আজ শুক্রবার 9:40 am10 July 2020    ২৫ আষাঢ় ১৪২৭    19 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

এয়ারপোর্টে যে বিষয়গুলো মানতে হয়

সাদেকা হাসান

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০৩:৫৭ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বৃহস্পতিবার

শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের একটি দৃশ্য

শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের একটি দৃশ্য

আবার নিজের অজান্তে বাংলাদেশীদের সম্পর্কে বিদেশীদের কাছে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করেন। বিমানবন্দরে ও বিমানে চলাচলের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে তা হয়ত অনেকেই সঠিকভাবে জানেন না।

১. বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে কৌতুক করতে যাবেন না। ‘বোমা আছে’ বা ‘উড়িয়ে দেব’ এমন কৌতুক কখনোই নয়। এর পরিণামে বিমানযাত্রা বাতিল তো হবেই, এমনকি কারাভোগও করতে হতে পারে।

২. বিমানে চলাচলের ক্ষেত্রে লাগেজের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি শ্যাম্পু, সুগন্ধিসহ তরল পানীয় বা অন্য কোনো পদার্থ বহন করা যায় না। কোনো লাগেজ বেল্টে ওঠানোর পর এর মধ্যে তরল থাকলে তা ধরা পড়ে। তখন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই লাগেজ খুলে সব মালপত্র বের করে তরল পদার্থের বোতলটি পরীক্ষা করবেন। পরিমাণ বেশি হলে ফেলে দিতে পারেন।

৩. ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এবং প্লে-স্টেশন, এক্সবক্স বা নিনডোর মতো ক্যাসেট ব্যবহৃত যন্ত্র এক্সরে করার প্রয়োজন হয়। মোবাইল, স্মাটফোন, ট্যাব বা ইরিডারের মতো যন্ত্র এক্সরে করার প্রয়োজন নেই, শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা পার হওয়ার সময় পকেট থেকে বের করে দেখালেই হলো।

৪. কোনো মালপত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলায় গিয়ে লাভ নেই। আগেরবার বিমানযাত্রায় কেউ ‘না’ করেনি এবার কেন নিষিদ্ধ করা হলো এমন কোনো ঝামেলায় গিয়ে শুধু সময়ই নষ্ট হবে। কারণ আপনার বিমান ধরার তাড়া, আর নির্দিষ্ট কর্মীদের হাতেই ওই সময় সব ক্ষমতা। যতটা সম্ভব আপসে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলুন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশমতো কাজ করুন।

৫. বিমানবন্দরের কাজে ব্যবহৃত কুকুরের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। এই কুকুরগুলো বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এদেরকে আদর করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার আদর বোঝার চেয়ে উল্টো সন্দেহ করে বসতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কা আছে।

৬. নিরাপত্তাকর্মীদের সামনে দিয়ে পার হচ্ছেন। কর্মীরা ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে শরীর খুঁজে দেখছে। এমন সময় জ্যাকেট বা প্যান্টের পকেটে হাত দেওয়া ঠিক নয়। নিরাপত্তাকর্মীরা অস্ত্র বা অন্যকিছু আছে বলে ভেবে বসতে পারেন। এমন ক্ষেত্রে হাত দুটি ওপরের দিকে তুলে রাখা বাঞ্ছনীয়।

৭. বিমানবন্দরে প্রবেশ ও বিমানে ওঠার পর সানগ্লাস না পরাটাই ভালো। অনেক ক্ষেত্রে কোনো স্থান থেকে পালানো বা চেহারা লুকোনোর ক্ষেত্রে সানগ্লাস ব্যবহৃত হয়। সানগ্লাসে চেহারা ঢেকে রাখলে নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হতে পারে।

৮. নির্দিষ্ট লাইন ধরে সেখানে আগাতে হবে। মনে রাখবেন লাইনে দাঁড়ানো সবারই তাড়া আছে। এ লাইন ভেঙে ভিন্নপথে সামনে আগানোর চেষ্টা করে অনেকেরই বিরক্তির কারণ হতে পারেন।

