আজ বৃহস্পতিবার 7:03 am09 July 2020    ২৪ আষাঢ় ১৪২৭    18 ذو القعدة 1441
For bangla
Total Bangla Logo

পারলামেন্টে বিল পাস

এনজিও’র নিবন্ধন বাতিল হবে, যদি...

আলজাজিরাবাংলা.কম

প্রকাশিত : ০১:২৭ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০১:৫৩ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৬ রবিবার

নেশনাল পারলামেন্ট

নেশনাল পারলামেন্ট

পারলামেন্ট কার্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর আগে জাতীয় পার্টির কয়েকজন এমপি সংশোধনী দিলে রওশন আরা মান্নানের একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বাকিদের সংশোধনী প্রস্তাব নাকচ হয়।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর পারলামেন্টে বিলটি উত্থাপন করেন মতিয়া চৌধুরী। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পারলামেন্টে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এর কয়েকদিন পরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারনেশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান পারলামেন্টকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তার এই মন্তব্যকে ঘিরে পারলামেন্টের অধিবেশনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এক পর্যায়ে সংসদীয় কমিটি থেকেও টিআইবিকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানো হয়। টিআইবি বিষয়টির জন্য ক্ষমা চাওয়া বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি বিলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ‘কটাক্ষমূলক মন্তব্য ও অপরাধ’’ সম্পর্কিত এই বিধান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা গত ১৮ মে অনুষ্ঠিত আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে বিলের এই ধারাটি বাতিলের সুপারিশ করে। সংসদীয় কমিটি তাদের সুপারিশ আমলে নেয়নি।

বিলে আলোচিত ওই ধারায় বলা আছে, কোনও এনজিও বা ব্যক্তি এই আইনের কোনও বিধান লঙ্ঘন করলে এবং সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক বা অশালীন মন্তব্য করলে বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করলে, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।


বিলে আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করতে পারবে না। বিদেশ থেকে পাওয়া অনুদান যেকোনও তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। কোনও প্রতিষ্ঠান নারী, শিশু, মাদক ও অস্ত্র পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব ক্ষেত্রে এনজিও ব্যুরো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জরিমানাসহ নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, একটি এনজিও ১০ বছরের জন্য নিবন্ধন পাবে। আইন অমান্য করলে যেকোনও সময় নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাবে।

এনজিও’তে বিদেশি উপদেষ্টা নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড় নিতে হবে। বিদেশি অনুদান একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে (মাদার অ্যাকাউন্ট) থাকতে হবে। ব্যয়ের হিসাব অডিট করার পর এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে  জমা দিতে হবে।

এনজিও-বিষয়ক ব্যুরো এসব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।

আইন না মানলে প্রথমে সতর্ক করা হবে। নিবন্ধন বাতিল ও জরিমানার বিধানও আইনে রাখা হয়েছে।


বিলে বলা হয়েছে, নেশনাল পারলামেন্ট বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, এমপি, স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, সুপৃম কোর্টের বিচারকসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, এই আইনের অধীনে নিবন্ধিত এনজিও বা সংস্থার কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈদেশিক অনুদান গ্রহণ করতে পারবে না।

www.aljazeerabangla.com/তাকরিম