Total Bangla Logo
For bangla আজ শুক্রবার 2:47 pm
28 July 2017    ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪    04 ذو القعدة 1438

কওমি মাদরাসা শিক্ষা : আবারও বিশ্বকে আলোকিত করবে

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী

টোটালবাংলা২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:০৩ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৭ রবিবার | আপডেট: ০১:০৪ এএম, ১৫ জুন ২০১৭ বৃহস্পতিবার

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী : চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোট

মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী : চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোট

পাশ্চাত্য দুনিয়া যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অমানিশার কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই মুসলিম মনীষীরা জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে সারা বিশ্বকে আলোকিত করে তুলেন। যা ছড়িয়ে পড়লো পুরো ইউরোপে, সমাদৃত হলো গোটা বিশ্বে। মুসলিম দার্শনিকেরাই ইসলামকে দার্শ্‌নিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার-বিশ্লেষণের প্রেরণা পেলো। মুসলিম চিন্তাবিদেরাই প্লেটো এরিস্টিটলের দর্শনকে ইউরোপসহ সারা বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আব্বাসীয় এবং উমাইয়া শাসকদের উদার মনোভাব ও অকৃত্রিম পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই বিশ্ববাসী আজ প্লেটো ও এরিস্টটলের নাম জানতে সক্ষম হয়েছে।

 

মুসলিম খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, আইনবিদসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম মনীষী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্ব্‌ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব্‌ উন্নতি সাধনে সক্ষম হয়েছিলেন। ইউরোপের নতুন জাগরণ এবং আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি সাধন তাঁদেরই সুচিন্তিত গবেষণা ও দূরদর্শিতার ফল। মহানবি (সা.)-এর যুগ থেকেই মুসলমানেরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অবদান রাখতে শুরু করে উমাইয়া ও আব্বাসীয় আমলে এর পরিপূর্ণতা লাভ করে। একাদশ শতককে বলা হয়, মুসলিম সভ্যতা ও কৃষ্টির এক সোনালি যুগ।

 

আরও পড়ুন : সিনহা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, তাকে পদ ছাড়তে হবে : চরমোনাইর পীর

 

যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বর্ত্‌মান বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, চিকিৎসা ও সভ্য সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতিতে কওমি মাদরাসায় শিক্ষিত মনীষীরা গুরুত্বপূর্ণ্‌ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। ফলে ইসলামি দর্শনের পুরনো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে। তাঁরা আবার বিশ্বকে জাগ্রত ও জীবন্ত করে তুলতে সক্ষম হবেন। নতুন তত্ত্বের আলোকে ভবিষ্যতের জন্যে বিশ্ববাসীকে উপহার দেবেন নতুনত্ব।মুসলিম মনীষীদের চিন্তাধারা আবার বিশ্বের চিন্তাধারায় গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করবে।

 

উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের অবসানের পর বেনিয়া বৃটিশ শাসনের যাঁতাকলে যখন রাজ্যহারা অধঃপতিত মুসলমান সম্প্রদায় পিষ্ট হচ্ছিল। বিপন্ন হয়ে পড়েছিল নৈতিকভাবে । মুসলিম জনগোষ্ঠী মন-মননে, নীতি-নৈতিকতায় ও চিন্তা-চেতনায় পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হচ্ছিল। তখন ইসলামের শাশ্বত নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের চেতনা সঞ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে ইনডিয়ার উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে ১৮৬৬ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ছিল সময়োপযোগী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। যা কওমি মাদরাসা নামে সমধিক পরিচিত। তখন কওমি মাদরাসা ছিল আত্মরক্ষামূলক। সেই পর্য়ন্ত দারুল উলুম দেওবন্দ মুসলিম জাতীয় আদর্শ, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি. তাহজিব-তামাদ্দুন, ইতিহাস-ঐতিহ্যের চেতনা নতুন করে সঞ্জীবিত করার কাজে উপমহাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সচেষ্ট রয়েছে। 

 

আরও পড়ুন :সুপৃম কোর্টের সামনে গৃক দেবী নয়, পবিত্র কুরআনের স্তম্ভ চাই

 

বিশ্বের তৌহিদি জনতার মনন আজ যে বিশেষ তাৎপর্য চেতনায় সমৃদ্ধ। নবী প্রেমে উচ্ছলিত আত্ম-প্রত্যয়সিদ্ধ চিত্তে তরঙ্গাভিঘাত ঘটছে এবং সেই সঙ্গে তৌহিদি জনতার চিত্তকে নতুন করে ন্যায়, সত্য ও সততা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করছে, তা কওমি মাদরাসার অবদান। কওমি মাদরাসা ইসলামের প্রচার ও প্রসারে যেভাবে আন্দোলনকে উপহার দিয়েছে, সে-কথা বিশ্বের মুসলিম জনগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। কওমি মাদরাসা বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক কথায় কওমি মাদরাসা ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি ইতিহাস, অনুপ্রেরণা এবং ন্যায়, সত্য ও সততা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়।

 

 

পরিশেষে বলা যায়, কওমি মাদরাসার মনীষীরা জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা ও উদ্ভাবনী কৃতিত্ব রাখতে পারবে বলে আশা করা যায়। তারা আবারো জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত্তিকে শক্তভাবেই স্থাপন করতে পারবেন যদি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকে। তারা আবারো জ্ঞান-বিজ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে সমগ্র বিশ্বকে আলোকিত করতে সক্ষম হবেন।