৯. ফ্লাইট ছাড়ার আগে কিছু সময় পেয়েছেন। সময় কাটানোর জন্য গান বা গেম কোনটিই করবেন না। এসব ক্ষেত্রে ইয়ারফোন ব্যবহার করবেন না। কারণ এতে বিমানবন্দরে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যেতে পারে।

১০. বিমানবন্দরে রাগান্বিত হওয়ার মতো অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে তবে মেজাজ হারানো যাবে না। বিমান দেরি হওয়ার কারণ নিয়ে বিমানবন্দরের কর্মীদের সঙ্গে কখনো রাগারাগি করে কোনো লাভ নেই।

১১. বিমানবন্দরের কোনো নারী কর্মী হাসিমুখে কিছু বললেন এর মানে এই নয় যে আপনি তাঁর সঙ্গে খাতির জমাতে পারেন। হাসিমুখে কিছু বলা তাঁর কাজেরই অংশ এবং তিনি প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গেই হাসিমুখে কথা বলেন। তাই বাড়তি কথা বলতে গিয়ে বিরক্তির কারণ হতে পারেন।

১২. বিমান ছাড়তে এখনো ঘণ্টাখানেক বাকি। একটু ঘুমিয়ে নেওয়া যাক- বিমানবন্দরে ঢোকার পর এমন চিন্তা কখনোই করবেন না। একটু ঘুমাতে গিয়ে ফ্লাইট মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

১৩. অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মদের তেমন কোনো কড়াকড়ি নেই এবং সেখানে এটি সহজলভ্যও। তবে বিমানবন্দর ও বিমানের মধ্যে কোনোভাবেই মাতাল হওয়া যাবে না। এর ফলে নিজের যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ করার পাশাপাশি অন্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারেন।

১৪. নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে যাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ই বোডিং পাস ও পরিচয়পত্র হাতে নিতে হবে। এতে কাজ দ্রুত হবে।

১৫. আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে শুধু ১২ বছরের নিচে ও ৭৫-ঊর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তি জুতা ও হালকা জ্যাকেট পরে নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা পার হতে পারবেন। অন্য সবার ক্ষেত্রে জুতা, ঘড়ি, জ্যাকেট ও বেল্ট খুলতে হবে। তাই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এসব খোলার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। এতে আপনার কাজ দ্রুত শেষ হবে।

১৬. অধিকাংশ বিমানবন্দরে অনেকগুলো লাইন থাকে। কিছু লাইন থাকে নিয়মিত বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীদের জন্য। আবার বড় পরিবারের জন্যও বিশেষ লাইন থাকে। সঠিক লাইন খুঁজে বের করে দাঁড়ান।

১৭.নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে নিয়মকানুন বারবার পড়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। কোন টার্মিনালে যেতে হবে, কোন কোন জিনিস হাতে রাখতে হবে, কী কী কাগজপত্র দেখাতে হবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি নিন।

১৮. ফ্লাইটের জন্য নির্দিষ্ট গেটে যাওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে কান পেতে থাকতে হবে। এমন ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে নিজের গেট খুঁজে নিতে হবে। আধুনিক যুগে সিট নির্দিষ্ট করা থাকলেও বিমানে ওঠার জন্য এই দ্রুততার কারণ সিটের ওপরের কেবিনেটে খালি পাওয়া। কয়েক মিনিটের দেরিতেই দীর্ঘ লাইনের শেষে পড়তে হতে পারে। আর সিটে এসে দেখবেন ওপরের সব ক্যাবিনেট সহযাত্রীদের মালপত্রে বোঝাই।

১৯. বিমানবন্দরে হাসিঠাট্টার মাত্রা বজায় রাখুন। এখানে অধিকাংশ মানুষই ব্যস্ত। এমন ব্যস্ততার মধ্যে অনেকেই ঠাট্টাকে ভালোভাবে নেবেন না।

২০. নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন, যে কোনো কারণে বিমানের দেরি হতে পারে। বিমানের অপেক্ষায় থেকে খেতে বসেছেন ওই সময় ঘোষণা হলো বিমান ছাড়ার সময় হয়েছে। খুব তাড়াহুড়ো করতে যাবে না। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় গেটের কাছে এসে দীর্ঘ লাইন বা ফ্লাইট ছাড়তে আরো কিছুক্ষণ দেরি হবে।