




কোনো কবিতা নয় কয়েকটা বিমূর্ত আঙিনা

জীবনসাম্পানটা এমন ছিলো না গো!
ছিলো প্রাণোচ্ছল তরতরে কাশফুলের মতো
মনের কোণে আলতো ছুঁয়ে দেয়া কোমলতার আধার।
ছিলো কদমহাসি
বৃষ্টির কান্না
তুমুল ঝড়ে ভয় পেয়ে
আঁকড়ে ধরা মায়ের শরীর
তারপর পরম মমতায় কোলে তুলে
নিরাপত্তার অস্তাচলে আচালিয়ত করা।

ছিলো জীবনের রঙ
জীবনের ছোঁয়া
এখানে ভালোবাসার প্রতিটা জানলা ছিলো উন্মুক্ত
এখানে প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকতো মমতারা
আমার গণ্ডিবদ্ধ জীবন ছিলো এক অনন্য জান্নাত
কিন্তু তুমি অযথাই ঢুকে পড়লে আমার নথিবদ্ধ
আয়নায়…

বললে, এতোটুকু এড়িয়ায় তুমি কিভাবে স্বাচ্ছন্দবোধ করো
অবশেষে তুমি সুঁই হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরিয়ে গেলে।
আমি তোমার এড়িয়ার পাওয়ার লোভে আমারটাও হারালাম
দখল করে নিলে আমার সরব আঙিনা
যেমন একাত্তরে নিয়েছিল পাকজানোয়াররা।
সেই কবে ফাল হয়ে বেরিয়েছিলে কিন্তু এর ক্ষত
আজো যন্ত্রণা দেয়
আমাকে কাঁদায়
দয়া করে তোমার অশুভদৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।
আমাকে আর কতো জ্বালাবেগো
আর কতো পোড়াবে
তোমার স্মৃতির লাশকে আজ আমি চিতায় মুখাগ্নি করবো…

 

 

জীবাণু

নিয়মের জানাযার ছবি
এখনো গেঁথে আছে হৃদয়মসজিদে
এ লাশ আমার অন্দরের প্রতিটি গলির

অনিয়মের বাতাস আমাকে ছুড়ে ফেলে
পাগল কুকুরের লালার সামনে
আমি গোসল করেছি প্রতিটি জীবাণুর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
আমার প্রাত্যহিকবাস জীবাণুর সঙ্গে

প্রতিটি বুঝমানই আমার
অবুঝ রস চেটেপুটে খেয়েছিল
অনাগত ভাবনা আমাকে কখনো
বেচাইন হতে দেয়নি

বিষমাখা কথাগুলো কখনো কখনো কনফিউজড
করে দিতো, আমি মাথা তুলতাম

তারপর অনেক ঝড় এসেছিলো
সাইক্লোন, ঢর্নেডো
আর পরমা সুন্দরী নারগিসও
আমি উতলা হয়েও হইনি
ভালো হওয়ার চেষ্টা করেও ভালো থাকিনি

তারপর তুমি এলে
মুরগির হাড্ডির মতো মচমচ করে ভাঙলে
আমার প্রতিটি অস্থিমজ্জা

তারপর
শরীরে যখন একটুও বিষ নেই
তখন তুমি সারমেয়ের মতো হাড্ডি
চাবাতে চাবাতে বিদায়ী ক্রুড়হাসি হাসলে,
এখন আমি নিয়ম করে তড়পাই।